দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজস্ব তেল পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। গুরুত্বপূর্ণ ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) দ্বিতীয় ইউনিট বাস্তবায়ন এক যুগের বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে। নানা উদ্যোগ, পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতির পরও প্রকল্পটির মূল কাজ শুরু করা যায়নি। সর্বশেষ প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পরামর্শক নিয়োগের আন্তর্জাতিক দরপত্র বাতিল করায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে প্রকল্পটি অন্তত ছয় মাস পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২০১২ সালে নেওয়া এ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা। সংশোধনের পর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি। অথচ এখনো প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। এই দীর্ঘসূত্রতা শুধু অর্থের অপচয় নয়, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগজনক। দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে বছরে অতিরিক্ত ৩০ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা সম্ভব হবে। এতে আমদানিনির্ভরতা কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ নিজস্ব সক্ষমতায় পূরণ করা যাবে।
প্রশ্ন হচ্ছে, কারিগরি মূল্যায়নে পাঁচটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকার পরও কেন দরপত্র বাতিল করতে হলো? স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা অবশ্যই জরুরি। কিন্তু সেই অজুহাতে বারবার পুরো প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু করা গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত। স্বার্থান্বেষী কোনো গোষ্ঠীর প্রভাব থাকলে সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থের এই প্রকল্প কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে আটকে থাকতে পারে না। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থেই এর দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজস্ব তেল পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। গুরুত্বপূর্ণ ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) দ্বিতীয় ইউনিট বাস্তবায়ন এক যুগের বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে। নানা উদ্যোগ, পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতির পরও প্রকল্পটির মূল কাজ শুরু করা যায়নি। সর্বশেষ প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পরামর্শক নিয়োগের আন্তর্জাতিক দরপত্র বাতিল করায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে প্রকল্পটি অন্তত ছয় মাস পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২০১২ সালে নেওয়া এ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা। সংশোধনের পর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি। অথচ এখনো প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। এই দীর্ঘসূত্রতা শুধু অর্থের অপচয় নয়, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগজনক। দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে বছরে অতিরিক্ত ৩০ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা সম্ভব হবে। এতে আমদানিনির্ভরতা কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ নিজস্ব সক্ষমতায় পূরণ করা যাবে।
প্রশ্ন হচ্ছে, কারিগরি মূল্যায়নে পাঁচটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকার পরও কেন দরপত্র বাতিল করতে হলো? স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা অবশ্যই জরুরি। কিন্তু সেই অজুহাতে বারবার পুরো প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু করা গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত। স্বার্থান্বেষী কোনো গোষ্ঠীর প্রভাব থাকলে সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থের এই প্রকল্প কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে আটকে থাকতে পারে না। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থেই এর দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন