রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে যানজট, বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি। অনেক রিকশার নেই নিবন্ধন, চালকদের নেই প্রশিক্ষণ। যেখানে-সেখানে চলাচল ও যাত্রী ওঠানামার কারণে অন্য যানবাহনের চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে সরকার যে নীতিমালা প্রকাশ করেছে, তা সময়োপযোগী। তবে নীতিমালা প্রকাশই যথেষ্ট নয়, এর সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
নতুন নীতিমালায় নিবন্ধন, নম্বর প্লেট, ফিটনেস, নির্দিষ্ট রুট, পার্কিং ও গতিসীমার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিবন্ধন ছাড়া কোনো ই-রিকশা চলতে পারবে না। জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে ও প্রধান বাস চলাচলের সড়কেও এসব যান নিষিদ্ধ থাকবে। ফুটপাত ব্যবহার এবং নিয়মবহির্ভূত ওভারটেকিংয়ের সুযোগ নেই। এসব বিধান কার্যকর হলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরতে পারে। যানবাহনের নিরাপত্তাও বাড়বে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। ব্যাটারিচালিত রিকশা বহু মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। হঠাৎ করে অনিবন্ধিত রিকশা বন্ধ করে দিলে চালক ও মালিকেরা বিপাকে পড়বেন। তাই নিবন্ধনপ্রক্রিয়া সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করতে হবে। প্রকৃত চালক ও মালিকদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। নিবন্ধনের নামে চাঁদাবাজি বা অনিয়মের সুযোগ রাখা যাবে না। চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করতে হবে।
রিকশার উপযোগী সড়ক ও রুট নির্ধারণ জরুরি। নির্দিষ্ট পার্কিং এবং অনুমোদিত চার্জিং পয়েন্ট গড়ে তুলতে হবে। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগও ইতিবাচক। তবে এসব সুবিধা নিশ্চিত না করে শুধু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সুফল পাওয়া যাবে না।
ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করাই সমাধান নয়, প্রয়োজন নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত চলাচল। সরকারকে নিয়মিত তদারকি করতে হবে। আইন ভাঙলে ব্যবস্থা নিতে হবে, আবার চালকদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। সড়কের শৃঙ্খলা ও মানুষের জীবিকা দুটির মধ্যে ভারসাম্য রেখেই এই নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে।

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে যানজট, বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি। অনেক রিকশার নেই নিবন্ধন, চালকদের নেই প্রশিক্ষণ। যেখানে-সেখানে চলাচল ও যাত্রী ওঠানামার কারণে অন্য যানবাহনের চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে সরকার যে নীতিমালা প্রকাশ করেছে, তা সময়োপযোগী। তবে নীতিমালা প্রকাশই যথেষ্ট নয়, এর সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
নতুন নীতিমালায় নিবন্ধন, নম্বর প্লেট, ফিটনেস, নির্দিষ্ট রুট, পার্কিং ও গতিসীমার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিবন্ধন ছাড়া কোনো ই-রিকশা চলতে পারবে না। জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে ও প্রধান বাস চলাচলের সড়কেও এসব যান নিষিদ্ধ থাকবে। ফুটপাত ব্যবহার এবং নিয়মবহির্ভূত ওভারটেকিংয়ের সুযোগ নেই। এসব বিধান কার্যকর হলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরতে পারে। যানবাহনের নিরাপত্তাও বাড়বে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। ব্যাটারিচালিত রিকশা বহু মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। হঠাৎ করে অনিবন্ধিত রিকশা বন্ধ করে দিলে চালক ও মালিকেরা বিপাকে পড়বেন। তাই নিবন্ধনপ্রক্রিয়া সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করতে হবে। প্রকৃত চালক ও মালিকদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। নিবন্ধনের নামে চাঁদাবাজি বা অনিয়মের সুযোগ রাখা যাবে না। চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করতে হবে।
রিকশার উপযোগী সড়ক ও রুট নির্ধারণ জরুরি। নির্দিষ্ট পার্কিং এবং অনুমোদিত চার্জিং পয়েন্ট গড়ে তুলতে হবে। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগও ইতিবাচক। তবে এসব সুবিধা নিশ্চিত না করে শুধু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সুফল পাওয়া যাবে না।
ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করাই সমাধান নয়, প্রয়োজন নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত চলাচল। সরকারকে নিয়মিত তদারকি করতে হবে। আইন ভাঙলে ব্যবস্থা নিতে হবে, আবার চালকদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। সড়কের শৃঙ্খলা ও মানুষের জীবিকা দুটির মধ্যে ভারসাম্য রেখেই এই নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন