আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মী এবং সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শহীদ পরিবার ও ভুক্তভোগীদের মাঝে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এতদিন ধরে একাধিক মামলায় এমন রায় ঘোষণা করা হলেও তা বাস্তবায়নের গতি শ্লথ থাকায় জনমনে একধরনের সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবে এবার সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রায় কার্যকরে মাঠে নেমেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম।
পলাতক আসামিদের সব সম্পদ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিতে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রধান অভিযুক্ত শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, উদ্ধার ও বিক্রির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, দণ্ডিত কোনো আসামি যেন কোনোভাবেই নিজেদের স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি ভোগ, বিক্রয় বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করে আদালতের ঐতিহাসিক এই আদেশ নিষ্ফল করতে না পারেন, সে জন্য অনতিবিলম্বে তাদের সকল সম্পত্তির একটি নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দণ্ডিত আসামিদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের একাধিক রায়ে কেবল প্রধান দুই নেতাই নন, বরং চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যা মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ অন্যান্য আসামিদের সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ এবং আশুলিয়ায় মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সম্পত্তির একটি বড় অংশ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ এসেছে।
এ প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার নির্ধারিত ৩০ দিনের আইনি সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় আসামিরা এখন আর উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে রায় বাস্তবায়নে বর্তমানে আর কোনো আইনি জটিলতা বা বাধা নেই এবং দ্রুতই শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের হাতে ক্ষতিপূরণের অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর ও বিশিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায়ে সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ থাকলে তা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয় বরং তা কার্যকর করা রাষ্ট্রের জন্য শতভাগ বাধ্যতামূলক। কোনো আসামি পলাতক থাকলেও তার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনে কোনো বাধা থাকে না।
অন্যদিকে সিনিয়র আইনজীবী এস এম শাহজাহানও একই মত প্রকাশ করে বলেছেন, ট্রাইব্যুনালের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারে। সব মিলিয়ে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর এবার বাস্তবে এই রায় কার্যকর হওয়ার পথে থাকায় জুলাইয়ের শহীদের আত্মত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মী এবং সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শহীদ পরিবার ও ভুক্তভোগীদের মাঝে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এতদিন ধরে একাধিক মামলায় এমন রায় ঘোষণা করা হলেও তা বাস্তবায়নের গতি শ্লথ থাকায় জনমনে একধরনের সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবে এবার সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রায় কার্যকরে মাঠে নেমেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম।
পলাতক আসামিদের সব সম্পদ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিতে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রধান অভিযুক্ত শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, উদ্ধার ও বিক্রির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, দণ্ডিত কোনো আসামি যেন কোনোভাবেই নিজেদের স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি ভোগ, বিক্রয় বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করে আদালতের ঐতিহাসিক এই আদেশ নিষ্ফল করতে না পারেন, সে জন্য অনতিবিলম্বে তাদের সকল সম্পত্তির একটি নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দণ্ডিত আসামিদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের একাধিক রায়ে কেবল প্রধান দুই নেতাই নন, বরং চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যা মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ অন্যান্য আসামিদের সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ এবং আশুলিয়ায় মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সম্পত্তির একটি বড় অংশ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ এসেছে।
এ প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার নির্ধারিত ৩০ দিনের আইনি সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় আসামিরা এখন আর উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে রায় বাস্তবায়নে বর্তমানে আর কোনো আইনি জটিলতা বা বাধা নেই এবং দ্রুতই শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের হাতে ক্ষতিপূরণের অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর ও বিশিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায়ে সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ থাকলে তা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয় বরং তা কার্যকর করা রাষ্ট্রের জন্য শতভাগ বাধ্যতামূলক। কোনো আসামি পলাতক থাকলেও তার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনে কোনো বাধা থাকে না।
অন্যদিকে সিনিয়র আইনজীবী এস এম শাহজাহানও একই মত প্রকাশ করে বলেছেন, ট্রাইব্যুনালের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারে। সব মিলিয়ে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর এবার বাস্তবে এই রায় কার্যকর হওয়ার পথে থাকায় জুলাইয়ের শহীদের আত্মত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন