সংবাদ

শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে চাই কার্যকর উদ্যোগ


প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১৭ এএম

শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে চাই কার্যকর উদ্যোগ

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গতকাল গাজীপুরের সফিপুর ও রাজধানীর মিরপুরে সড়ক অবরোধ করেছেন শ্রমিকেরা। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষও হয়েছে শ্রমিকদের। ভাঙচুর ও যান চলাচল বন্ধের কারণে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। কোনো কোনো কারখানায় শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছেন।

মজুরি বাড়ানোর দাবিতে বেশ কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকরা আন্দোলন করছেন। শ্রমিকরা বলছেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, বাড়িভাড়া, খাবারসহ প্রায় সবকিছুর দাম বেড়েছে। সেই তুলনায় তাদের আয় বাড়েনি। ফলে স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের ন্যায্য মজুরির দাবি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

সংশোধিত শ্রম আইনে শিল্প খাতের শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি ইতিবাচক উদ্যোগ।

তবে শুধু বোর্ড গঠন করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আস্থায় নিয়ে বোর্ডকে কাজ করতে হবে। মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বাস্তবসম্মত মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিতে হবে। মজুরি নির্ধারণে দীর্ঘসূত্রতা করা যাবে না। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান এই শিল্পে এমন অস্থিরতা কারও জন্যই ভালো নয়।

সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর কিংবা কারখানায় হামলা কোনো সমস্যার সমাধান নয়। এতে শ্রমিকদেরই কর্মসংস্থান ও আয় ঝুঁকিতে পড়ে। উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হলে দেশের রপ্তানি বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ না করে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি এবং শিল্পের স্থিতিশীলতা পরস্পরের বিরোধী নয়। বরং একটির সঙ্গে অন্যটি জড়িত। মালিক, শ্রমিক ও সরকারকে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানে পৌঁছাতে হবে। শ্রমিকের সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত না করে শিল্পের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে চাই কার্যকর উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গতকাল গাজীপুরের সফিপুর ও রাজধানীর মিরপুরে সড়ক অবরোধ করেছেন শ্রমিকেরা। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষও হয়েছে শ্রমিকদের। ভাঙচুর ও যান চলাচল বন্ধের কারণে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। কোনো কোনো কারখানায় শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছেন।

মজুরি বাড়ানোর দাবিতে বেশ কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকরা আন্দোলন করছেন। শ্রমিকরা বলছেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, বাড়িভাড়া, খাবারসহ প্রায় সবকিছুর দাম বেড়েছে। সেই তুলনায় তাদের আয় বাড়েনি। ফলে স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের ন্যায্য মজুরির দাবি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

সংশোধিত শ্রম আইনে শিল্প খাতের শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি ইতিবাচক উদ্যোগ।

তবে শুধু বোর্ড গঠন করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আস্থায় নিয়ে বোর্ডকে কাজ করতে হবে। মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বাস্তবসম্মত মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিতে হবে। মজুরি নির্ধারণে দীর্ঘসূত্রতা করা যাবে না। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান এই শিল্পে এমন অস্থিরতা কারও জন্যই ভালো নয়।

সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর কিংবা কারখানায় হামলা কোনো সমস্যার সমাধান নয়। এতে শ্রমিকদেরই কর্মসংস্থান ও আয় ঝুঁকিতে পড়ে। উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হলে দেশের রপ্তানি বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ না করে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি এবং শিল্পের স্থিতিশীলতা পরস্পরের বিরোধী নয়। বরং একটির সঙ্গে অন্যটি জড়িত। মালিক, শ্রমিক ও সরকারকে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানে পৌঁছাতে হবে। শ্রমিকের সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত না করে শিল্পের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত