সংবাদ

‘জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করা হবে’


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম

‘জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করা হবে’

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, স্থানীয় পর্যায়ে জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতারা নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই করবেন। যার জনসমর্থন ও নির্বাচনে জয়লাভের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি রয়েছে, তাকেই দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে মূল তফসিল ঘোষণার পর দলীয় মনোনয়ন কার্যক্রম আরও বেশি জোরদার করা হবে এবং ভোট গ্রহণ ও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই দলীয় কার্যক্রমও সেই অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া হবে।

​বর্তমান দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির নেপথ্যে দেশ ও দেশের বাইরের গভীর ইন্ধন রয়েছে। দেশের পরাজিত শক্তি প্রতিবেশী দেশ থেকে নানা ধরনের উসকানি দিচ্ছে এবং দেশের ভেতরেও কিছু রাজনৈতিক শক্তি নতুন সরকারকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এসব জটিল পরিস্থিতি সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করে দেশে গণতন্ত্রের মজবুত ভিত্তি গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, একটি চক্র শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে রাজপথে নামানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং এসব ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সরাসরি সম্পৃক্ততার জোরালো প্রমাণও পাওয়া গেছে।

পুলিশ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কথা নিজ মুখেই স্বীকার করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

​জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে’ এমন মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র আট মাসের মাথায় এসে কেন আবার নতুন করে বিপ্লবের কথা বলা হচ্ছে, বিষয়টি কিছুতেই বোধগম্য নয়। যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জাতীয় সংসদে বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব, তা না করে লংমার্চের মতো কর্মসূচি দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষকে বিনা কারণে উসকানি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বর্তমান সরকার দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ব্যবসার প্রসার এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে আন্তরিকভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশ সফর করে পারস্পরিক স্বার্থে নানা চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করছেন।

এ ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে ব্যাপক বৈদেশিক বিনিয়োগ আনার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সময়ে বিপ্লবের জুজু দেখিয়ে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা না করে সংশ্লিষ্ট সবারই যথেষ্ট দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।

​জামায়াতের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বিএনপি গত সতেরো বছর ধরে প্রকাশ্য রাজপথে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য রক্তক্ষয়ী আন্দোলন করেছে এবং এই সংগ্রামে দলটির অসংখ্য নেতাকর্মী রক্ত দিয়েছেন ও জীবন উৎসর্গ করেছেন। অথচ অন্যদিকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা অতীতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ছায়ায় থেকে সম্পূর্ণ গোপনে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন, যে কারণে তাদেরকে একধরনের গুপ্ত সংগঠন বলেও অভিহিত করেন তিনি।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক পর থেকেই একের পর এক নানা সংকটের মুখোমুখি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে একটি নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায় দেশের কলকারখানা ও সাধারণ বাসাবাড়িতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির জোরালো উদ্যোগ নিয়েছেন।

যার ফলে দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক করার কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

​বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, দেশে সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা সৃষ্টির নানামুখী ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে, কিন্তু টানা সতেরো বছর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করা বিএনপি সবসময় সহনশীলতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। সমাজের যেকোনো স্তরে চাঁদাবাজি, মাস্তানি, জবরদস্তি করে জমি দখল কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার অত্যন্ত কঠোর ও জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।

১৯৯৪, ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে তৎকালীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে জামায়াত ও অন্যান্য সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা কেমন ছিল তা দেশের মানুষ খুব ভালো করেই জানে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে কীভাবে দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের একের পর এক ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েছিল, সেটিও কারও অজানা নয়।

তাই বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি কৃত্রিমভাবে ঘোলাটে করে বিএনপিকে কোনোভাবেই বেকায়দায় ফেলা যাবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

​রিজভী আরও বলেন, এ দেশের আপামর জনসাধারণ খাঁটি গণতন্ত্রকামী এবং তারা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই তাদের পছন্দের সরকার দেখতে চায়।

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে বিএনপি ও তার সমমনা জোট নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, চোরাইপথে কিংবা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখল করার যেকোনো অপচেষ্টা এ দেশের সাধারণ মানুষ কখনোই মেনে নেবে না।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও আব্দুল মালিক চৌধুরীসহ স্থানীয় দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


‘জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করা হবে’

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, স্থানীয় পর্যায়ে জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতারা নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই করবেন। যার জনসমর্থন ও নির্বাচনে জয়লাভের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি রয়েছে, তাকেই দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে মূল তফসিল ঘোষণার পর দলীয় মনোনয়ন কার্যক্রম আরও বেশি জোরদার করা হবে এবং ভোট গ্রহণ ও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই দলীয় কার্যক্রমও সেই অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া হবে।

​বর্তমান দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির নেপথ্যে দেশ ও দেশের বাইরের গভীর ইন্ধন রয়েছে। দেশের পরাজিত শক্তি প্রতিবেশী দেশ থেকে নানা ধরনের উসকানি দিচ্ছে এবং দেশের ভেতরেও কিছু রাজনৈতিক শক্তি নতুন সরকারকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এসব জটিল পরিস্থিতি সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করে দেশে গণতন্ত্রের মজবুত ভিত্তি গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, একটি চক্র শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে রাজপথে নামানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং এসব ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সরাসরি সম্পৃক্ততার জোরালো প্রমাণও পাওয়া গেছে।

পুলিশ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কথা নিজ মুখেই স্বীকার করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

​জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে’ এমন মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র আট মাসের মাথায় এসে কেন আবার নতুন করে বিপ্লবের কথা বলা হচ্ছে, বিষয়টি কিছুতেই বোধগম্য নয়। যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জাতীয় সংসদে বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব, তা না করে লংমার্চের মতো কর্মসূচি দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষকে বিনা কারণে উসকানি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বর্তমান সরকার দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ব্যবসার প্রসার এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে আন্তরিকভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশ সফর করে পারস্পরিক স্বার্থে নানা চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করছেন।

এ ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে ব্যাপক বৈদেশিক বিনিয়োগ আনার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সময়ে বিপ্লবের জুজু দেখিয়ে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা না করে সংশ্লিষ্ট সবারই যথেষ্ট দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।

​জামায়াতের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বিএনপি গত সতেরো বছর ধরে প্রকাশ্য রাজপথে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য রক্তক্ষয়ী আন্দোলন করেছে এবং এই সংগ্রামে দলটির অসংখ্য নেতাকর্মী রক্ত দিয়েছেন ও জীবন উৎসর্গ করেছেন। অথচ অন্যদিকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা অতীতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ছায়ায় থেকে সম্পূর্ণ গোপনে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন, যে কারণে তাদেরকে একধরনের গুপ্ত সংগঠন বলেও অভিহিত করেন তিনি।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক পর থেকেই একের পর এক নানা সংকটের মুখোমুখি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে একটি নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায় দেশের কলকারখানা ও সাধারণ বাসাবাড়িতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির জোরালো উদ্যোগ নিয়েছেন।

যার ফলে দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক করার কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

​বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, দেশে সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা সৃষ্টির নানামুখী ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে, কিন্তু টানা সতেরো বছর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করা বিএনপি সবসময় সহনশীলতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। সমাজের যেকোনো স্তরে চাঁদাবাজি, মাস্তানি, জবরদস্তি করে জমি দখল কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার অত্যন্ত কঠোর ও জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।

১৯৯৪, ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে তৎকালীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে জামায়াত ও অন্যান্য সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা কেমন ছিল তা দেশের মানুষ খুব ভালো করেই জানে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে কীভাবে দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের একের পর এক ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েছিল, সেটিও কারও অজানা নয়।

তাই বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি কৃত্রিমভাবে ঘোলাটে করে বিএনপিকে কোনোভাবেই বেকায়দায় ফেলা যাবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

​রিজভী আরও বলেন, এ দেশের আপামর জনসাধারণ খাঁটি গণতন্ত্রকামী এবং তারা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই তাদের পছন্দের সরকার দেখতে চায়।

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে বিএনপি ও তার সমমনা জোট নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, চোরাইপথে কিংবা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখল করার যেকোনো অপচেষ্টা এ দেশের সাধারণ মানুষ কখনোই মেনে নেবে না।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও আব্দুল মালিক চৌধুরীসহ স্থানীয় দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত