বরিশালের গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত দুই মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন চিকিৎসক ও নার্সসহ ১৬১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। শুধু বেতন নয়, আর্থিক ক্ষমতার জটিলতায় হাসপাতালের ওষুধ ও পথ্য সরবরাহ এবং অ্যাম্বুলেন্সের জ্বালানিসহ জরুরি আর্থিক কার্যক্রমও সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৮ আগস্ট তৎকালীন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফখরুল ইসলাম মৃধা বদলি হওয়ার পর জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আবুল ফাতাহ মো. নাসেরকে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেলেও তাকে প্রয়োজনীয় আর্থিক বা ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং (ডিডি) ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। এর ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার বিলসহ কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা বিল উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে ৬ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. তরুণ কুমার পালকে গৌরনদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন ইউএইচএফপিও হিসেবে বদলি করা হলেও তিনি এখনো কর্মস্থলে যোগদান করেননি। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনিক ও আর্থিক এই অচলাবস্থা চলে আসছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২৫ জন চিকিৎসক ও ৩৮ জন নার্সসহ মোট ১৬১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দুই মাস ধরে কোনো বেতন-ভাতা পাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী জানান, শারদীয় দুর্গোৎসবের আগে বেতন ও উৎসব ভাতার আশা করেছিলেন তারা। কিন্তু বেতন না পাওয়ায় চরম অর্থকষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে। এমনকি অর্থের অভাবে অনেক হিন্দু ধর্মাবলম্বী কর্মচারী উৎসবের আনন্দ থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তৌকির আহমেদ বলেন, 'ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার আর্থিক ক্ষমতা না থাকায় দুই মাস ধরে বেতন দেওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি হাসপাতালের দৈনন্দিন কেনাকাটা ও আর্থিক কার্যক্রমও আটকে আছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হয়েছে এবং দ্রুত নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।'
বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. সাইয়েদুর রহমান জানান, নতুন ইউএইচএফপিও পদায়নের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, খুব দ্রুত এই জটিলতার অবসান ঘটবে এবং হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও বকেয়া বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
বরিশালের গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত দুই মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন চিকিৎসক ও নার্সসহ ১৬১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। শুধু বেতন নয়, আর্থিক ক্ষমতার জটিলতায় হাসপাতালের ওষুধ ও পথ্য সরবরাহ এবং অ্যাম্বুলেন্সের জ্বালানিসহ জরুরি আর্থিক কার্যক্রমও সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৮ আগস্ট তৎকালীন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফখরুল ইসলাম মৃধা বদলি হওয়ার পর জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আবুল ফাতাহ মো. নাসেরকে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেলেও তাকে প্রয়োজনীয় আর্থিক বা ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং (ডিডি) ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। এর ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার বিলসহ কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা বিল উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে ৬ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. তরুণ কুমার পালকে গৌরনদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন ইউএইচএফপিও হিসেবে বদলি করা হলেও তিনি এখনো কর্মস্থলে যোগদান করেননি। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনিক ও আর্থিক এই অচলাবস্থা চলে আসছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২৫ জন চিকিৎসক ও ৩৮ জন নার্সসহ মোট ১৬১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দুই মাস ধরে কোনো বেতন-ভাতা পাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী জানান, শারদীয় দুর্গোৎসবের আগে বেতন ও উৎসব ভাতার আশা করেছিলেন তারা। কিন্তু বেতন না পাওয়ায় চরম অর্থকষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে। এমনকি অর্থের অভাবে অনেক হিন্দু ধর্মাবলম্বী কর্মচারী উৎসবের আনন্দ থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তৌকির আহমেদ বলেন, 'ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার আর্থিক ক্ষমতা না থাকায় দুই মাস ধরে বেতন দেওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি হাসপাতালের দৈনন্দিন কেনাকাটা ও আর্থিক কার্যক্রমও আটকে আছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হয়েছে এবং দ্রুত নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।'
বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. সাইয়েদুর রহমান জানান, নতুন ইউএইচএফপিও পদায়নের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, খুব দ্রুত এই জটিলতার অবসান ঘটবে এবং হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও বকেয়া বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন