সংবাদ

‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে’


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৩ পিএম

‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে’
ছবি : সংগৃহীত

দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে সরকার পুনর্ব্যবহাযোগ্য জ্বালানি খাতের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

রাজধানীর এক পাঁচ তারকা হোটেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যেগে আয়োজিত ‘সাইন্স পলিসি ডায়লগ অন ব্ল্যাক কার্বন অ্যান্ড আদার শর্ট লাইভড ক্লাইমেট পল্যুটেন্টস’ শীর্ষক এক সেমিনারে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

মাহদী আমিন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "অতীতের নীতির কারণে জ্বালানি খাতে আমাদের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে আমরা জ্বালানির উৎস বহুমুখী করতে চাই। সরকার পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের প্রকল্পও চালু আছে।"

একই সাথে সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিবহণ নীতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, "আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো। এ কারণে নতুন যেসব প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোতে বৈদ্যুতিক যানবাহনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।"

পরিবেশ রক্ষায় পূর্বসূরিদের অবদানের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে মাহদী আমিন স্মরণ করিয়ে দেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি ও খালেদা জিয়ার সিএনজির মতো পরিবেশবান্ধব যানবাহন চালুর উদ্যেগের কথা সবাই জানে। জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে কার্যকর নীতি প্রণয়নে বিএনপির সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। এর পাশাপাশি প্লাস্টিক ও পলিথিন নিষিদ্ধকরণ এবং পাটজাত ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রসারেও বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছিল তৎকালীন বিএনপি সরকার।

সাবেক বিএনপি সরকারের সময়ে পরিচালিত দেশব্যাপী সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি ও বৃক্ষমেলার আয়োজনের উদাহরণ টেনে শিক্ষা উপদেষ্টা আশ্বাস দেন, "বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা সেই সংস্কৃতিকে আবার নতুন করে ফিরিয়ে আনতে ও আরও বিকশিত করতে চাই।"

তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করেন, "আমরা সবাই এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংস করা হবে না; বরং প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করা হবে।"

টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে মাহদী আমিন নিশ্চিত করেন, "আমরা এমন প্রকল্প ও উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিতে চাই, যেখানে পরিবেশ সংরক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কারণ, আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে।"

আগামী দিনের বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিশুদ্ধ ও নির্মল বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারবে। আর সে জন্য আমাদেরকে বহুমুখী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।"

এছাড়া বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের বিষয় তুলে ধরে তিনি জানান, পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা ব্যারেজের মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে নতুন জলাধার তৈরি করা হবে, যা পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ধরে রাখা ও সামগ্রিক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ করবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আব্দুস সালাম ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ওরজান গুসটাফসোনের যৌথ সভাপতিত্বে উক্ত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ড. এ এস এম আব্দুল আওয়াল এবং সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকসসহ অন্যান্যরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে’

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে সরকার পুনর্ব্যবহাযোগ্য জ্বালানি খাতের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

রাজধানীর এক পাঁচ তারকা হোটেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যেগে আয়োজিত ‘সাইন্স পলিসি ডায়লগ অন ব্ল্যাক কার্বন অ্যান্ড আদার শর্ট লাইভড ক্লাইমেট পল্যুটেন্টস’ শীর্ষক এক সেমিনারে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

মাহদী আমিন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "অতীতের নীতির কারণে জ্বালানি খাতে আমাদের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে আমরা জ্বালানির উৎস বহুমুখী করতে চাই। সরকার পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের প্রকল্পও চালু আছে।"

একই সাথে সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিবহণ নীতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, "আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো। এ কারণে নতুন যেসব প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোতে বৈদ্যুতিক যানবাহনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।"

পরিবেশ রক্ষায় পূর্বসূরিদের অবদানের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে মাহদী আমিন স্মরণ করিয়ে দেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি ও খালেদা জিয়ার সিএনজির মতো পরিবেশবান্ধব যানবাহন চালুর উদ্যেগের কথা সবাই জানে। জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে কার্যকর নীতি প্রণয়নে বিএনপির সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। এর পাশাপাশি প্লাস্টিক ও পলিথিন নিষিদ্ধকরণ এবং পাটজাত ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রসারেও বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছিল তৎকালীন বিএনপি সরকার।

সাবেক বিএনপি সরকারের সময়ে পরিচালিত দেশব্যাপী সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি ও বৃক্ষমেলার আয়োজনের উদাহরণ টেনে শিক্ষা উপদেষ্টা আশ্বাস দেন, "বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা সেই সংস্কৃতিকে আবার নতুন করে ফিরিয়ে আনতে ও আরও বিকশিত করতে চাই।"

তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করেন, "আমরা সবাই এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংস করা হবে না; বরং প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করা হবে।"

টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে মাহদী আমিন নিশ্চিত করেন, "আমরা এমন প্রকল্প ও উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিতে চাই, যেখানে পরিবেশ সংরক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কারণ, আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে।"

আগামী দিনের বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিশুদ্ধ ও নির্মল বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারবে। আর সে জন্য আমাদেরকে বহুমুখী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।"

এছাড়া বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের বিষয় তুলে ধরে তিনি জানান, পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা ব্যারেজের মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে নতুন জলাধার তৈরি করা হবে, যা পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ধরে রাখা ও সামগ্রিক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ করবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আব্দুস সালাম ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ওরজান গুসটাফসোনের যৌথ সভাপতিত্বে উক্ত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ড. এ এস এম আব্দুল আওয়াল এবং সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকসসহ অন্যান্যরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত