সংবাদ

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে উদ্ধারে জরুরি করণীয়


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে উদ্ধারে জরুরি করণীয়
ছবিঃ সংগৃহীত

বাসা, রান্নাঘর, বাথরুম কিংবা রাস্তায় - যেকোনো জায়গায় হঠাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত সাহায্য করা জরুরি। তবে তাড়াহুড়ো করে তাঁকে স্পর্শ করতে গেলে উদ্ধারকারীরও বিদ্যুতের শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কারণ, আক্রান্ত ব্যক্তি তখনো বিদ্যুতের উৎসের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন।

এ ধরনের দুর্ঘটনায় প্রথম কাজ হলো নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা। এরপর আক্রান্ত ব্যক্তির সাড়া ও শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সিপিআর শুরু করা এবং পোড়া স্থানের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রথমেই নিশ্চিত করুন বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ

আক্রান্ত ব্যক্তি বিদ্যুতের সংস্পর্শে থাকলে তাঁকে সরাসরি স্পর্শ করা যাবে না। এতে উদ্ধারকারীও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে পারেন।

প্রথমে মূল সুইচ, সার্কিট ব্রেকার বা প্লাগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করুন। এ সময় হাত শুকনো রাখুন এবং পানির ওপর দাঁড়িয়ে থাকবেন না।

তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ করা সম্ভব না হলে শুকনো ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী কোনো বস্তু, যেমন কাঠের লাঠি বা ঝাড়ুর শুকনো হাতল দিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিদ্যুতের উৎস থেকে সরানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। এ সময় নিজেকে শুকনো ও নিরাপদ জায়গায় রাখতে হবে।

বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে রাস্তায় বা অন্য কোথাও পড়ে থাকলে সেটির কাছাকাছি যাবেন না। আশপাশের মানুষকেও দূরে সরিয়ে রাখুন। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও জরুরি সেবায় যোগাযোগ করুন। বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

এরপর সাড়া ও শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা করুন

বিদ্যুতের ঝুঁকি কেটে গেলে আক্রান্ত ব্যক্তি সচেতন আছেন কি না, তা পরীক্ষা করুন। কাঁধে আলতো চাপ দিয়ে জোরে ডাকুন। এরপর তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস পর্যবেক্ষণ করুন।

বুক ওঠানামা করছে কি না, তা দেখে প্রায় ১০ সেকেন্ডের মধ্যে শ্বাসের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন। এর বেশি সময় নষ্ট করা উচিত নয়।

শ্বাস না নিলে সিপিআর শুরু করুন

আক্রান্ত ব্যক্তি শ্বাস না নিলে বা স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে দ্রুত সিপিআর (CPR) শুরু করতে হবে। বুকের মাঝখানে এক হাতের তালুর নিচের অংশ রেখে অন্য হাত তার ওপর স্থাপন করুন। এরপর জোরে ও দ্রুত বুক চাপ দিন।

প্রতি মিনিটে ১০০ থেকে ১২০ বার বুকে চাপ দেওয়ার লক্ষ্য রাখতে হবে। কাছাকাছি অটোমেটেড এক্সটার্নাল ডিফিব্রিলেটর (AED) থাকলে সেটি চালু করে যন্ত্রের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

আক্রান্ত ব্যক্তি সচেতন ও স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিলে তাঁকে শুইয়ে শান্ত রাখুন। শরীরে পোড়ার চিহ্ন আছে কি না, তা পরীক্ষা করুন। তাঁকে হাঁটাচলা করতে দেবেন না।

কেউ শ্বাস নিচ্ছেন, কিন্তু সাড়া দিচ্ছেন না - এমন হলে ঘাড় বা মেরুদণ্ডে আঘাতের আশঙ্কা না থাকলে তাঁকে একপাশে কাত করে রিকভারি পজিশনে রাখা যেতে পারে। এরপর নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাস পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

বৈদ্যুতিক পোড়ার প্রাথমিক চিকিৎসা

আক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থা স্থিতিশীল থাকলে পোড়া স্থানটি ঠান্ডা বহমান পানির নিচে অন্তত ১০ থেকে ২০ মিনিট রাখুন। বরফ বা অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন না।

পোড়া স্থান পরিষ্কার, আঁশহীন এবং ত্বকে আটকে যায় না এমন ড্রেসিং বা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে আলতোভাবে ঢেকে দিন। ফোস্কা ফাটানো যাবে না। পোড়া স্থানে মাখন, তেল, টুথপেস্ট কিংবা কোনো মলম লাগানোও উচিত নয়।

ফোলা শুরু হওয়ার আগেই পোড়া স্থানের কাছাকাছি থাকা আংটি, ঘড়ি বা আঁটসাঁট পোশাক খুলে ফেলুন। তবে ত্বকের সঙ্গে লেগে থাকা কাপড় টেনে সরানোর চেষ্টা করবেন না।

শুধু শরীরের যে অংশে পোড়ার চিহ্ন দেখা যাচ্ছে, সেটি পরীক্ষা করলেই চলবে না। বিদ্যুৎ শরীরের এক অংশ দিয়ে প্রবেশ করে অন্য অংশ দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে। তাই শরীরের অন্য কোথাও, বিশেষ করে পায়ের পাতায়, পোড়ার চিহ্ন আছে কি না দেখতে হবে।

তাপজনিত পোড়ার চিকিৎসা নিয়ে করা গবেষণাগুলোও এ ক্ষেত্রে প্রাথমিক নির্দেশনা দেয়। ‘অস্ট্রালেশিয়ান ইমার্জেন্সি কেয়ার’ সাময়িকীতে ২০২২ সালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, পোড়ার তিন ঘণ্টার মধ্যে ২০ মিনিট ঠান্ডা বহমান পানির নিচে রাখলে ত্বক প্রতিস্থাপন বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন কমতে পারে।

তবে ‘বার্নস’ সাময়িকীতে একই বছর প্রকাশিত আরেকটি পর্যালোচনায় ২০ মিনিটের বেশি সময় ঠান্ডা পানি ব্যবহারের বাড়তি সুবিধার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এর আদর্শ সময়কাল নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বৈদ্যুতিক আঘাতে বাইরে থেকে ক্ষত সামান্য মনে হলেও শরীরের ভেতরে গভীর ক্ষতি হতে পারে। তাই প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

যেসব ভুল করা বিপজ্জনক

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে সাহায্য করতে গিয়ে কিছু কাজ পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। যেমন:

  • আক্রান্ত ব্যক্তি বিদ্যুতের উৎসের সঙ্গে যুক্ত থাকা অবস্থায় তাঁকে স্পর্শ করবেন না।

  • তাঁকে সরাতে ভেজা বস্তু, ধাতব দণ্ড বা খালি হাত ব্যবহার করবেন না।

  • বিদ্যুৎ সংযোগ চালু থাকা অবস্থায় ব্যক্তি বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ওপর পানি ঢালবেন না।

  • আক্রান্ত ব্যক্তিকে খাবার বা পানীয় দেবেন না।

  • পড়ে গেলে বা ছিটকে গেলে অকারণে নড়াচড়া করাবেন না। মাথা, ঘাড় বা মেরুদণ্ডে আঘাত থাকতে পারে।

  • আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেকে সুস্থ মনে করে চিকিৎসা নিতে না চাইলেও বিষয়টি অবহেলা করবেন না।

বাইরে থেকে সুস্থ দেখালেও চিকিৎসা জরুরি কেন?

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর শরীরে দৃশ্যমান ক্ষত না থাকলেও ভেতরে গুরুতর সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিদ্যুতের প্রভাবে হৃদস্পন্দনের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে। এ ছাড়া গভীর পোড়া, পেশির ক্ষতি, কিডনির ওপর চাপ, হাড় ভাঙা কিংবা স্নায়ুর ক্ষতিও হতে পারে।

‘ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ইন কার্ডিওলজি’ সাময়িকীতে ২০২৩ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বৈদ্যুতিক আঘাতের ৩৩৩টি ঘটনা পর্যালোচনা করা হয়। এর অধিকাংশই ছিল ১ হাজার ভোল্টের নিচের নিম্ন ভোল্টেজের ঘটনা। গবেষণায় ১১ দশমিক ৭ শতাংশ ক্ষেত্রে অ্যারিথমিয়া বা হৃদস্পন্দনের ছন্দে সমস্যা দেখা যায়।

গবেষকদের মতে, যেসব রোগীর কোনো উপসর্গ নেই এবং প্রাথমিক ইসিজি (ECG) স্বাভাবিক, তাঁদের ক্ষেত্রে নিয়মিত দীর্ঘ সময় ইসিজি পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন নাও হতে পারে।

অন্যদিকে, ‘ব্রিটিশ প্যারামেডিক জার্নাল’-এ ২০২৩ সালে প্রকাশিত আরেকটি পর্যালোচনায় বিলম্বিত অ্যারিথমিয়ার ঘটনা পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে তথ্যের সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর হাসপাতালে গিয়ে ইসিজি করানো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নিচের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে:

  • জ্ঞান হারানো

  • শরীরে পোড়ার ক্ষত

  • বুকে ব্যথা

  • অস্বাভাবিক দ্রুত হৃদস্পন্দন

  • শ্বাসকষ্ট

  • খিঁচুনি

  • শরীরের কোনো অংশ অসাড় হয়ে যাওয়া

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। আক্রান্ত ব্যক্তিকে সাহায্য করার আগে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে উদ্ধারে জরুরি করণীয়

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

বাসা, রান্নাঘর, বাথরুম কিংবা রাস্তায় - যেকোনো জায়গায় হঠাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত সাহায্য করা জরুরি। তবে তাড়াহুড়ো করে তাঁকে স্পর্শ করতে গেলে উদ্ধারকারীরও বিদ্যুতের শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কারণ, আক্রান্ত ব্যক্তি তখনো বিদ্যুতের উৎসের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন।

এ ধরনের দুর্ঘটনায় প্রথম কাজ হলো নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা। এরপর আক্রান্ত ব্যক্তির সাড়া ও শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সিপিআর শুরু করা এবং পোড়া স্থানের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রথমেই নিশ্চিত করুন বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ

আক্রান্ত ব্যক্তি বিদ্যুতের সংস্পর্শে থাকলে তাঁকে সরাসরি স্পর্শ করা যাবে না। এতে উদ্ধারকারীও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে পারেন।

প্রথমে মূল সুইচ, সার্কিট ব্রেকার বা প্লাগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করুন। এ সময় হাত শুকনো রাখুন এবং পানির ওপর দাঁড়িয়ে থাকবেন না।

তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ করা সম্ভব না হলে শুকনো ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী কোনো বস্তু, যেমন কাঠের লাঠি বা ঝাড়ুর শুকনো হাতল দিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিদ্যুতের উৎস থেকে সরানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। এ সময় নিজেকে শুকনো ও নিরাপদ জায়গায় রাখতে হবে।

বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে রাস্তায় বা অন্য কোথাও পড়ে থাকলে সেটির কাছাকাছি যাবেন না। আশপাশের মানুষকেও দূরে সরিয়ে রাখুন। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও জরুরি সেবায় যোগাযোগ করুন। বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

এরপর সাড়া ও শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা করুন

বিদ্যুতের ঝুঁকি কেটে গেলে আক্রান্ত ব্যক্তি সচেতন আছেন কি না, তা পরীক্ষা করুন। কাঁধে আলতো চাপ দিয়ে জোরে ডাকুন। এরপর তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস পর্যবেক্ষণ করুন।

বুক ওঠানামা করছে কি না, তা দেখে প্রায় ১০ সেকেন্ডের মধ্যে শ্বাসের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন। এর বেশি সময় নষ্ট করা উচিত নয়।

শ্বাস না নিলে সিপিআর শুরু করুন

আক্রান্ত ব্যক্তি শ্বাস না নিলে বা স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে দ্রুত সিপিআর (CPR) শুরু করতে হবে। বুকের মাঝখানে এক হাতের তালুর নিচের অংশ রেখে অন্য হাত তার ওপর স্থাপন করুন। এরপর জোরে ও দ্রুত বুক চাপ দিন।

প্রতি মিনিটে ১০০ থেকে ১২০ বার বুকে চাপ দেওয়ার লক্ষ্য রাখতে হবে। কাছাকাছি অটোমেটেড এক্সটার্নাল ডিফিব্রিলেটর (AED) থাকলে সেটি চালু করে যন্ত্রের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

আক্রান্ত ব্যক্তি সচেতন ও স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিলে তাঁকে শুইয়ে শান্ত রাখুন। শরীরে পোড়ার চিহ্ন আছে কি না, তা পরীক্ষা করুন। তাঁকে হাঁটাচলা করতে দেবেন না।

কেউ শ্বাস নিচ্ছেন, কিন্তু সাড়া দিচ্ছেন না - এমন হলে ঘাড় বা মেরুদণ্ডে আঘাতের আশঙ্কা না থাকলে তাঁকে একপাশে কাত করে রিকভারি পজিশনে রাখা যেতে পারে। এরপর নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাস পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

বৈদ্যুতিক পোড়ার প্রাথমিক চিকিৎসা

আক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থা স্থিতিশীল থাকলে পোড়া স্থানটি ঠান্ডা বহমান পানির নিচে অন্তত ১০ থেকে ২০ মিনিট রাখুন। বরফ বা অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন না।

পোড়া স্থান পরিষ্কার, আঁশহীন এবং ত্বকে আটকে যায় না এমন ড্রেসিং বা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে আলতোভাবে ঢেকে দিন। ফোস্কা ফাটানো যাবে না। পোড়া স্থানে মাখন, তেল, টুথপেস্ট কিংবা কোনো মলম লাগানোও উচিত নয়।

ফোলা শুরু হওয়ার আগেই পোড়া স্থানের কাছাকাছি থাকা আংটি, ঘড়ি বা আঁটসাঁট পোশাক খুলে ফেলুন। তবে ত্বকের সঙ্গে লেগে থাকা কাপড় টেনে সরানোর চেষ্টা করবেন না।

শুধু শরীরের যে অংশে পোড়ার চিহ্ন দেখা যাচ্ছে, সেটি পরীক্ষা করলেই চলবে না। বিদ্যুৎ শরীরের এক অংশ দিয়ে প্রবেশ করে অন্য অংশ দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে। তাই শরীরের অন্য কোথাও, বিশেষ করে পায়ের পাতায়, পোড়ার চিহ্ন আছে কি না দেখতে হবে।

তাপজনিত পোড়ার চিকিৎসা নিয়ে করা গবেষণাগুলোও এ ক্ষেত্রে প্রাথমিক নির্দেশনা দেয়। ‘অস্ট্রালেশিয়ান ইমার্জেন্সি কেয়ার’ সাময়িকীতে ২০২২ সালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, পোড়ার তিন ঘণ্টার মধ্যে ২০ মিনিট ঠান্ডা বহমান পানির নিচে রাখলে ত্বক প্রতিস্থাপন বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন কমতে পারে।

তবে ‘বার্নস’ সাময়িকীতে একই বছর প্রকাশিত আরেকটি পর্যালোচনায় ২০ মিনিটের বেশি সময় ঠান্ডা পানি ব্যবহারের বাড়তি সুবিধার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এর আদর্শ সময়কাল নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বৈদ্যুতিক আঘাতে বাইরে থেকে ক্ষত সামান্য মনে হলেও শরীরের ভেতরে গভীর ক্ষতি হতে পারে। তাই প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

যেসব ভুল করা বিপজ্জনক

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে সাহায্য করতে গিয়ে কিছু কাজ পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। যেমন:

  • আক্রান্ত ব্যক্তি বিদ্যুতের উৎসের সঙ্গে যুক্ত থাকা অবস্থায় তাঁকে স্পর্শ করবেন না।

  • তাঁকে সরাতে ভেজা বস্তু, ধাতব দণ্ড বা খালি হাত ব্যবহার করবেন না।

  • বিদ্যুৎ সংযোগ চালু থাকা অবস্থায় ব্যক্তি বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ওপর পানি ঢালবেন না।

  • আক্রান্ত ব্যক্তিকে খাবার বা পানীয় দেবেন না।

  • পড়ে গেলে বা ছিটকে গেলে অকারণে নড়াচড়া করাবেন না। মাথা, ঘাড় বা মেরুদণ্ডে আঘাত থাকতে পারে।

  • আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেকে সুস্থ মনে করে চিকিৎসা নিতে না চাইলেও বিষয়টি অবহেলা করবেন না।

বাইরে থেকে সুস্থ দেখালেও চিকিৎসা জরুরি কেন?

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর শরীরে দৃশ্যমান ক্ষত না থাকলেও ভেতরে গুরুতর সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিদ্যুতের প্রভাবে হৃদস্পন্দনের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে। এ ছাড়া গভীর পোড়া, পেশির ক্ষতি, কিডনির ওপর চাপ, হাড় ভাঙা কিংবা স্নায়ুর ক্ষতিও হতে পারে।

‘ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ইন কার্ডিওলজি’ সাময়িকীতে ২০২৩ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বৈদ্যুতিক আঘাতের ৩৩৩টি ঘটনা পর্যালোচনা করা হয়। এর অধিকাংশই ছিল ১ হাজার ভোল্টের নিচের নিম্ন ভোল্টেজের ঘটনা। গবেষণায় ১১ দশমিক ৭ শতাংশ ক্ষেত্রে অ্যারিথমিয়া বা হৃদস্পন্দনের ছন্দে সমস্যা দেখা যায়।

গবেষকদের মতে, যেসব রোগীর কোনো উপসর্গ নেই এবং প্রাথমিক ইসিজি (ECG) স্বাভাবিক, তাঁদের ক্ষেত্রে নিয়মিত দীর্ঘ সময় ইসিজি পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন নাও হতে পারে।

অন্যদিকে, ‘ব্রিটিশ প্যারামেডিক জার্নাল’-এ ২০২৩ সালে প্রকাশিত আরেকটি পর্যালোচনায় বিলম্বিত অ্যারিথমিয়ার ঘটনা পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে তথ্যের সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর হাসপাতালে গিয়ে ইসিজি করানো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নিচের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে:

  • জ্ঞান হারানো

  • শরীরে পোড়ার ক্ষত

  • বুকে ব্যথা

  • অস্বাভাবিক দ্রুত হৃদস্পন্দন

  • শ্বাসকষ্ট

  • খিঁচুনি

  • শরীরের কোনো অংশ অসাড় হয়ে যাওয়া

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। আক্রান্ত ব্যক্তিকে সাহায্য করার আগে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত