সংবাদ

এইচএসসির ফলে ধস, শিখনব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করতে হবে


প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১৬ এএম

এইচএসসির ফলে ধস, শিখনব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করতে হবে

এবারের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ফল দেশের শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বল দিকগুলো নতুন করে সামনে এনেছে। পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত ২২ বছরের মধ্যে এ হার সর্বনিম্ন। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে প্রায় ২৯ হাজার। এমন ফল অবশ্যই উদ্বেগের। কেন এতসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হলো, তা খুঁজে বের করা জরুরি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, এবার খাতা মূল্যায়নে বাড়তি নম্বর দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় যা লিখেছে, সে অনুযায়ী নম্বর পেয়েছে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাতে হয়। প্রকৃত যোগ্যতা যাচাই না করে বেশি নম্বর দিলে শিক্ষার্থীর দুর্বলতা আড়ালেই থেকে যায়। তবে কঠোর মূল্যায়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শেখানোর ব্যবস্থাও মানসম্মত হতে হবে। শুধু পরীক্ষার খাতায় দুর্বলতা ধরা পড়লেই শিক্ষার মান বাড়বে না।

ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইংরেজি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং হিসাববিজ্ঞানে শিক্ষার্থীদের ফল খারাপ হয়েছে। এসব বিষয়ে দক্ষ শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের দুর্বলতা এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামের শিক্ষার্থীরা শহরের শিক্ষার্থীদের তুলনায় বেশি পিছিয়ে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির শিক্ষক নেই, নেই প্রয়োজনীয় কম্পিউটার ও পরীক্ষাগার। ফলে একই প্রশ্নে পরীক্ষা হলেও সবার শেখার সুযোগ সমান হচ্ছে না।

এ অবস্থায় দায় শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানো যাবে না। শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, নিয়মিত পাঠদান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই ইংরেজি ও গণিতের ভিত্তি মজবুত করতে হবে। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শেখার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এবারের ফলকে শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা সংশোধনের সুযোগ হিসেবে নিতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


এইচএসসির ফলে ধস, শিখনব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করতে হবে

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

এবারের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ফল দেশের শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বল দিকগুলো নতুন করে সামনে এনেছে। পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত ২২ বছরের মধ্যে এ হার সর্বনিম্ন। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে প্রায় ২৯ হাজার। এমন ফল অবশ্যই উদ্বেগের। কেন এতসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হলো, তা খুঁজে বের করা জরুরি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, এবার খাতা মূল্যায়নে বাড়তি নম্বর দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় যা লিখেছে, সে অনুযায়ী নম্বর পেয়েছে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাতে হয়। প্রকৃত যোগ্যতা যাচাই না করে বেশি নম্বর দিলে শিক্ষার্থীর দুর্বলতা আড়ালেই থেকে যায়। তবে কঠোর মূল্যায়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শেখানোর ব্যবস্থাও মানসম্মত হতে হবে। শুধু পরীক্ষার খাতায় দুর্বলতা ধরা পড়লেই শিক্ষার মান বাড়বে না।

ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইংরেজি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং হিসাববিজ্ঞানে শিক্ষার্থীদের ফল খারাপ হয়েছে। এসব বিষয়ে দক্ষ শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের দুর্বলতা এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামের শিক্ষার্থীরা শহরের শিক্ষার্থীদের তুলনায় বেশি পিছিয়ে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির শিক্ষক নেই, নেই প্রয়োজনীয় কম্পিউটার ও পরীক্ষাগার। ফলে একই প্রশ্নে পরীক্ষা হলেও সবার শেখার সুযোগ সমান হচ্ছে না।

এ অবস্থায় দায় শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানো যাবে না। শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, নিয়মিত পাঠদান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই ইংরেজি ও গণিতের ভিত্তি মজবুত করতে হবে। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শেখার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এবারের ফলকে শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা সংশোধনের সুযোগ হিসেবে নিতে হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত