সংবাদ

নেতানিয়াহুকে সরাতে বিরোধী শিবিরের তৎপরতা


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

নেতানিয়াহুকে সরাতে বিরোধী শিবিরের তৎপরতা
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পতন ঘটিয়ে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে জোর তৎপরতা শুরু করেছে বিরোধী দলগুলো। জাতীয় রাজনীতিতে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে তারা অবিলম্বে জোট আলোচনা শুরু এবং নতুন নেসেটের (পার্লামেন্ট) শপথ গ্রহণের আগেই সংসদীয় কৌশল সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে পার্লামেন্টে ক্ষমতার সমীকরণ মেলাতে আরব দলগুলোকে জোটের বাইরে রেখে কীভাবে সরকার গঠন করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট পথ বের করতে পারেননি বিরোধী নেতারা।

সম্প্রতি বিরোধী শীর্ষ নেতাদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। এতে অংশ নেন ইয়াশার দলের নেতা গাদি আইজেনকট, বি'ইয়াচাদ দলের চেয়ারম্যান নাফতালি বেনেট, ডেমোক্র্যাটস দলের প্রধান ইয়ার গোলান এবং ইসরায়েল বেইতেনু দলের নেতা আভিগদর লিবারম্যান। বিবৃতিতে তারা নেতানিয়াহুর বর্তমান সরকারকে দ্রুত সরিয়ে একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সরকার গঠনের ভিত্তি হিসেবে গাদি আইজেনকটের প্রস্তাব করা চারটি মৌলিক নীতির কথা তুলে ধরা হয়। নীতিগুলো হলো: ইসরায়েলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল্যবোধের প্রতি পূর্ণ অঙ্গীকার রক্ষা করা, দেশের সকল নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক বা জাতীয় সেবা নিশ্চিত করা এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে গাজায় তাদের সামরিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস ও শাসনের অবসান ঘটানো।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, বিরোধী দলীয় নেতারা এই লক্ষ্য অর্জনে ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। গত ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর গঠিত বিতর্কিত সরকারকে সরিয়ে জাতীয় জরুরি সরকার প্রতিষ্ঠা এবং নেসেটে স্পষ্ট সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগাতে তারা অবিলম্বে যৌথ পদক্ষেপ নেবেন।

সাম্প্রতিক নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট সংসদে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও বিরোধী দলগুলোর আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮টিতে। বিপরীতে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন এবং আরব দল দুটি সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন লাভ করেছে। এমতাবস্থায় সরকার গঠনে বিরোধীদের জন্য আরব দলগুলোর সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিরোধী জোটের অধিকাংশ নেতাই আরব দলগুলোকে সাথে নিতে রাজি নন। ফলে নতুন সরকার গঠনের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

বৈঠকে বিরোধী নেতারা প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছ থেকে সরকার গঠনের প্রথম দায়িত্ব আইজেনকটকে দেওয়ার বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি জোটের চুক্তি ও নীতিগত কর্মসূচির খসড়া তৈরির কাজ অবিলম্বে শুরু করতে আলোচক দলগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, নেতানিয়াহু ও তার দল লিকুদ নির্বাচনের ফল এবং নির্বাচন কমিটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এক ধরনের বিপজ্জনক ও নিয়ন্ত্রণহীন প্রচার চালাচ্ছে।

বৈঠক শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট আইজেনকটের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়ে বলেন, "যত দ্রুত সম্ভব গাদি আইজেনকটকে সরকার গঠনে সহায়তা করতে বি'ইয়াচাদ দলের সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। আমাদের অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


নেতানিয়াহুকে সরাতে বিরোধী শিবিরের তৎপরতা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ইসরায়েলে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পতন ঘটিয়ে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে জোর তৎপরতা শুরু করেছে বিরোধী দলগুলো। জাতীয় রাজনীতিতে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে তারা অবিলম্বে জোট আলোচনা শুরু এবং নতুন নেসেটের (পার্লামেন্ট) শপথ গ্রহণের আগেই সংসদীয় কৌশল সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে পার্লামেন্টে ক্ষমতার সমীকরণ মেলাতে আরব দলগুলোকে জোটের বাইরে রেখে কীভাবে সরকার গঠন করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট পথ বের করতে পারেননি বিরোধী নেতারা।

সম্প্রতি বিরোধী শীর্ষ নেতাদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। এতে অংশ নেন ইয়াশার দলের নেতা গাদি আইজেনকট, বি'ইয়াচাদ দলের চেয়ারম্যান নাফতালি বেনেট, ডেমোক্র্যাটস দলের প্রধান ইয়ার গোলান এবং ইসরায়েল বেইতেনু দলের নেতা আভিগদর লিবারম্যান। বিবৃতিতে তারা নেতানিয়াহুর বর্তমান সরকারকে দ্রুত সরিয়ে একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সরকার গঠনের ভিত্তি হিসেবে গাদি আইজেনকটের প্রস্তাব করা চারটি মৌলিক নীতির কথা তুলে ধরা হয়। নীতিগুলো হলো: ইসরায়েলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল্যবোধের প্রতি পূর্ণ অঙ্গীকার রক্ষা করা, দেশের সকল নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক বা জাতীয় সেবা নিশ্চিত করা এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে গাজায় তাদের সামরিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস ও শাসনের অবসান ঘটানো।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, বিরোধী দলীয় নেতারা এই লক্ষ্য অর্জনে ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। গত ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর গঠিত বিতর্কিত সরকারকে সরিয়ে জাতীয় জরুরি সরকার প্রতিষ্ঠা এবং নেসেটে স্পষ্ট সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগাতে তারা অবিলম্বে যৌথ পদক্ষেপ নেবেন।

সাম্প্রতিক নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট সংসদে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও বিরোধী দলগুলোর আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮টিতে। বিপরীতে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন এবং আরব দল দুটি সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন লাভ করেছে। এমতাবস্থায় সরকার গঠনে বিরোধীদের জন্য আরব দলগুলোর সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিরোধী জোটের অধিকাংশ নেতাই আরব দলগুলোকে সাথে নিতে রাজি নন। ফলে নতুন সরকার গঠনের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

বৈঠকে বিরোধী নেতারা প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছ থেকে সরকার গঠনের প্রথম দায়িত্ব আইজেনকটকে দেওয়ার বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি জোটের চুক্তি ও নীতিগত কর্মসূচির খসড়া তৈরির কাজ অবিলম্বে শুরু করতে আলোচক দলগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, নেতানিয়াহু ও তার দল লিকুদ নির্বাচনের ফল এবং নির্বাচন কমিটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এক ধরনের বিপজ্জনক ও নিয়ন্ত্রণহীন প্রচার চালাচ্ছে।

বৈঠক শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট আইজেনকটের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়ে বলেন, "যত দ্রুত সম্ভব গাদি আইজেনকটকে সরকার গঠনে সহায়তা করতে বি'ইয়াচাদ দলের সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। আমাদের অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত