রংপুর মহানগরীর খামার মোড় এলাকায় ফুটপাতসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন। এ সময় ঘটনার ভিডিও ও ছবি ধারণ করতে গেলে এক নারী সাংবাদিকসহ পাঁচ সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। অভিযানে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে শতাধিক পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীরা বুলডোজার নিয়ে নগরীর খামার মোড় এবং খামার ও লালবাগ সড়কের দুই পাশে অবস্থিত অবৈধ স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেন। তবে আগাম কোনো নোটিশ না দিয়েই এ উচ্ছেদ অভিযান চালানোর অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘ ৩০ থেকে ৪০ বছর ধরে তারা ওই এলাকায় দোকান করে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। বুলডোজার দিয়ে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার সময় দোকানদার, ব্যবসায়ী ও তাদের স্বজনদের আর্তনাদে শোকাবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এখন তাদের ছেলেমেয়ে নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। একইসঙ্গে তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানেরও দাবি জানান ক্ষতিগ্রস্তরা।
খামার এলাকার ৩০ বছরের চা-বিস্কুটের দোকানদার মমতাজ বেগম অভিযোগ করেন, ‘আমরা ৩০ বছর ধরে খামার এলাকায় দোকান করে মেয়ে নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলাম। অথচ আগাম কোনো নোটিশ না দিয়ে পুলিশ নিয়ে সিটি করপোরেশন বুলডোজার চালিয়ে আমাদের দোকান গুঁড়িয়ে দিল।’
একই অভিযোগ করেন ২০ বছর ধরে পিয়াজু, জিলাপি ও বুট ভুনা বিক্রি করা শেফালী বেগম। তিনি বলেন, ‘আমাদের দোকানঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। একবার অন্তত আমাদের জানানো বা সময় দেওয়া উচিত ছিল।’
অভিযানের খবর সংগ্রহ এবং ভিডিও ও ছবি ধারণ করার সময় দোকানদার ও তাদের লোকজন আরএনবি নিউজের স্টাফ রিপোর্টার মাজহাবিন মৌ, সময় টিভির স্টাফ রিপোর্টার রেদওয়ান হিমেল, ঢাকা পোস্টের ফরহাদুজ্জামান ফারুক এবং খবরের কাগজের প্রতিনিধি সেলিম সরকারসহ পাঁচ সাংবাদিককে লাঞ্ছিত ও অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন। সাংবাদিকদের অভিযোগ, দফায় দফায় তাদের ওপর চড়াও হওয়া হলেও পুলিশ নীরবে দাঁড়িয়ে ছিল।
এদিকে, অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মোহাম্মদ সান জানান, রংপুর মহানগরীর ফুটপাতসহ সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে খামার মোড়ে এই অভিযান চালানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
রংপুর মহানগরীর খামার মোড় এলাকায় ফুটপাতসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন। এ সময় ঘটনার ভিডিও ও ছবি ধারণ করতে গেলে এক নারী সাংবাদিকসহ পাঁচ সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। অভিযানে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে শতাধিক পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীরা বুলডোজার নিয়ে নগরীর খামার মোড় এবং খামার ও লালবাগ সড়কের দুই পাশে অবস্থিত অবৈধ স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেন। তবে আগাম কোনো নোটিশ না দিয়েই এ উচ্ছেদ অভিযান চালানোর অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘ ৩০ থেকে ৪০ বছর ধরে তারা ওই এলাকায় দোকান করে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। বুলডোজার দিয়ে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার সময় দোকানদার, ব্যবসায়ী ও তাদের স্বজনদের আর্তনাদে শোকাবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এখন তাদের ছেলেমেয়ে নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। একইসঙ্গে তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানেরও দাবি জানান ক্ষতিগ্রস্তরা।
খামার এলাকার ৩০ বছরের চা-বিস্কুটের দোকানদার মমতাজ বেগম অভিযোগ করেন, ‘আমরা ৩০ বছর ধরে খামার এলাকায় দোকান করে মেয়ে নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলাম। অথচ আগাম কোনো নোটিশ না দিয়ে পুলিশ নিয়ে সিটি করপোরেশন বুলডোজার চালিয়ে আমাদের দোকান গুঁড়িয়ে দিল।’
একই অভিযোগ করেন ২০ বছর ধরে পিয়াজু, জিলাপি ও বুট ভুনা বিক্রি করা শেফালী বেগম। তিনি বলেন, ‘আমাদের দোকানঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। একবার অন্তত আমাদের জানানো বা সময় দেওয়া উচিত ছিল।’
অভিযানের খবর সংগ্রহ এবং ভিডিও ও ছবি ধারণ করার সময় দোকানদার ও তাদের লোকজন আরএনবি নিউজের স্টাফ রিপোর্টার মাজহাবিন মৌ, সময় টিভির স্টাফ রিপোর্টার রেদওয়ান হিমেল, ঢাকা পোস্টের ফরহাদুজ্জামান ফারুক এবং খবরের কাগজের প্রতিনিধি সেলিম সরকারসহ পাঁচ সাংবাদিককে লাঞ্ছিত ও অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন। সাংবাদিকদের অভিযোগ, দফায় দফায় তাদের ওপর চড়াও হওয়া হলেও পুলিশ নীরবে দাঁড়িয়ে ছিল।
এদিকে, অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মোহাম্মদ সান জানান, রংপুর মহানগরীর ফুটপাতসহ সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে খামার মোড়ে এই অভিযান চালানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

আপনার মতামত লিখুন