সংবাদ

সুনামগঞ্জে সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, বিএনপির ৫ দফা দাবি


প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ
প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ
প্রকাশ: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০২ এএম

সুনামগঞ্জে সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, বিএনপির ৫ দফা দাবি
ছবি : সংবাদ

সুনামগঞ্জ-কাছিরগাতি-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের অনিয়ম ধরিয়ে দেওয়ায় সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা বিএনপি। সংবাদ সম্মেলনে অনিয়ম-দুর্নীতি ও এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। এ সময় সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল হক, সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুক আলম, নাদির আহমদ, আকবর আলী, অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী, রেজাউল হক, আ ত ম মিসবাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে মিলন বলেন, এই প্রকল্পের কাজ পেয়েছিলেন রাজধানী ঢাকার ঠিকাদার আওয়ামী লীগ সমর্থক মো. বদরুল ইসলাম, ঠিকাদারি ফার্ম ইসলাম ট্রেডার্স। জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর ওই ঠিকাদার দেশ ছেড়ে পলায়নের পর এই কাজের প্রথম সাব-ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য আজাদ হোসেনকে। তাদের মধ্যে মতবিরোধের কারণে পরবর্তীতে ওই প্রকল্পের দ্বিতীয় সাব-ঠিকাদার নিযুক্ত হন আরেক আওয়ামী সমর্থিত, বিভিন্ন সন্ত্রাস দমন আইন ও প্রতারণামূলক বহু মামলার আসামি ‘ডেভিল’ শফিকুল ইসলাম।

তিনি আরও বলেন, গত ২৭ অক্টোবর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল বিশ্বম্ভরপুরের রতারগাঁও হাই স্কুল থেকে একটি অনুষ্ঠান শেষে আসার পথে এলাকার সাধারণ জনগণ তাকে দাঁড় করিয়ে নির্মাণকাজের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করেন। তখন তিনি নিজেও দেখতে পান সড়কের সদ্য নির্মিত গার্ডওয়াল একদিকে হেলে পড়েছে। ব্লক নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী। মাটি কম্পেকশন না করে জিও টেক্সটাইলের ওপর নিম্নমানের ব্লক বসিয়ে সড়কের প্রটেকশন দেওয়া হচ্ছে। ভিট বালুর পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে কৃষি জমির টপ সয়েল। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সংসদ সদস্য পরের দিন ঠিকাদারকে উপস্থিত থাকার জন্য উপস্থিত ঠিকাদারের প্রতিনিধিকে অনুরোধ করেন এবং বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে পরের দিন তিনি নিজে সাইট পরিদর্শন করবেন। আমরা লক্ষ্য করলাম, ওই দিনই ওই সাব-ঠিকাদার স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এই সংঘবদ্ধ তথ্য সন্ত্রাসের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।

তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের প্রথম সাব-ঠিকাদারের মুখ থেকে আপনারা শুনেছেন, বাস্তবে ৪০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে ৮৭ কোটি টাকা ব্যয় দেখাতে কীভাবে অতিরিক্ত ব্যয় (ওভার এস্টিমেট) করা হয়েছিল। আপনারা এও শুনেছেন, নির্মাণকাজ বাস্তবায়নে ৭ লাখ ঘনফুট মাটির স্থলে কীভাবে ৫৬ লাখ ঘনফুট মাটি ধরা হয়েছে। পুকুর চুরির এই প্রকল্পে সাব-ঠিকাদারের জানামতে এই কাজে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে এবং উত্তোলিত বিলের টাকা সড়ক বিভাগের লোকজন ও ঠিকাদারের প্রতিনিধি ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। ইতিমধ্যে ওই প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার বিল উত্তোলন করে লুটপাট করা হয়েছে। জনগণের সম্মুখে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের কোনো সাইনবোর্ড প্রদর্শন করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতির এই প্রকল্প নিয়ে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিলন। দাবিগুলো হলো—এক, প্রকল্প শুরুর দিকে দুর্নীতির যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করা হয়, তার সঙ্গে জড়িত প্রতিটি ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। দুই, প্রকল্পের প্রকৃত মূল্য পুনর্মূল্যায়ন করে অতিরিক্ত যে মূল্য (ওভার ভ্যালু) দেখানো হয়েছে, সেই টাকা দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারের কাছ থেকে সরকারি কোষাগারে ফেরত আনতে হবে। তিন, ইতিমধ্যে যে পরিমাণ নিম্নমানের কাজ হয়েছে, সেগুলো বাতিল করে ডিজাইন অনুযায়ী মানসম্পন্ন নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার নিশ্চিত করে নতুন করে কাজ করতে হবে। চার, এই সংস্কারকাজ বাস্তবায়নে সড়ক বিভাগের যে সকল প্রকৌশলী জড়িত এবং জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কারে যাদের দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এবং পাঁচ, দুর্নীতিবাজ এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যতগুলো কাজ চলমান রয়েছে, সবগুলোর কাজ এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের অনুসন্ধান করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


সুনামগঞ্জে সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, বিএনপির ৫ দফা দাবি

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জ-কাছিরগাতি-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের অনিয়ম ধরিয়ে দেওয়ায় সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা বিএনপি। সংবাদ সম্মেলনে অনিয়ম-দুর্নীতি ও এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। এ সময় সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল হক, সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুক আলম, নাদির আহমদ, আকবর আলী, অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী, রেজাউল হক, আ ত ম মিসবাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে মিলন বলেন, এই প্রকল্পের কাজ পেয়েছিলেন রাজধানী ঢাকার ঠিকাদার আওয়ামী লীগ সমর্থক মো. বদরুল ইসলাম, ঠিকাদারি ফার্ম ইসলাম ট্রেডার্স। জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর ওই ঠিকাদার দেশ ছেড়ে পলায়নের পর এই কাজের প্রথম সাব-ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য আজাদ হোসেনকে। তাদের মধ্যে মতবিরোধের কারণে পরবর্তীতে ওই প্রকল্পের দ্বিতীয় সাব-ঠিকাদার নিযুক্ত হন আরেক আওয়ামী সমর্থিত, বিভিন্ন সন্ত্রাস দমন আইন ও প্রতারণামূলক বহু মামলার আসামি ‘ডেভিল’ শফিকুল ইসলাম।

তিনি আরও বলেন, গত ২৭ অক্টোবর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল বিশ্বম্ভরপুরের রতারগাঁও হাই স্কুল থেকে একটি অনুষ্ঠান শেষে আসার পথে এলাকার সাধারণ জনগণ তাকে দাঁড় করিয়ে নির্মাণকাজের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করেন। তখন তিনি নিজেও দেখতে পান সড়কের সদ্য নির্মিত গার্ডওয়াল একদিকে হেলে পড়েছে। ব্লক নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী। মাটি কম্পেকশন না করে জিও টেক্সটাইলের ওপর নিম্নমানের ব্লক বসিয়ে সড়কের প্রটেকশন দেওয়া হচ্ছে। ভিট বালুর পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে কৃষি জমির টপ সয়েল। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সংসদ সদস্য পরের দিন ঠিকাদারকে উপস্থিত থাকার জন্য উপস্থিত ঠিকাদারের প্রতিনিধিকে অনুরোধ করেন এবং বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে পরের দিন তিনি নিজে সাইট পরিদর্শন করবেন। আমরা লক্ষ্য করলাম, ওই দিনই ওই সাব-ঠিকাদার স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এই সংঘবদ্ধ তথ্য সন্ত্রাসের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।

তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের প্রথম সাব-ঠিকাদারের মুখ থেকে আপনারা শুনেছেন, বাস্তবে ৪০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে ৮৭ কোটি টাকা ব্যয় দেখাতে কীভাবে অতিরিক্ত ব্যয় (ওভার এস্টিমেট) করা হয়েছিল। আপনারা এও শুনেছেন, নির্মাণকাজ বাস্তবায়নে ৭ লাখ ঘনফুট মাটির স্থলে কীভাবে ৫৬ লাখ ঘনফুট মাটি ধরা হয়েছে। পুকুর চুরির এই প্রকল্পে সাব-ঠিকাদারের জানামতে এই কাজে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে এবং উত্তোলিত বিলের টাকা সড়ক বিভাগের লোকজন ও ঠিকাদারের প্রতিনিধি ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। ইতিমধ্যে ওই প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার বিল উত্তোলন করে লুটপাট করা হয়েছে। জনগণের সম্মুখে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের কোনো সাইনবোর্ড প্রদর্শন করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতির এই প্রকল্প নিয়ে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিলন। দাবিগুলো হলো—এক, প্রকল্প শুরুর দিকে দুর্নীতির যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করা হয়, তার সঙ্গে জড়িত প্রতিটি ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। দুই, প্রকল্পের প্রকৃত মূল্য পুনর্মূল্যায়ন করে অতিরিক্ত যে মূল্য (ওভার ভ্যালু) দেখানো হয়েছে, সেই টাকা দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারের কাছ থেকে সরকারি কোষাগারে ফেরত আনতে হবে। তিন, ইতিমধ্যে যে পরিমাণ নিম্নমানের কাজ হয়েছে, সেগুলো বাতিল করে ডিজাইন অনুযায়ী মানসম্পন্ন নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার নিশ্চিত করে নতুন করে কাজ করতে হবে। চার, এই সংস্কারকাজ বাস্তবায়নে সড়ক বিভাগের যে সকল প্রকৌশলী জড়িত এবং জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কারে যাদের দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এবং পাঁচ, দুর্নীতিবাজ এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যতগুলো কাজ চলমান রয়েছে, সবগুলোর কাজ এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের অনুসন্ধান করতে হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত