সংবাদ

ডেমোক্র্যাটদের হাতে কংগ্রেস, কী হবে ট্রাম্পের?


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম

ডেমোক্র্যাটদের হাতে কংগ্রেস, কী হবে ট্রাম্পের?
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনে জয় পেয়ে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এর মধ্য দিয়ে বারাক ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদের পর প্রথমবারের মতো কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের কোনো কক্ষেই নিজের দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারলেন না। 

ইতোমধ্যে কয়েকজন ডেমোক্র্যাট নেতা এই ফলাফলকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরাজয় হিসেবে তুলে ধরেছেন। ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, নির্বাচনী প্রচারে বিরোধীরা তার দলকে ছাড়িয়ে গেছে। ডেমোক্র্যাটরা কীভাবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেল এবং এই ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে তারা কী করতে পারে, তা নিয়ে এখন চলছে নানা বিশ্লেষণ।

সিনেটে বেশ কয়েকটি আসনে রিপাবলিকানদের হারিয়ে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এর মধ্যে এমন অনেক আসন রয়েছে, যেগুলোতে কয়েক দশক ধরে দলটি জিততে পারেনি।

জেমস তালারিকো, টেক্সাস: ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্প ১৪ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জিতেছিলেন। তবে এবার অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে ১১ শতাংশ পয়েন্টের বেশি ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছেন তালারিকো। ৩২ বছরের মধ্যে টেক্সাসে কোনো অঙ্গরাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয়ী হওয়া প্রথম ডেমোক্র্যাট তিনি।

অ্যাডাম হ্যামিলটন, কানসাস: ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া রিপাবলিকান প্রার্থী রজার মার্শালকে হারিয়েছেন তিনি। কানসাসে সর্বশেষ ১৯৩২ সালে সিনেটের আসনে জয় পেয়েছিল ডেমোক্র্যাটরা।

জশ তুরেক, আইওয়া: প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে চার শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন তুরেক।

অ্যানি অ্যান্ড্রুজ, সাউথ ক্যারোলাইনা: ট্রাম্পের মিত্র ও দীর্ঘদিনের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের আসনে অন্তত চার শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন অ্যান্ড্রুজ।

রয় কুপার, নর্থ ক্যারোলাইনা: রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক ওয়াটলিকে প্রায় ২০ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়েছেন কুপার।

ট্রয় জ্যাকসন, মেইন: রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসনটি নিজেদের করে নিয়েছেন জ্যাকসন। প্রায় সাত শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে সুসান কলিন্সকে হারিয়েছেন তিনি।

শেরড ব্রাউন, ওহাইও: রিপাবলিকান প্রার্থী জন হুস্টেডকে প্রায় চার শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়েছেন ব্রাউন।

আবদুল এল-সায়েদ, মিশিগান: ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন এল-সায়েদ। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হতে যাচ্ছেন তিনি।

৪৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজনীয় ২১৮টি আসন পেরিয়ে জয় নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা। এই জয়ের মধ্যে আগে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির দখলে থাকা কয়েকটি আসনও রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেল দলটি।

নির্বাচনে জয় পেলে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ডেমোক্র্যাটরা। তবে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সহজ হবে না।

আইন প্রণয়ন ও সরকারি ব্যয় অনুমোদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট। তবে কোনো কক্ষই এককভাবে সব সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। আবার দুই কক্ষের কিছু ক্ষমতা রয়েছে, যা অন্যটির নেই।

প্রেসিডেন্টের শীর্ষ সরকারি পদে মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগ অনুমোদনের একক ক্ষমতা সিনেটের। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের মনোনীত রাষ্ট্রদূত, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং ফেডারেল বিচারকদের নিয়োগ আটকে দিতে পারবে। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগও এর আওতায় পড়বে।

সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিভিন্ন কমিটির নিয়ন্ত্রণও পায়। এসব কমিটি তদন্ত শুরু করতে পারে, নথিপত্র তলব করতে পারে এবং সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারে। এ ছাড়া প্রতিনিধি পরিষদে কোনো প্রেসিডেন্ট বা শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা অভিশংসিত হলে তার বিচার পরিচালনার দায়িত্ব পড়ে সিনেটের ওপর।

সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতা বাড়াবে। তবে ডেমোক্র্যাটদের আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা। সোমবার এক পডকাস্টে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি সবকিছুতেই ভেটো দেব।’ এতে তার ভেটো ক্ষমতা ব্যাপকভাবে ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো লরা ব্লেসিং মনে করেন, ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস তদন্তের সাংবিধানিক ক্ষমতা সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করবে। তিনি বলেন, ‘সময় ব্যয় ও সংবাদপত্রের শিরোনামের হিসাবে ডেমোক্র্যাটরা সবচেয়ে বেশি তৎপরতা দেখাবে তদন্তের ক্ষেত্রেই।’

সিনেটের স্থায়ী তদন্তবিষয়ক উপকমিটিতে বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের জ্যেষ্ঠ সদস্য রিচার্ড ব্লুমেনথাল। নির্বাচনের ফলাফলের কারণে তিনি ওই কমিটির চেয়ারম্যান হতে পারেন। তিনি এর আগে বলেছিলেন, ‘আমরা অবশ্যই সমন জারির ক্ষমতা ব্যবহার করব।’

হোয়াইট হাউসের অনুমোদন ছাড়াই কংগ্রেস তদন্ত চালাতে পারে। ফলে এসব তদন্ত ট্রাম্পের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। গত দুই বছরে ট্রাম্পের পরিবার ক্রিপ্টোকারেন্সি, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রেডিকশন মার্কেটসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসার পরিধি বাড়িয়েছে। 

ডেমোক্র্যাট সিনেটররা ইতোমধ্যে এ ধরনের তদন্তের প্রস্তুতি শুরু করেছেন এবং বিভিন্ন কোম্পানি ও সরকারি দপ্তরে চিঠি পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে সবাই তদন্তে সহযোগিতা করবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে সিনেটের জারি করা সমন আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। এতে তদন্ত কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছর পিছিয়ে যেতে পারে।

এ কারণে কিছু ডেমোক্র্যাট নেতার মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্তে কতটা সময় ব্যয় করা উচিত, আর কতটা সময় দেওয়া উচিত ভোটারদের সরাসরি প্রভাবিত করে এমন ইস্যুগুলোতে। 

আগের দিন মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এক সাক্ষাৎকারে ডেমোক্র্যাট সিনেটর শেলডন হোয়াইটহাউস বলেন, ‘তদন্তের কাজ কোথায় পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা ও কৌশলী হতে হবে। একই সঙ্গে মার্কিন পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে এমন জরুরি ব্যয়সংকট সমাধানের কাজ থেকে যেন আমরা মনোযোগ হারিয়ে না ফেলি, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


ডেমোক্র্যাটদের হাতে কংগ্রেস, কী হবে ট্রাম্পের?

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনে জয় পেয়ে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এর মধ্য দিয়ে বারাক ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদের পর প্রথমবারের মতো কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের কোনো কক্ষেই নিজের দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারলেন না। 

ইতোমধ্যে কয়েকজন ডেমোক্র্যাট নেতা এই ফলাফলকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরাজয় হিসেবে তুলে ধরেছেন। ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, নির্বাচনী প্রচারে বিরোধীরা তার দলকে ছাড়িয়ে গেছে। ডেমোক্র্যাটরা কীভাবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেল এবং এই ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে তারা কী করতে পারে, তা নিয়ে এখন চলছে নানা বিশ্লেষণ।

সিনেটে বেশ কয়েকটি আসনে রিপাবলিকানদের হারিয়ে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এর মধ্যে এমন অনেক আসন রয়েছে, যেগুলোতে কয়েক দশক ধরে দলটি জিততে পারেনি।

জেমস তালারিকো, টেক্সাস: ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্প ১৪ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জিতেছিলেন। তবে এবার অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে ১১ শতাংশ পয়েন্টের বেশি ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছেন তালারিকো। ৩২ বছরের মধ্যে টেক্সাসে কোনো অঙ্গরাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয়ী হওয়া প্রথম ডেমোক্র্যাট তিনি।

অ্যাডাম হ্যামিলটন, কানসাস: ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া রিপাবলিকান প্রার্থী রজার মার্শালকে হারিয়েছেন তিনি। কানসাসে সর্বশেষ ১৯৩২ সালে সিনেটের আসনে জয় পেয়েছিল ডেমোক্র্যাটরা।

জশ তুরেক, আইওয়া: প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে চার শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন তুরেক।

অ্যানি অ্যান্ড্রুজ, সাউথ ক্যারোলাইনা: ট্রাম্পের মিত্র ও দীর্ঘদিনের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের আসনে অন্তত চার শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন অ্যান্ড্রুজ।

রয় কুপার, নর্থ ক্যারোলাইনা: রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক ওয়াটলিকে প্রায় ২০ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়েছেন কুপার।

ট্রয় জ্যাকসন, মেইন: রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসনটি নিজেদের করে নিয়েছেন জ্যাকসন। প্রায় সাত শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে সুসান কলিন্সকে হারিয়েছেন তিনি।

শেরড ব্রাউন, ওহাইও: রিপাবলিকান প্রার্থী জন হুস্টেডকে প্রায় চার শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়েছেন ব্রাউন।

আবদুল এল-সায়েদ, মিশিগান: ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন এল-সায়েদ। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হতে যাচ্ছেন তিনি।

৪৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজনীয় ২১৮টি আসন পেরিয়ে জয় নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা। এই জয়ের মধ্যে আগে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির দখলে থাকা কয়েকটি আসনও রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেল দলটি।

নির্বাচনে জয় পেলে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ডেমোক্র্যাটরা। তবে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সহজ হবে না।

আইন প্রণয়ন ও সরকারি ব্যয় অনুমোদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট। তবে কোনো কক্ষই এককভাবে সব সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। আবার দুই কক্ষের কিছু ক্ষমতা রয়েছে, যা অন্যটির নেই।

প্রেসিডেন্টের শীর্ষ সরকারি পদে মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগ অনুমোদনের একক ক্ষমতা সিনেটের। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের মনোনীত রাষ্ট্রদূত, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং ফেডারেল বিচারকদের নিয়োগ আটকে দিতে পারবে। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগও এর আওতায় পড়বে।

সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিভিন্ন কমিটির নিয়ন্ত্রণও পায়। এসব কমিটি তদন্ত শুরু করতে পারে, নথিপত্র তলব করতে পারে এবং সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারে। এ ছাড়া প্রতিনিধি পরিষদে কোনো প্রেসিডেন্ট বা শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা অভিশংসিত হলে তার বিচার পরিচালনার দায়িত্ব পড়ে সিনেটের ওপর।

সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতা বাড়াবে। তবে ডেমোক্র্যাটদের আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা। সোমবার এক পডকাস্টে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি সবকিছুতেই ভেটো দেব।’ এতে তার ভেটো ক্ষমতা ব্যাপকভাবে ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো লরা ব্লেসিং মনে করেন, ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস তদন্তের সাংবিধানিক ক্ষমতা সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করবে। তিনি বলেন, ‘সময় ব্যয় ও সংবাদপত্রের শিরোনামের হিসাবে ডেমোক্র্যাটরা সবচেয়ে বেশি তৎপরতা দেখাবে তদন্তের ক্ষেত্রেই।’

সিনেটের স্থায়ী তদন্তবিষয়ক উপকমিটিতে বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের জ্যেষ্ঠ সদস্য রিচার্ড ব্লুমেনথাল। নির্বাচনের ফলাফলের কারণে তিনি ওই কমিটির চেয়ারম্যান হতে পারেন। তিনি এর আগে বলেছিলেন, ‘আমরা অবশ্যই সমন জারির ক্ষমতা ব্যবহার করব।’

হোয়াইট হাউসের অনুমোদন ছাড়াই কংগ্রেস তদন্ত চালাতে পারে। ফলে এসব তদন্ত ট্রাম্পের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। গত দুই বছরে ট্রাম্পের পরিবার ক্রিপ্টোকারেন্সি, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রেডিকশন মার্কেটসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসার পরিধি বাড়িয়েছে। 

ডেমোক্র্যাট সিনেটররা ইতোমধ্যে এ ধরনের তদন্তের প্রস্তুতি শুরু করেছেন এবং বিভিন্ন কোম্পানি ও সরকারি দপ্তরে চিঠি পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে সবাই তদন্তে সহযোগিতা করবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে সিনেটের জারি করা সমন আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। এতে তদন্ত কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছর পিছিয়ে যেতে পারে।

এ কারণে কিছু ডেমোক্র্যাট নেতার মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্তে কতটা সময় ব্যয় করা উচিত, আর কতটা সময় দেওয়া উচিত ভোটারদের সরাসরি প্রভাবিত করে এমন ইস্যুগুলোতে। 

আগের দিন মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এক সাক্ষাৎকারে ডেমোক্র্যাট সিনেটর শেলডন হোয়াইটহাউস বলেন, ‘তদন্তের কাজ কোথায় পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা ও কৌশলী হতে হবে। একই সঙ্গে মার্কিন পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে এমন জরুরি ব্যয়সংকট সমাধানের কাজ থেকে যেন আমরা মনোযোগ হারিয়ে না ফেলি, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত