সংবাদ

আগাম সবজি চাষে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকেরা


প্রতিনিধি, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)
প্রতিনিধি, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)
প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১০ পিএম

আগাম সবজি চাষে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকেরা
ছবি : সংবাদ

সারাদেশেই চাহিদা রয়েছে মানিকগঞ্জে উৎপাদিত সবজির। জেলাটির সদর, ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয়, সাটুরিয়া, সিঙ্গাইর ও হরিরামপুর উপজেলার ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, পেঁপে, করলা, লাউ ও শিম সুস্বাদু হওয়ায় এর সুনাম দেশজুড়ে। বাজারে আগাম সবজির দাম ও চাহিদা দুটিই বেশি থাকায় এবার মানিকগঞ্জের কৃষকেরা আগাম চাষে ঝোঁক বাড়িয়েছেন।

বিশেষ করে সাটুরিয়া উপজেলার আয়ড়মারা এলাকায় চলতি মৌসুমে ব্যাপক হারে আগাম ফুলকপির চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হওয়ায় খুশিতে মুখে হাসি ফুটেছে কৃষকদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাটুরিয়ার মাঠের পর মাঠ এখন ফুলকপির সবুজ পাতায় ভরে গেছে। আর কিছুদিন পর থেকেই ধবধবে সাদা ফুলকপিতে রূপ নেবে এই খেতগুলো।

আয়ড়মারা এলাকার কৃষক বশির আহমেদ জানান, মানিকগঞ্জ সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত হলেও ফুলকপিতে মুনাফা বেশি পাওয়া যায়। আগাম ফুলকপি সাধারণ সময়ের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি দামে বিক্রি করা সম্ভব হয়। তিনি জানান, এ বছর ৭ বিঘা জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। বাজারদর ভালো থাকলে প্রতি বিঘায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করা সম্ভব হবে। ঢাকার কারওয়ান বাজার, বাইপাইল ও যাত্রাবাড়ীর আড়ত থেকে ব্যাপারিরা এসে খেত থেকেই এসব সবজি কিনে নিয়ে যান।

একই এলাকার কৃষক মজিবর রহমান বলেন, বিদেশে গিয়ে হতাশ হয়ে দেশে ফিরে সবজি চাষ শুরু করেছিলেন। এখন তিনি স্বাবলম্বী। তবে সবজির ভালো দাম পেলেও বীজ, সার ও কীটনাশকের চড়া দাম এবং সিন্ডিকেটের কারণে কাঙ্ক্ষিত লাভের অংশ কমে যাচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

মানিকগঞ্জের কাঁচামালের আড়তদার বদরউদ্দিন জানান, বাজারে মানিকগঞ্জের ফুলকপির চাহিদা এতই বেশি যে এটি থাকলে অন্য কোনো জেলার সবজি কেনাবেচা হয় না বললেই চলে। স্থানীয় সবজির দর ও মান দুটোই চড়া থাকে।

এদিকে রংপুর থেকে মানিকগঞ্জে কাজের সন্ধানে আসা কৃষি শ্রমিক দিদারুল ও মঞ্জু জানান, প্রতিবছর এই মৌসুমে মজুরি ও খাবারের সুবিধা ভালো থাকায় তারা মানিকগঞ্জের কৃষিকাজে আসেন। এখানকার কাজের পরিবেশ ও আয় তাদের জন্য সুবিধাজনক।

মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং সঠিক পরামর্শ দেওয়ায় খেতে পোকামাকড়ের আক্রমণ হয়নি। চলতি মৌসুমে জেলায় ৯ হাজার ৩৮২ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতেই রয়েছে আগাম সবজি। লাভ বেশি হওয়ায় মানিকগঞ্জে দিন দিন আগাম সবজি চাষের পরিধি বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


আগাম সবজি চাষে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকেরা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

সারাদেশেই চাহিদা রয়েছে মানিকগঞ্জে উৎপাদিত সবজির। জেলাটির সদর, ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয়, সাটুরিয়া, সিঙ্গাইর ও হরিরামপুর উপজেলার ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, পেঁপে, করলা, লাউ ও শিম সুস্বাদু হওয়ায় এর সুনাম দেশজুড়ে। বাজারে আগাম সবজির দাম ও চাহিদা দুটিই বেশি থাকায় এবার মানিকগঞ্জের কৃষকেরা আগাম চাষে ঝোঁক বাড়িয়েছেন।

বিশেষ করে সাটুরিয়া উপজেলার আয়ড়মারা এলাকায় চলতি মৌসুমে ব্যাপক হারে আগাম ফুলকপির চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হওয়ায় খুশিতে মুখে হাসি ফুটেছে কৃষকদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাটুরিয়ার মাঠের পর মাঠ এখন ফুলকপির সবুজ পাতায় ভরে গেছে। আর কিছুদিন পর থেকেই ধবধবে সাদা ফুলকপিতে রূপ নেবে এই খেতগুলো।

আয়ড়মারা এলাকার কৃষক বশির আহমেদ জানান, মানিকগঞ্জ সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত হলেও ফুলকপিতে মুনাফা বেশি পাওয়া যায়। আগাম ফুলকপি সাধারণ সময়ের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি দামে বিক্রি করা সম্ভব হয়। তিনি জানান, এ বছর ৭ বিঘা জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। বাজারদর ভালো থাকলে প্রতি বিঘায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করা সম্ভব হবে। ঢাকার কারওয়ান বাজার, বাইপাইল ও যাত্রাবাড়ীর আড়ত থেকে ব্যাপারিরা এসে খেত থেকেই এসব সবজি কিনে নিয়ে যান।

একই এলাকার কৃষক মজিবর রহমান বলেন, বিদেশে গিয়ে হতাশ হয়ে দেশে ফিরে সবজি চাষ শুরু করেছিলেন। এখন তিনি স্বাবলম্বী। তবে সবজির ভালো দাম পেলেও বীজ, সার ও কীটনাশকের চড়া দাম এবং সিন্ডিকেটের কারণে কাঙ্ক্ষিত লাভের অংশ কমে যাচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

মানিকগঞ্জের কাঁচামালের আড়তদার বদরউদ্দিন জানান, বাজারে মানিকগঞ্জের ফুলকপির চাহিদা এতই বেশি যে এটি থাকলে অন্য কোনো জেলার সবজি কেনাবেচা হয় না বললেই চলে। স্থানীয় সবজির দর ও মান দুটোই চড়া থাকে।

এদিকে রংপুর থেকে মানিকগঞ্জে কাজের সন্ধানে আসা কৃষি শ্রমিক দিদারুল ও মঞ্জু জানান, প্রতিবছর এই মৌসুমে মজুরি ও খাবারের সুবিধা ভালো থাকায় তারা মানিকগঞ্জের কৃষিকাজে আসেন। এখানকার কাজের পরিবেশ ও আয় তাদের জন্য সুবিধাজনক।

মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং সঠিক পরামর্শ দেওয়ায় খেতে পোকামাকড়ের আক্রমণ হয়নি। চলতি মৌসুমে জেলায় ৯ হাজার ৩৮২ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতেই রয়েছে আগাম সবজি। লাভ বেশি হওয়ায় মানিকগঞ্জে দিন দিন আগাম সবজি চাষের পরিধি বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত