জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা ও দুর্বলতা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন অনেক মানুষ। কারও ক্ষেত্রে জ্বরের পাশাপাশি শরীরে শুষ্কতা ও তীব্র ব্যথার মতো উপসর্গও দেখা দিচ্ছে। কিন্তু ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়ার পরীক্ষা করেও অনেকের ক্ষেত্রে রোগ শনাক্ত হচ্ছে না। এতে নতুন কোনো ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে নতুন কোনো ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পরিচিত বিভিন্ন ভাইরাসের সংক্রমণেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ইনফ্লুয়েঞ্জা, রেসপিরেটরি সিনসিশিয়াল ভাইরাস (আরএসভি) ও অ্যাডিনোভাইরাসের সংক্রমণেও জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীরব্যথা হতে পারে।
সম্প্রতি এমন জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন বাংলাদেশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম। তাঁর কর্মস্থলের কয়েকজন সহকর্মী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ায় নিজের জ্বর নিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন তিনি। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন ও বিশ্রাম নিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হন।
দেশে সাম্প্রতিক জ্বরের পেছনে নতুন কোনো ভাইরাসের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।
প্রতিষ্ঠানটির ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. আহমেদ নওশের আলম জানান, বর্তমানে দেশে ডেঙ্গু ও হামসহ পরিচিত কয়েকটি রোগের সংক্রমণ রয়েছে। পাশাপাশি ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসও জ্বরের কারণ হতে পারে।
তাঁর ভাষ্য, নতুন কোনো ভাইরাস শনাক্ত হয়নি। ইনফ্লুয়েঞ্জা পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে নিয়মিত ব্যবস্থা রয়েছে এবং সেখানে আসা নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তবে দেশের সব জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না।
ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়ার পরীক্ষায় নেগেটিভ ফল এলেই যে অন্য কোনো ভাইরাসের সংক্রমণ নেই, তা বলা যায় না। ইনফ্লুয়েঞ্জা, আরএসভি ও অ্যাডিনোভাইরাসের মতো পরিচিত ভাইরাসেও একই ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অধ্যাপক নওশের আলম বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়ার পরীক্ষায় নেগেটিভ ফল পাওয়ার পর চিকিৎসকেরা উপসর্গ বিবেচনায় চিকিৎসা দেন। রোগী সুস্থ হয়ে উঠলেও জ্বরের প্রকৃত কারণ আর পরীক্ষা করে শনাক্ত করা হয় না।
তিনি জানান, বর্তমানে শিশুদের মধ্যে আরএসভি ও অ্যাডিনোভাইরাসের সংক্রমণও দেখা যেতে পারে। সাধারণত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইনফ্লুয়েঞ্জার সংক্রমণ বেশি থাকে। এরপর সংক্রমণ কমলেও বছরের অন্য সময়েও কিছু রোগী পাওয়া যায়।
ডেঙ্গুর মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে গেলেও অনেক রোগীর পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে না। আবার কারও রক্ত পরীক্ষায় রক্তকণিকার সংখ্যায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, কারও ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অস্বাভাবিকতা পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু রোগীর সুস্থ হতেও তুলনামূলক বেশি সময় লাগছে।
এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. নেলসন তাপস মণ্ডল বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গু শনাক্তের পরীক্ষা বেশি করা হচ্ছে। তবে কোভিড-১৯ কিংবা অন্যান্য ভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা তুলনামূলক কম হচ্ছে।
তাঁর মতে, এসব জ্বর নতুন কোনো ভাইরাসের কারণে হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য নেই। এ জন্য আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। কিন্তু সব রোগীর পক্ষে এ ধরনের পরীক্ষার খরচ বহন করা সম্ভব হয় না। পাশাপাশি সব হাসপাতালে সব ধরনের ভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষার ব্যবস্থাও নেই।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, জ্বরের কারণ হিসেবে নতুন কোনো ভাইরাসের আশঙ্কা করার আগে পরিচিত রোগগুলোর সম্ভাবনা বিবেচনা করা উচিত।
বছরের এ সময়ে ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো সাধারণ ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে। এ ছাড়া টাইফয়েড ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন কারণেও জ্বর দেখা দেয়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে একাধিক ধরনের সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে।
চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও কোভিড-১৯-এর অনেক উপসর্গ পরস্পরের সঙ্গে মিলে যায়। তাই শুধু জ্বর, মাথাব্যথা বা শরীরব্যথার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট রোগ শনাক্ত করা কঠিন।
এ ছাড়া ডেঙ্গু পরীক্ষার ফল নেগেটিভ হলেই সংক্রমণ পুরোপুরি নাকচ করা যায় না। কোন ধরনের পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং জ্বর শুরুর কত দিন পর নমুনা দেওয়া হচ্ছে, তার ওপরও ফলাফল নির্ভর করতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা। তবে প্রকৃতপক্ষে রোগীর সংখ্যা কতটা বেড়েছে বা কমেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই।
অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর মতে, ঋতু পরিবর্তন, আবহাওয়ার ওঠানামা এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন সংক্রমণের কারণে এ সময়ে জ্বরের প্রকোপ বাড়তে পারে। প্রায় প্রতিবছর অক্টোবরের দিকে এমন প্রবণতা দেখা যায়।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ইনফ্লুয়েঞ্জার উপসর্গে মিল থাকায় শুধু শারীরিক লক্ষণ দেখে রোগ নির্ণয় করা কঠিন। তাই জ্বর হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
জ্বর দেখা দিলে ডেঙ্গুর সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। কারণ, ডেঙ্গুতে সব সময় প্রচলিত লক্ষণ দেখা যায় না। কিছু বিপজ্জনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
বিশেষ করে
নিচের লক্ষণগুলো
দেখা দিলে
সতর্ক হতে
হবে:
· তীব্র পেটব্যথা
· বারবার বমি
· শরীরের কোথাও রক্তক্ষরণ
· রক্তচাপ কমে যাওয়া
· প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া
· হঠাৎ নিস্তেজ হয়ে পড়া
শিশু, বয়স্ক ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। ডেঙ্গুতে জ্বর কমে যাওয়ার পরও জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই জ্বর নেমে গেলেই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছেন, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
জ্বরে আক্রান্ত হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে এবং পানি ও অন্যান্য তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল সেবন করা যেতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অন্য কোনো ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে ডেঙ্গুর আশঙ্কা থাকলে এ বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা ও দুর্বলতা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন অনেক মানুষ। কারও ক্ষেত্রে জ্বরের পাশাপাশি শরীরে শুষ্কতা ও তীব্র ব্যথার মতো উপসর্গও দেখা দিচ্ছে। কিন্তু ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়ার পরীক্ষা করেও অনেকের ক্ষেত্রে রোগ শনাক্ত হচ্ছে না। এতে নতুন কোনো ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে নতুন কোনো ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পরিচিত বিভিন্ন ভাইরাসের সংক্রমণেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ইনফ্লুয়েঞ্জা, রেসপিরেটরি সিনসিশিয়াল ভাইরাস (আরএসভি) ও অ্যাডিনোভাইরাসের সংক্রমণেও জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীরব্যথা হতে পারে।
সম্প্রতি এমন জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন বাংলাদেশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম। তাঁর কর্মস্থলের কয়েকজন সহকর্মী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ায় নিজের জ্বর নিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন তিনি। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন ও বিশ্রাম নিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হন।
দেশে সাম্প্রতিক জ্বরের পেছনে নতুন কোনো ভাইরাসের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।
প্রতিষ্ঠানটির ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. আহমেদ নওশের আলম জানান, বর্তমানে দেশে ডেঙ্গু ও হামসহ পরিচিত কয়েকটি রোগের সংক্রমণ রয়েছে। পাশাপাশি ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসও জ্বরের কারণ হতে পারে।
তাঁর ভাষ্য, নতুন কোনো ভাইরাস শনাক্ত হয়নি। ইনফ্লুয়েঞ্জা পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে নিয়মিত ব্যবস্থা রয়েছে এবং সেখানে আসা নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তবে দেশের সব জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না।
ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়ার পরীক্ষায় নেগেটিভ ফল এলেই যে অন্য কোনো ভাইরাসের সংক্রমণ নেই, তা বলা যায় না। ইনফ্লুয়েঞ্জা, আরএসভি ও অ্যাডিনোভাইরাসের মতো পরিচিত ভাইরাসেও একই ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অধ্যাপক নওশের আলম বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়ার পরীক্ষায় নেগেটিভ ফল পাওয়ার পর চিকিৎসকেরা উপসর্গ বিবেচনায় চিকিৎসা দেন। রোগী সুস্থ হয়ে উঠলেও জ্বরের প্রকৃত কারণ আর পরীক্ষা করে শনাক্ত করা হয় না।
তিনি জানান, বর্তমানে শিশুদের মধ্যে আরএসভি ও অ্যাডিনোভাইরাসের সংক্রমণও দেখা যেতে পারে। সাধারণত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইনফ্লুয়েঞ্জার সংক্রমণ বেশি থাকে। এরপর সংক্রমণ কমলেও বছরের অন্য সময়েও কিছু রোগী পাওয়া যায়।
ডেঙ্গুর মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে গেলেও অনেক রোগীর পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে না। আবার কারও রক্ত পরীক্ষায় রক্তকণিকার সংখ্যায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, কারও ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অস্বাভাবিকতা পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু রোগীর সুস্থ হতেও তুলনামূলক বেশি সময় লাগছে।
এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. নেলসন তাপস মণ্ডল বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গু শনাক্তের পরীক্ষা বেশি করা হচ্ছে। তবে কোভিড-১৯ কিংবা অন্যান্য ভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা তুলনামূলক কম হচ্ছে।
তাঁর মতে, এসব জ্বর নতুন কোনো ভাইরাসের কারণে হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য নেই। এ জন্য আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। কিন্তু সব রোগীর পক্ষে এ ধরনের পরীক্ষার খরচ বহন করা সম্ভব হয় না। পাশাপাশি সব হাসপাতালে সব ধরনের ভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষার ব্যবস্থাও নেই।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, জ্বরের কারণ হিসেবে নতুন কোনো ভাইরাসের আশঙ্কা করার আগে পরিচিত রোগগুলোর সম্ভাবনা বিবেচনা করা উচিত।
বছরের এ সময়ে ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো সাধারণ ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে। এ ছাড়া টাইফয়েড ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন কারণেও জ্বর দেখা দেয়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে একাধিক ধরনের সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে।
চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও কোভিড-১৯-এর অনেক উপসর্গ পরস্পরের সঙ্গে মিলে যায়। তাই শুধু জ্বর, মাথাব্যথা বা শরীরব্যথার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট রোগ শনাক্ত করা কঠিন।
এ ছাড়া ডেঙ্গু পরীক্ষার ফল নেগেটিভ হলেই সংক্রমণ পুরোপুরি নাকচ করা যায় না। কোন ধরনের পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং জ্বর শুরুর কত দিন পর নমুনা দেওয়া হচ্ছে, তার ওপরও ফলাফল নির্ভর করতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা। তবে প্রকৃতপক্ষে রোগীর সংখ্যা কতটা বেড়েছে বা কমেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই।
অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর মতে, ঋতু পরিবর্তন, আবহাওয়ার ওঠানামা এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন সংক্রমণের কারণে এ সময়ে জ্বরের প্রকোপ বাড়তে পারে। প্রায় প্রতিবছর অক্টোবরের দিকে এমন প্রবণতা দেখা যায়।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ইনফ্লুয়েঞ্জার উপসর্গে মিল থাকায় শুধু শারীরিক লক্ষণ দেখে রোগ নির্ণয় করা কঠিন। তাই জ্বর হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
জ্বর দেখা দিলে ডেঙ্গুর সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। কারণ, ডেঙ্গুতে সব সময় প্রচলিত লক্ষণ দেখা যায় না। কিছু বিপজ্জনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
বিশেষ করে
নিচের লক্ষণগুলো
দেখা দিলে
সতর্ক হতে
হবে:
· তীব্র পেটব্যথা
· বারবার বমি
· শরীরের কোথাও রক্তক্ষরণ
· রক্তচাপ কমে যাওয়া
· প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া
· হঠাৎ নিস্তেজ হয়ে পড়া
শিশু, বয়স্ক ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। ডেঙ্গুতে জ্বর কমে যাওয়ার পরও জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই জ্বর নেমে গেলেই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছেন, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
জ্বরে আক্রান্ত হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে এবং পানি ও অন্যান্য তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল সেবন করা যেতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অন্য কোনো ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে ডেঙ্গুর আশঙ্কা থাকলে এ বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন