সংবাদ

নাপিতখালী সেতুর নির্মাণকাজ ছয় মাস বন্ধ


প্রতিনিধি, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
প্রতিনিধি, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম

নাপিতখালী সেতুর নির্মাণকাজ ছয় মাস বন্ধ
পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার জলাবাড়ী ইউনিয়নে নাপিতখালী সেতুর নির্মাণকাজ প্রায় ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৭৯ দশমিক ৪২ মিটার দীর্ঘ সেতুটির পাইলিং ছাড়া দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

প্রকল্পের মেয়াদের অর্ধেকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কাজের এমন ধীরগতিতে নির্ধারিত সময়ে সেতু নির্মাণ শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। অন্যদিকে পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। নতুন সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় তাদের দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সেতুর কাজের অগ্রগতি নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, এ পর্যন্ত ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর দাবি, কাজের অগ্রগতি ৪০ শতাংশ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যতটুকু কাজ হয়েছে, সেই অনুপাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৪০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

সওজের পিরোজপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নেছারাবাদ-স্বরূপকাঠি থেকে পিরোজপুর সড়কের নাপিতখালী এলাকার খালের ওপর থাকা পুরোনো সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় এর পাশে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। চলতি বছরের ৯ মার্চ পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ) আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

২২ কোটি টাকার এ প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স। ১৭ মাস মেয়াদি প্রকল্পটির কাজ ২০২৭ সালের ৭ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফরিদ শেখ বলেন, ‘বর্তমান সেতুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাশে নতুন সেতুর কাজ শুরু হলেও দুই-তিন মাস পর তা বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে কাজ চলতে থাকলে সেতুর নির্মাণকাজ কবে শেষ হবে, তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত।

জলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মেহেদী সরোয়ার বলেন, সড়কপথে উপজেলার সঙ্গে জেলা শহরের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই সেতু। পুরোনো সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কিছু কাজের পর তা বন্ধ রয়েছে।

নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্সের প্রতিনিধি পরিচয়ে গৌতম সাহা বলেন, ‘খালে পানির অতিরিক্ত স্রোতের কারণে প্রায় পাঁচ মাস কাজ বন্ধ ছিল। আগামী কালীপূজার পর আবার কাজ শুরু হবে। শ্রমিকদের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। সেতুর জন্য নির্ধারিত ৬৮টি পাইলের মধ্যে ৪৮টি স্থাপন করা হয়েছে। বাকি পাইলগুলো পর্যায়ক্রমে বসানো হবে। তবে পুরো সেতুর কাজ শেষ হতে আরও প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. মাসুদ খান বলেন, সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নেই। এ কারণে স্থানীয় জমির মালিকদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে জমির ব্যবস্থা করতে সময় লেগেছে।

পাশাপাশি খালে পানির অতিরিক্ত স্রোতের কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি। সব মিলিয়ে পাঁচ থেকে ছয় মাস কাজ বন্ধ ছিল। তবে এ পর্যন্ত ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার আশা করছেন তারা।

এ বিষয়ে পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল বলেন, ‘খালে পানির স্রোত বেশি থাকায় কাজ বন্ধ রয়েছে। ২০২৭ সালের ৭ জুলাই সেতুটির নির্মাণকাজের মেয়াদ শেষ হবে। এ পর্যন্ত ৪০ শতাংশ কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। যতটুকু কাজ হয়েছে, সেই কাজের বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


নাপিতখালী সেতুর নির্মাণকাজ ছয় মাস বন্ধ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার জলাবাড়ী ইউনিয়নে নাপিতখালী সেতুর নির্মাণকাজ প্রায় ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৭৯ দশমিক ৪২ মিটার দীর্ঘ সেতুটির পাইলিং ছাড়া দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

প্রকল্পের মেয়াদের অর্ধেকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কাজের এমন ধীরগতিতে নির্ধারিত সময়ে সেতু নির্মাণ শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। অন্যদিকে পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। নতুন সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় তাদের দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সেতুর কাজের অগ্রগতি নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, এ পর্যন্ত ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর দাবি, কাজের অগ্রগতি ৪০ শতাংশ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যতটুকু কাজ হয়েছে, সেই অনুপাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৪০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

সওজের পিরোজপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নেছারাবাদ-স্বরূপকাঠি থেকে পিরোজপুর সড়কের নাপিতখালী এলাকার খালের ওপর থাকা পুরোনো সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় এর পাশে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। চলতি বছরের ৯ মার্চ পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ) আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

২২ কোটি টাকার এ প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স। ১৭ মাস মেয়াদি প্রকল্পটির কাজ ২০২৭ সালের ৭ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফরিদ শেখ বলেন, ‘বর্তমান সেতুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাশে নতুন সেতুর কাজ শুরু হলেও দুই-তিন মাস পর তা বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে কাজ চলতে থাকলে সেতুর নির্মাণকাজ কবে শেষ হবে, তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত।

জলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মেহেদী সরোয়ার বলেন, সড়কপথে উপজেলার সঙ্গে জেলা শহরের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই সেতু। পুরোনো সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কিছু কাজের পর তা বন্ধ রয়েছে।

নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্সের প্রতিনিধি পরিচয়ে গৌতম সাহা বলেন, ‘খালে পানির অতিরিক্ত স্রোতের কারণে প্রায় পাঁচ মাস কাজ বন্ধ ছিল। আগামী কালীপূজার পর আবার কাজ শুরু হবে। শ্রমিকদের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। সেতুর জন্য নির্ধারিত ৬৮টি পাইলের মধ্যে ৪৮টি স্থাপন করা হয়েছে। বাকি পাইলগুলো পর্যায়ক্রমে বসানো হবে। তবে পুরো সেতুর কাজ শেষ হতে আরও প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. মাসুদ খান বলেন, সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নেই। এ কারণে স্থানীয় জমির মালিকদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে জমির ব্যবস্থা করতে সময় লেগেছে।

পাশাপাশি খালে পানির অতিরিক্ত স্রোতের কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি। সব মিলিয়ে পাঁচ থেকে ছয় মাস কাজ বন্ধ ছিল। তবে এ পর্যন্ত ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার আশা করছেন তারা।

এ বিষয়ে পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল বলেন, ‘খালে পানির স্রোত বেশি থাকায় কাজ বন্ধ রয়েছে। ২০২৭ সালের ৭ জুলাই সেতুটির নির্মাণকাজের মেয়াদ শেষ হবে। এ পর্যন্ত ৪০ শতাংশ কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। যতটুকু কাজ হয়েছে, সেই কাজের বিল পরিশোধ করা হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত