সংবাদ

‘কেন শোনা হচ্ছে না ইউরোপের তরুণদের কণ্ঠ’


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০০ পিএম

‘কেন শোনা হচ্ছে না ইউরোপের তরুণদের কণ্ঠ’
ছবি : সংগৃহীত

জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেহাল দশা, সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে মতামত উপেক্ষার তীব্র অভিযোগে জার্মানিতে এক বিশাল গণবিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম। দেশটির প্রায় ৩০টি শহরে একযোগে আয়োজিত হতে যাওয়া এই কর্মসূচিতে ইতিমধ্যে দেড় লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নিতে নিবন্ধন করেছেন।

বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও কোলনসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে পালিত হতে যাওয়া এই আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছে 'জেনজি রেগেল্ট!' নামক একটি তরুণ সংগঠন। বিক্ষোভ ঘিরে সম্ভাব্য সহিংসতা ও ভাঙচুরের আশঙ্কায় আগে থেকেই হাজার হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

আন্দোলনকারীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হলেও তরুণ প্রজন্মের সমস্যা সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়। এর বাইরে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও স্বাস্থ্যসেবাসহ জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন খাতে ধারাবাহিকভাবে সরকারি ব্যয় কমানো হচ্ছে।

অথচ এসব গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ, আকাঙ্ক্ষা ও মতামতকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করা হচ্ছে। নিজেদের একটি সম্পূর্ণ নির্দলীয় জোট হিসেবে পরিচয় দিয়ে আন্দোলনটির পক্ষ থেকে এক কড়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আমরা এমন তরুণ, যারা আর চুপচাপ বসে থাকতে চাই না। আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, অথচ আমাদের কথা মোটেও শোনা হচ্ছে না। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা যেদিকেই তাকাই শুধু গভীর সংকট দেখতে পাই, কিন্তু নিজেদের জন্য কোনো আশাব্যঞ্জক ভবিষ্যতের সম্ভাবনা খুব কমই দেখি।

আন্দোলনকারীদের আরও জোরালো দাবি, অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে কৃচ্ছ্রসাধন বা ব্যয় সংকোচনের বোঝা সরাসরি তরুণদের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। অথচ বৃহৎ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকই বিশাল মুনাফা করে চলেছে এবং অন্যদিকে নতুন করে অস্ত্রশস্ত্র তৈরির খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।

বিশেষ করে জার্মানির সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর সরকারি উদ্যোগ এবং নতুন স্বেচ্ছাসেবী সামরিক পরিষেবা মডেল চালুর পরিকল্পনা নিয়েও গভীর আপত্তি ও উদ্বেগ রয়েছে তাদের মাঝে। আন্দোলনকারীদের তীব্র আশঙ্কা, এই নীতির মাধ্যমে ভবিষ্যতে আবারও দেশে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বা সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদানের বিধান ফিরিয়ে আনা হতে পারে।

এদিকে ইউরোপের অন্য দেশগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ের বিক্ষোভগুলো আকস্মিক সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় জার্মান কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভের সময় দেশটিতে কয়েক বছরের মধ্যে ভয়াবহ দাঙ্গা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। হ্যালোইনের দিনে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য লুটপাট ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে বার্লিনের কিছু বিলাসবহুল গয়নার দোকান এবং পোশাকের বিপণি কেন্দ্রগুলো আগেভাগেই তাদের শোরুমের জানালা বন্ধ করে দিচ্ছে।

জার্মানির বিক্ষোভে বিদেশি উগ্রপন্থিরা যোগ দিতে পারে এমন আশঙ্কায় বার্লিন ফ্রান্স ও ইতালির নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে। ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা মার্ক হেনরিখমান হ্যান্ডেলসব্লাট পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সতর্ক করে বলেছেন, চরম বামপন্থি উগ্রবাদীদের নেটওয়ার্ক অত্যন্ত আন্তর্জাতিক ও সমন্বিত।

তবে জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ শিক্ষার্থী আন্দোলন এবং সেই বিক্ষোভকে অপব্যবহার করে সহিংসতা ছড়াতে পারে এমন উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করতে হবে। এখন পর্যন্ত সহিংসতার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্বয়ং আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকেও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

তাদের বিবৃতিতে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলা হয়েছে, উগ্রপন্থি গোষ্ঠী, সংবিধানবিরোধী প্রতীক, বর্ণবাদ ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের আমাদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিন্দুমাত্র জায়গা নেই, তা যে পক্ষ থেকেই আসুক না কেন।

বার্লিনের হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভ আন্দোলনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ক্রিশ্চিয়ান ফোল্ক বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, জার্মানিতে এক অভাবনীয় বড় বিক্ষোভ আন্দোলন গড়ে ওঠার সমস্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং এখানে প্রচণ্ড সামাজিক চাপ জমা হচ্ছে। তরুণেরা মূলত চাইছেন তাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা হোক। তবে ফ্রান্সের সঙ্গে জার্মানির বিক্ষোভের সংস্কৃতিতে বড় পার্থক্য রয়েছে বলেও মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ। তার মতে, সংঘাতমুখর বিক্ষোভ প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ফ্রান্সের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য জার্মানির তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


‘কেন শোনা হচ্ছে না ইউরোপের তরুণদের কণ্ঠ’

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেহাল দশা, সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে মতামত উপেক্ষার তীব্র অভিযোগে জার্মানিতে এক বিশাল গণবিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম। দেশটির প্রায় ৩০টি শহরে একযোগে আয়োজিত হতে যাওয়া এই কর্মসূচিতে ইতিমধ্যে দেড় লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নিতে নিবন্ধন করেছেন।

বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও কোলনসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে পালিত হতে যাওয়া এই আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছে 'জেনজি রেগেল্ট!' নামক একটি তরুণ সংগঠন। বিক্ষোভ ঘিরে সম্ভাব্য সহিংসতা ও ভাঙচুরের আশঙ্কায় আগে থেকেই হাজার হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

আন্দোলনকারীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হলেও তরুণ প্রজন্মের সমস্যা সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়। এর বাইরে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও স্বাস্থ্যসেবাসহ জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন খাতে ধারাবাহিকভাবে সরকারি ব্যয় কমানো হচ্ছে।

অথচ এসব গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ, আকাঙ্ক্ষা ও মতামতকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করা হচ্ছে। নিজেদের একটি সম্পূর্ণ নির্দলীয় জোট হিসেবে পরিচয় দিয়ে আন্দোলনটির পক্ষ থেকে এক কড়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আমরা এমন তরুণ, যারা আর চুপচাপ বসে থাকতে চাই না। আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, অথচ আমাদের কথা মোটেও শোনা হচ্ছে না। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা যেদিকেই তাকাই শুধু গভীর সংকট দেখতে পাই, কিন্তু নিজেদের জন্য কোনো আশাব্যঞ্জক ভবিষ্যতের সম্ভাবনা খুব কমই দেখি।

আন্দোলনকারীদের আরও জোরালো দাবি, অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে কৃচ্ছ্রসাধন বা ব্যয় সংকোচনের বোঝা সরাসরি তরুণদের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। অথচ বৃহৎ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকই বিশাল মুনাফা করে চলেছে এবং অন্যদিকে নতুন করে অস্ত্রশস্ত্র তৈরির খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।

বিশেষ করে জার্মানির সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর সরকারি উদ্যোগ এবং নতুন স্বেচ্ছাসেবী সামরিক পরিষেবা মডেল চালুর পরিকল্পনা নিয়েও গভীর আপত্তি ও উদ্বেগ রয়েছে তাদের মাঝে। আন্দোলনকারীদের তীব্র আশঙ্কা, এই নীতির মাধ্যমে ভবিষ্যতে আবারও দেশে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বা সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদানের বিধান ফিরিয়ে আনা হতে পারে।

এদিকে ইউরোপের অন্য দেশগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ের বিক্ষোভগুলো আকস্মিক সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় জার্মান কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভের সময় দেশটিতে কয়েক বছরের মধ্যে ভয়াবহ দাঙ্গা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। হ্যালোইনের দিনে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য লুটপাট ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে বার্লিনের কিছু বিলাসবহুল গয়নার দোকান এবং পোশাকের বিপণি কেন্দ্রগুলো আগেভাগেই তাদের শোরুমের জানালা বন্ধ করে দিচ্ছে।

জার্মানির বিক্ষোভে বিদেশি উগ্রপন্থিরা যোগ দিতে পারে এমন আশঙ্কায় বার্লিন ফ্রান্স ও ইতালির নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে। ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা মার্ক হেনরিখমান হ্যান্ডেলসব্লাট পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সতর্ক করে বলেছেন, চরম বামপন্থি উগ্রবাদীদের নেটওয়ার্ক অত্যন্ত আন্তর্জাতিক ও সমন্বিত।

তবে জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ শিক্ষার্থী আন্দোলন এবং সেই বিক্ষোভকে অপব্যবহার করে সহিংসতা ছড়াতে পারে এমন উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করতে হবে। এখন পর্যন্ত সহিংসতার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্বয়ং আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকেও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

তাদের বিবৃতিতে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলা হয়েছে, উগ্রপন্থি গোষ্ঠী, সংবিধানবিরোধী প্রতীক, বর্ণবাদ ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের আমাদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিন্দুমাত্র জায়গা নেই, তা যে পক্ষ থেকেই আসুক না কেন।

বার্লিনের হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভ আন্দোলনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ক্রিশ্চিয়ান ফোল্ক বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, জার্মানিতে এক অভাবনীয় বড় বিক্ষোভ আন্দোলন গড়ে ওঠার সমস্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং এখানে প্রচণ্ড সামাজিক চাপ জমা হচ্ছে। তরুণেরা মূলত চাইছেন তাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা হোক। তবে ফ্রান্সের সঙ্গে জার্মানির বিক্ষোভের সংস্কৃতিতে বড় পার্থক্য রয়েছে বলেও মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ। তার মতে, সংঘাতমুখর বিক্ষোভ প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ফ্রান্সের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য জার্মানির তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত