সংবাদ

ভোক্তা কি নির্ধারিত দরে এলপিজি পাবেন?


প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম

ভোক্তা কি নির্ধারিত দরে এলপিজি পাবেন?

রান্নার জ্বালানি হিসেবে দেশের বিপুলসংখ্যক পরিবার এখন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে এটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে পরিণত হয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে বেসরকারি খাতের ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। দুই মাসে দাম বেড়েছে ৪৭৫ টাকা। এতে সাধারণ মানুষের সংসার খরচে নতুন চাপ তৈরি হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বেড়েছে, এটি সত্য। সৌদি আরামকোর ঘোষিত দাম বাড়ার কারণে ১২ কেজির সিলিন্ডারে প্রায় ৭৪ টাকা বাড়ার কথা জানিয়েছে বিইআরসি। তবে দেশে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হল ২২৩ টাকা। কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের চেয়েও ৮৪ টাকা বেশি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। কেন এই অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা কমিশন দেয়নি। নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে এমন অস্পষ্টতা প্রত্যাশিত নয়।

উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বাজারে দীর্ঘদিন ধরে এলপিজির সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। আমদানি কম না হলেও বাজারে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা দিয়েও অনেক ভোক্তাকে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। একদিকে দাম বাড়ছে, অন্যদিকে সরবরাহের নিশ্চয়তা নেই। সরকারি এলপিজির দামও এক মাসে প্রায় ১৩৯ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

এলপিজির দাম নির্ধারণ করাই বিইআরসির একমাত্র দায়িত্ব নয়, নির্ধারিত দামে তা বিক্রি নিশ্চিত করাও জরুরি। সরকার ও কমিশনকে বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে। সরবরাহ সংকটের কারণ অনুসন্ধান করে মজুতদারি ও অতিরিক্ত দাম আদায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মূল্য নির্ধারণের প্রতিটি হিসাব জনসমক্ষে স্পষ্ট করতে হবে। জ্বালানির বাজারে ব্যবসায়ীদের স্বার্থের পাশাপাশি ভোক্তার সামর্থ্য ও অধিকারকেও গুরুত্ব দিতে হবে। নইলে এলপিজির বাড়তি দাম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


ভোক্তা কি নির্ধারিত দরে এলপিজি পাবেন?

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

রান্নার জ্বালানি হিসেবে দেশের বিপুলসংখ্যক পরিবার এখন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে এটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে পরিণত হয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে বেসরকারি খাতের ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। দুই মাসে দাম বেড়েছে ৪৭৫ টাকা। এতে সাধারণ মানুষের সংসার খরচে নতুন চাপ তৈরি হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বেড়েছে, এটি সত্য। সৌদি আরামকোর ঘোষিত দাম বাড়ার কারণে ১২ কেজির সিলিন্ডারে প্রায় ৭৪ টাকা বাড়ার কথা জানিয়েছে বিইআরসি। তবে দেশে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হল ২২৩ টাকা। কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের চেয়েও ৮৪ টাকা বেশি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। কেন এই অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা কমিশন দেয়নি। নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে এমন অস্পষ্টতা প্রত্যাশিত নয়।

উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বাজারে দীর্ঘদিন ধরে এলপিজির সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। আমদানি কম না হলেও বাজারে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা দিয়েও অনেক ভোক্তাকে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। একদিকে দাম বাড়ছে, অন্যদিকে সরবরাহের নিশ্চয়তা নেই। সরকারি এলপিজির দামও এক মাসে প্রায় ১৩৯ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

এলপিজির দাম নির্ধারণ করাই বিইআরসির একমাত্র দায়িত্ব নয়, নির্ধারিত দামে তা বিক্রি নিশ্চিত করাও জরুরি। সরকার ও কমিশনকে বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে। সরবরাহ সংকটের কারণ অনুসন্ধান করে মজুতদারি ও অতিরিক্ত দাম আদায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মূল্য নির্ধারণের প্রতিটি হিসাব জনসমক্ষে স্পষ্ট করতে হবে। জ্বালানির বাজারে ব্যবসায়ীদের স্বার্থের পাশাপাশি ভোক্তার সামর্থ্য ও অধিকারকেও গুরুত্ব দিতে হবে। নইলে এলপিজির বাড়তি দাম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত