যে বয়সে একজন তরুণের নতুন স্বপ্ন দেখার কথা, সেই বয়সেই কেন কেউ কেউ জীবনের প্রতি আশা হারিয়ে ফেলে? একটি পরীক্ষায় ব্যর্থতা কি এতটাই বড় যে, তার কাছে জীবনের অন্য সব সম্ভাবনা ম্লান হয়ে যায়?
সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর কয়েকজন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার সামগ্রিক চিত্র উদ্বেগজনক। আঁচল ফাউন্ডেশনের সংবাদমাধ্যমভিত্তিক সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৫১৩ জন, ২০২৪ সালে ৩১০ জন এবং ২০২৫ সালে ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর পাওয়া যায়। ২০২৫ সালে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল স্কুলপর্যায়ের। এসব তথ্য শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস ও সফলতা-ব্যর্থতা সম্পর্কে ধারণা গড়ে ওঠে পরিবার ও সমাজের মধ্যেই। ছোটবেলা থেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা, ফলাফলের ভিত্তিতে বিচার এবং ব্যর্থতার জন্য তিরস্কার তাদের মধ্যে হীনম্মন্যতা তৈরি করতে পারে। তবে আত্মহত্যার পেছনে একটিমাত্র কারণ থাকে না। মানসিক অবসাদ, পারিবারিক সমস্যা, পড়াশোনার চাপ, একাকিত্ব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানিসহ নানা বিষয় এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
এই সংকট মোকাবিলায় পরিবারকে পরীক্ষার ফলের চেয়ে সন্তানের মানসিক সুস্থতা ও প্রচেষ্টাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। ব্যর্থতার সময় তিরস্কার না করে পাশে দাঁড়াতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষিত পরামর্শক ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি পুনরায় পরীক্ষা, ফল পুনর্নিরীক্ষণ এবং কারিগরি শিক্ষার মতো বিকল্প সুযোগ সহজলভ্য করতে হবে।
একজন শিক্ষার্থীর পরিচয় কখনোই তার পরীক্ষার ফল দিয়ে নির্ধারিত হতে পারে না। ব্যর্থতাকে অপমানের বিষয় হিসেবে দেখার সামাজিক মানসিকতা বদলাতে হবে। এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী ব্যর্থতার পরও নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস পায়। কারণ, একটি পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া মানে জীবনে ব্যর্থ হওয়া নয়।
খালিদ হাসান

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
যে বয়সে একজন তরুণের নতুন স্বপ্ন দেখার কথা, সেই বয়সেই কেন কেউ কেউ জীবনের প্রতি আশা হারিয়ে ফেলে? একটি পরীক্ষায় ব্যর্থতা কি এতটাই বড় যে, তার কাছে জীবনের অন্য সব সম্ভাবনা ম্লান হয়ে যায়?
সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর কয়েকজন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার সামগ্রিক চিত্র উদ্বেগজনক। আঁচল ফাউন্ডেশনের সংবাদমাধ্যমভিত্তিক সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৫১৩ জন, ২০২৪ সালে ৩১০ জন এবং ২০২৫ সালে ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর পাওয়া যায়। ২০২৫ সালে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল স্কুলপর্যায়ের। এসব তথ্য শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস ও সফলতা-ব্যর্থতা সম্পর্কে ধারণা গড়ে ওঠে পরিবার ও সমাজের মধ্যেই। ছোটবেলা থেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা, ফলাফলের ভিত্তিতে বিচার এবং ব্যর্থতার জন্য তিরস্কার তাদের মধ্যে হীনম্মন্যতা তৈরি করতে পারে। তবে আত্মহত্যার পেছনে একটিমাত্র কারণ থাকে না। মানসিক অবসাদ, পারিবারিক সমস্যা, পড়াশোনার চাপ, একাকিত্ব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানিসহ নানা বিষয় এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
এই সংকট মোকাবিলায় পরিবারকে পরীক্ষার ফলের চেয়ে সন্তানের মানসিক সুস্থতা ও প্রচেষ্টাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। ব্যর্থতার সময় তিরস্কার না করে পাশে দাঁড়াতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষিত পরামর্শক ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি পুনরায় পরীক্ষা, ফল পুনর্নিরীক্ষণ এবং কারিগরি শিক্ষার মতো বিকল্প সুযোগ সহজলভ্য করতে হবে।
একজন শিক্ষার্থীর পরিচয় কখনোই তার পরীক্ষার ফল দিয়ে নির্ধারিত হতে পারে না। ব্যর্থতাকে অপমানের বিষয় হিসেবে দেখার সামাজিক মানসিকতা বদলাতে হবে। এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী ব্যর্থতার পরও নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস পায়। কারণ, একটি পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া মানে জীবনে ব্যর্থ হওয়া নয়।
খালিদ হাসান

আপনার মতামত লিখুন