সংবাদ

তাহসিফ হত্যা: শেখ হাসিনার পালানোর ভিডিওর যোগসূত্র খুঁজছে তদন্ত সংস্থা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম

তাহসিফ হত্যা: শেখ হাসিনার পালানোর ভিডিওর যোগসূত্র খুঁজছে তদন্ত সংস্থা

​বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যার পেছনে অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে তদন্ত সংস্থা।

নিহত তাহসিফের 'শেয়ার করা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হেলিকপ্টারে দেশত্যাগের ভিডিও' এবং তার কাছে সেদিনের অন্য কোনো ভিডিও ফুটেজ বা তথ্য সংরক্ষিত ছিল কি না, তা এখন বিশেষ তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতে এক নারী আসামির পুনরায় রিমান্ড শুনানির সময় সাংবাদিকদের এসব কথা জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

​এদিন আদালতে তাহসিফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার ওই তরুণীর রিমান্ড শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি বলেন, তাহসিফের ধারণ বা শেয়ার করা ভিডিওটি দেশের সাধারণ মানুষের কাছে শেখ হাসিনার হেলিকপ্টারে দেশত্যাগের আসল দৃশ্য ফুটিয়ে তুলতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এই ভিডিও প্রকাশের জেরে তার ওপর কোনো ধরনের ক্ষোভ বা ষড়যন্ত্রের সৃষ্টি হয়েছিল কি না, সেটিও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তা কোনো একটিমাত্র বিষয়কে প্রাধান্য না দিয়ে তাহসিফের ওই ভিডিও, সেদিনের অন্য কোনো ঘটনার ফুটেজ এবং এসবের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। এর মাধ্যমে অচিরেই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

​শুনানির শুরুতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আগের রিমান্ডে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য আদালতে তুলে ধরেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

তারা জানান, এই হত্যা মামলায় ইতোমধ্যে দু'জনের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে এসেছে এবং তারা জিজ্ঞাসাবাদের সময় বিভিন্ন সময়ে একেক রকম অসংলগ্ন বক্তব্য দিচ্ছেন। ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে তাদের আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।

​এর আগে গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালতে নিহত তাহসিফের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। চার দিনের রিমান্ড শেষে তাকে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিল পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত দীপের আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ওই শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অবস্থানের সময় দীপ প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য অন্যদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যান। ঠিক ওই সময়ে তিনি কোথায় গিয়েছিলেন এবং কার সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ বা কথা বলেছিলেন, তা উদ্ঘাটন করা অত্যন্ত জরুরি। সিসিটিভি ফুটেজ, মুঠোফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড বা সিডিআর এবং আসামিদের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য যাচাই করতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

​অন্যদিকে আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

গ্রেফতার তরুণীর আইনজীবী জানান, তার মক্কেলকে কেবল সন্দেহের বশে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং নিহত তাহসিফ নিজেই তাকে সুস্থভাবে বাসায় পৌঁছে দিয়েছিলেন। তাদের পারস্পরিক সম্পর্কে কোনো সমস্যা থাকলে এমনটি ঘটার কথা নয় বলে তিনি দাবি করেন।

একই সঙ্গে আসামির নারী ও ছাত্রী পরিচয় বিবেচনায় নিয়ে আদালতের কাছে রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন জানান তিনি।

এছাড়া নিহত তাহসিফের বন্ধু দীপের আইনজীবী জানান, তার মক্কেল আগের চার দিনের রিমান্ডে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য দিয়েছেন, ফলে নতুন করে আবার রিমান্ড চাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত ওই তরুণী ও দীপ; উভয়কেই আলাদাভাবে তিন দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।

​এর আগে, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনার দেশত্যাগের 'একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার বা ধারণ করেছিলেন' সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। ওই ভিডিওটি প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। তবে এই ভিডিও ধারণ বা প্রকাশের সঙ্গে তাহসিফ হত্যাকাণ্ডের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।

গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় নিজ বাসা থেকে বের হওয়ার পর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন সাবেক বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি। এর পরের দিন ২৮ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর নিকটবর্তী তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিহতের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম বাদী হয়ে উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলাটির সব কটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে এর নেপথ্যে থাকা আসল সত্য উন্মোচন করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


তাহসিফ হত্যা: শেখ হাসিনার পালানোর ভিডিওর যোগসূত্র খুঁজছে তদন্ত সংস্থা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

​বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যার পেছনে অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে তদন্ত সংস্থা।

নিহত তাহসিফের 'শেয়ার করা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হেলিকপ্টারে দেশত্যাগের ভিডিও' এবং তার কাছে সেদিনের অন্য কোনো ভিডিও ফুটেজ বা তথ্য সংরক্ষিত ছিল কি না, তা এখন বিশেষ তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতে এক নারী আসামির পুনরায় রিমান্ড শুনানির সময় সাংবাদিকদের এসব কথা জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

​এদিন আদালতে তাহসিফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার ওই তরুণীর রিমান্ড শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি বলেন, তাহসিফের ধারণ বা শেয়ার করা ভিডিওটি দেশের সাধারণ মানুষের কাছে শেখ হাসিনার হেলিকপ্টারে দেশত্যাগের আসল দৃশ্য ফুটিয়ে তুলতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এই ভিডিও প্রকাশের জেরে তার ওপর কোনো ধরনের ক্ষোভ বা ষড়যন্ত্রের সৃষ্টি হয়েছিল কি না, সেটিও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তা কোনো একটিমাত্র বিষয়কে প্রাধান্য না দিয়ে তাহসিফের ওই ভিডিও, সেদিনের অন্য কোনো ঘটনার ফুটেজ এবং এসবের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। এর মাধ্যমে অচিরেই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

​শুনানির শুরুতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আগের রিমান্ডে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য আদালতে তুলে ধরেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

তারা জানান, এই হত্যা মামলায় ইতোমধ্যে দু'জনের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে এসেছে এবং তারা জিজ্ঞাসাবাদের সময় বিভিন্ন সময়ে একেক রকম অসংলগ্ন বক্তব্য দিচ্ছেন। ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে তাদের আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।

​এর আগে গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালতে নিহত তাহসিফের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। চার দিনের রিমান্ড শেষে তাকে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিল পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত দীপের আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ওই শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অবস্থানের সময় দীপ প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য অন্যদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যান। ঠিক ওই সময়ে তিনি কোথায় গিয়েছিলেন এবং কার সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ বা কথা বলেছিলেন, তা উদ্ঘাটন করা অত্যন্ত জরুরি। সিসিটিভি ফুটেজ, মুঠোফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড বা সিডিআর এবং আসামিদের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য যাচাই করতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

​অন্যদিকে আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

গ্রেফতার তরুণীর আইনজীবী জানান, তার মক্কেলকে কেবল সন্দেহের বশে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং নিহত তাহসিফ নিজেই তাকে সুস্থভাবে বাসায় পৌঁছে দিয়েছিলেন। তাদের পারস্পরিক সম্পর্কে কোনো সমস্যা থাকলে এমনটি ঘটার কথা নয় বলে তিনি দাবি করেন।

একই সঙ্গে আসামির নারী ও ছাত্রী পরিচয় বিবেচনায় নিয়ে আদালতের কাছে রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন জানান তিনি।

এছাড়া নিহত তাহসিফের বন্ধু দীপের আইনজীবী জানান, তার মক্কেল আগের চার দিনের রিমান্ডে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য দিয়েছেন, ফলে নতুন করে আবার রিমান্ড চাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত ওই তরুণী ও দীপ; উভয়কেই আলাদাভাবে তিন দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।

​এর আগে, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনার দেশত্যাগের 'একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার বা ধারণ করেছিলেন' সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। ওই ভিডিওটি প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। তবে এই ভিডিও ধারণ বা প্রকাশের সঙ্গে তাহসিফ হত্যাকাণ্ডের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।

গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় নিজ বাসা থেকে বের হওয়ার পর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন সাবেক বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি। এর পরের দিন ২৮ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর নিকটবর্তী তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিহতের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম বাদী হয়ে উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলাটির সব কটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে এর নেপথ্যে থাকা আসল সত্য উন্মোচন করা হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত