সংবাদ

ভূমিসেবায় ভোগান্তি দূর ও হয়রানি বন্ধে প্রশংসিত এসিল্যান্ড


প্রতিনিধি, চাঁদপুর
প্রতিনিধি, চাঁদপুর
প্রকাশ: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ০২:০০ পিএম

ভূমিসেবায় ভোগান্তি দূর ও হয়রানি বন্ধে প্রশংসিত এসিল্যান্ড
সেবা নিতে আসা লোকজনের সাথে কথা বলছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুর রহমান। ছবি : সংবাদ

সরকারি দপ্তর বলতেই সাধারণ মানুষের চোখে ভেসে ওঠে অনিয়ম, দীর্ঘসূত্রতা আর মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের চিত্র। তবে সেই পুরোনো ধারণা বদলে দিয়ে ভূমিসেবাকে সহজ, স্বচ্ছ ও শতভাগ জনবান্ধব করতে উদ্যোগী হয়েছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুর রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সেবাগ্রহীতাদের হয়রানিমুক্ত রাখা, বিশেষ করে অসহায়, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে ব্যতিক্রমী ভূমিকা পালন করছেন এই কর্মকর্তা।

জানা গেছে, ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন মো. আনিসুর রহমান। সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ইতিপূর্বে দায়িত্ব পালন করলেও এসিল্যান্ড হিসেবে এটিই তার প্রথম কর্মস্থল। যোগদানের শুরুতেই কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নতুন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকা সত্ত্বেও দ্রুত নতুন কর্মপরিবেশের সঙ্গে সমন্বয় এনে কার্যকর ও গতিশীল সেবাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

ভূমি কার্যালয়ে সেবাপ্রত্যাশীরা যাতে দালাল বা অসাধু চক্রের প্রতারণার শিকার না হন, সে বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন এসিল্যান্ড। সেবাগ্রহীতারা যাতে সরাসরি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেবা নিতে পারেন, কার্যালয়ে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে দ্রুত সেবা প্রদানে কড়া নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়া তিনি নিজেই তদারকি করছেন।

তার এই উদ্যোগের সুফল ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী ও দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই সহজে ভূমিসেবা পেয়েছেন বাক্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী আব্দুল মান্নান এবং বিধবা রহিমা বেগম। স্বল্প সময়ে প্রত্যাশিত সেবা পেয়ে আবেগাপ্লুত রহিমা বেগম ও আব্দুল মান্নানের পরিবার প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের মতে, সরকারি দপ্তরে মানবিক আচরণ ও আন্তরিকতা নিশ্চিত করা গেলে জনভোগান্তি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব, যা ফরিদগঞ্জে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

কেবল ভূমিসেবাই নয়, প্রশাসনিক অন্যান্য দায়িত্ব ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন এ কর্মকর্তা। গত ১২ অক্টোবর রূপসা উত্তর ইউনিয়নের পূর্ব বদরপুর এলাকায় অবৈধ ড্রেজার অপসারণে মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। পরবর্তীতে ১৮ অক্টোবর ফরিদগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বাজার তদারকি, পণ্যের মূল্যতালিকা টাঙানো, অবৈধ ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং যানজট নিরসনে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেন।

পাশাপাশি যুবসমাজকে ইতিবাচক ধারায় যুক্ত রাখতে খেলাধুলা ও মুক্তচিন্তার চর্চায় উৎসাহ জুগিয়ে যাচ্ছেন আনিসুর রহমান। সম্প্রতি উপজেলা পর্যায়ে আন্তঃউপজেলা বিতর্ক উৎসবের উদ্বোধনকালে শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর চিন্তা ও সৃজনশীলতার চর্চায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সার্বিক কার্যক্রম ও নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘এসিল্যান্ড হিসেবে ফরিদগঞ্জই আমার প্রথম কর্মস্থল। চাঁদপুর জেলা সদরে কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শতভাগ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিজের সর্বোচ্চটা দিতে চাই। “ভূমি অফিস মানেই ভোগান্তি”–সাধারণ মানুষের এই বদ্ধমূল ধারণা আমি বদলে দিতে বদ্ধপরিকর। সেবাপ্রত্যাশীরা যেন কোনো হয়রানি ছাড়া হাসিমুখে সেবা নিয়ে ফিরতে পারেন, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নির্দেশনাগুলো মাঠপর্যায়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা আমি নিজেই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


ভূমিসেবায় ভোগান্তি দূর ও হয়রানি বন্ধে প্রশংসিত এসিল্যান্ড

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

সরকারি দপ্তর বলতেই সাধারণ মানুষের চোখে ভেসে ওঠে অনিয়ম, দীর্ঘসূত্রতা আর মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের চিত্র। তবে সেই পুরোনো ধারণা বদলে দিয়ে ভূমিসেবাকে সহজ, স্বচ্ছ ও শতভাগ জনবান্ধব করতে উদ্যোগী হয়েছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুর রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সেবাগ্রহীতাদের হয়রানিমুক্ত রাখা, বিশেষ করে অসহায়, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে ব্যতিক্রমী ভূমিকা পালন করছেন এই কর্মকর্তা।

জানা গেছে, ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন মো. আনিসুর রহমান। সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ইতিপূর্বে দায়িত্ব পালন করলেও এসিল্যান্ড হিসেবে এটিই তার প্রথম কর্মস্থল। যোগদানের শুরুতেই কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নতুন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকা সত্ত্বেও দ্রুত নতুন কর্মপরিবেশের সঙ্গে সমন্বয় এনে কার্যকর ও গতিশীল সেবাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

ভূমি কার্যালয়ে সেবাপ্রত্যাশীরা যাতে দালাল বা অসাধু চক্রের প্রতারণার শিকার না হন, সে বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন এসিল্যান্ড। সেবাগ্রহীতারা যাতে সরাসরি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেবা নিতে পারেন, কার্যালয়ে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে দ্রুত সেবা প্রদানে কড়া নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়া তিনি নিজেই তদারকি করছেন।

তার এই উদ্যোগের সুফল ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী ও দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই সহজে ভূমিসেবা পেয়েছেন বাক্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী আব্দুল মান্নান এবং বিধবা রহিমা বেগম। স্বল্প সময়ে প্রত্যাশিত সেবা পেয়ে আবেগাপ্লুত রহিমা বেগম ও আব্দুল মান্নানের পরিবার প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের মতে, সরকারি দপ্তরে মানবিক আচরণ ও আন্তরিকতা নিশ্চিত করা গেলে জনভোগান্তি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব, যা ফরিদগঞ্জে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

কেবল ভূমিসেবাই নয়, প্রশাসনিক অন্যান্য দায়িত্ব ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন এ কর্মকর্তা। গত ১২ অক্টোবর রূপসা উত্তর ইউনিয়নের পূর্ব বদরপুর এলাকায় অবৈধ ড্রেজার অপসারণে মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। পরবর্তীতে ১৮ অক্টোবর ফরিদগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বাজার তদারকি, পণ্যের মূল্যতালিকা টাঙানো, অবৈধ ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং যানজট নিরসনে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেন।

পাশাপাশি যুবসমাজকে ইতিবাচক ধারায় যুক্ত রাখতে খেলাধুলা ও মুক্তচিন্তার চর্চায় উৎসাহ জুগিয়ে যাচ্ছেন আনিসুর রহমান। সম্প্রতি উপজেলা পর্যায়ে আন্তঃউপজেলা বিতর্ক উৎসবের উদ্বোধনকালে শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর চিন্তা ও সৃজনশীলতার চর্চায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সার্বিক কার্যক্রম ও নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘এসিল্যান্ড হিসেবে ফরিদগঞ্জই আমার প্রথম কর্মস্থল। চাঁদপুর জেলা সদরে কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শতভাগ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিজের সর্বোচ্চটা দিতে চাই। “ভূমি অফিস মানেই ভোগান্তি”–সাধারণ মানুষের এই বদ্ধমূল ধারণা আমি বদলে দিতে বদ্ধপরিকর। সেবাপ্রত্যাশীরা যেন কোনো হয়রানি ছাড়া হাসিমুখে সেবা নিয়ে ফিরতে পারেন, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নির্দেশনাগুলো মাঠপর্যায়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা আমি নিজেই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত