সংবাদ

জাপানের শ্রমবাজারে হাতছানি, বড় দেয়াল ভাষাগত অদক্ষতা


মহসীন ইসলাম টুটুল, জাপান থেকে ফিরে
মহসীন ইসলাম টুটুল, জাপান থেকে ফিরে
প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম

জাপানের শ্রমবাজারে হাতছানি, বড় দেয়াল ভাষাগত অদক্ষতা
ছ‌বি: প্রতীকী (এআই)

জাপানের বিশাল ও সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের সুযোগ দিন দিন বাড়ছে। তবে কারিগরি বা পেশাগত দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও কেবল জাপানি ভাষায় দখল না থাকায় এই সম্ভাবনার পূর্ণ সুফল ঘরে তুলতে পারছে না বাংলাদেশ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটিতে মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান ও স্থায়ী ক্যারিয়ার গড়তে ভাষাগত অদক্ষতাই এখন প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাপান প্রবাসী ব্যবসায়ী এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপানে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে শুধু কাজের দক্ষতাই যথেষ্ট নয়, সেখানকার কর্মপরিবেশ, সংস্কৃতি এবং প্রাত্যহিক যোগাযোগের মূল চাবিকাঠি হলো জাপানি ভাষায় দখল। এমনকি সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে চুক্তি বাস্তবায়নেও জরুরি হয়ে পড়েছে জাপানি ভাষা। জাপানের সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার কাজে লাগাতে তরুণদের সঠিক উপায়ে জাপানি ভাষায় দক্ষ করে তোলা জরুরি। প্রয়োজনীয় ভাষাজ্ঞান অর্জিত হলে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও প্রফেশনাল জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে আসবে এক নতুন জোয়ার।

সম্প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর দেশটিতে চার দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সফর অনুষ্ঠিত হয়। ওই সফরে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েনের (৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রায় ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির আশার বার্তা মিলেছে।

এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি), নার্সিং, কেয়ারগিভার, কৃষি, প্রকৌশল ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে বাংলাদেশি জনশক্তি নিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে উঠেছে জাপানি ভাষা শিক্ষা।

জাপানে বর্তমানে ৪৫ হাজারের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন। এছাড়া সাড়ে ৪ হাজোরের বেশি জাপানি পাসপোর্টধারী বাংলাদেশি রয়েছে দেশটিতে। তাদের একটি বড় অংশ তাদের অভিজ্ঞতা থেকে বলছে, ভাষা না জেনে দেশটিতে এলে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। জাপানের স্থানীয় সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষার ব্যবহার সীমিত।

ফলে কাজ জানা থাকলেও কেবল ভাষা না জানার কারণে অনেক কর্মীকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা ভারী শারীরিক পরিশ্রমের মতো নিম্ন আয়ের কাজে আটকে থাকতে হচ্ছে। যেখানে ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের প্রবাসীরা ভাষাগত দক্ষতার জোরে তুলনামূলক ভালো পদে জায়গা করে নিচ্ছেন।

জাপান প্রবাসীদের অনেকেই মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর কেবল দুটি দেশের সরকারের সম্পর্ককেই মজবুত করেনি, বরং জাপানে অবস্থানরত সাড়ে তিন লাখেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশির মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সফর-পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সেতু হিসেবে এক বিশাল ভূমিকা পালন করবে।

জাপানি ভাষা দক্ষতার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (জেএলপিটি) পাঁচটি স্তরে বিভক্ত: এন-৫ (প্রাথমিক), এন-৪ (মৌলিক), এন-৩ (মধ্যম), এন-২ (উচ্চ-মধ্যম) এবং এন-১ (উন্নত)।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বাংলাদেশ থেকে আসা তরুণ বা শিক্ষার্থীরা সাধারণত কোনো রকমে প্রাথমিক স্তর (এন-৫ বা এন-৪) শেষ করে দেশটিতে পাড়ি জমান। পরে জীবিকা ও পড়াশোনার চাপে ভাষা শেখার পর্যাপ্ত সময় পান না। অথচ কর্মক্ষেত্রে সাবলীল যোগাযোগ এবং এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে পদোন্নতি পেতে হলে অন্তত এন-৩ বা এন-২ স্তর পর্যন্ত দক্ষতা থাকা আবশ্যক। ২০২৬ সাল থেকে সেবা ও যোগাযোগ খাতের ভিসা নীতিতে জাপান সরকার ভাষা দক্ষতার শর্ত আরও কড়াকড়ি করছে।

জাপানে ১১ বছর বসবাসকারী সিমেন্স ইডিএ (হেড অফ ডাটা সেন্টার), জাপানের সিনিয়র ইনফ্রাস্টাকচার ইঞ্জিনিয়ার মো. হাসান মাহবুব সংবাদকে বলেন, ‘জাপানের আইটি খাতের কাজের পরিধি অনেক বিস্তৃত। তবে দেশটিতে আসার আগে ভাষা শিখে না এলে পদে পদে বিপদে পড়তে হয়। এমনকি চাকরি পরিবর্তন বা পদোন্নতির জন্য অন্তত এন-২ স্তরের ভাষা জানা প্রয়োজন।’

একই উদ্বেগের কথা জানান দুই যুগ ধরে টোকিওতে গাড়ি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আবে চৌধুরী। তার মতে, ভাষা না জানলে জাপানি সংস্কৃতি ও কাজের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো অসম্ভব।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ‘বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী থাকলেও চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও ভাষা দক্ষতার অভাবে জনমিতিক সুবিধার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। জনশক্তি খাতকে শুধু সংখ্যার হিসাবে না দেখে কর্মীদের বাস্তব দক্ষতা ও জাপানি নিয়োগকর্তাদের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

তাদের মতে, কর্মী পাঠানোর আগে দেশেই নিবিড় ভাষা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি, প্রয়োজনে জাপান থেকে প্রশিক্ষক এনে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে।

সফরকালে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাপানি ভাষা চালুর পরিকল্পনা এবং দক্ষ প্রবাসীদের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজে লাগানোর উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দ্রুত ও কম খরচে রেমিট্যান্স পাঠানোর বিষয়েও ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।

অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে জাপানের অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। এতে অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য প্রসার এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) পাশাপাশি বিকল্প অর্থায়নের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিশ্লেষকদের বলছেন, জাপানের শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য যে সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে, তা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে হলে ভাসা-ভাসা প্রস্তুতি পরিহার করতে হবে। অভিবাসন প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উচ্চমানের ভাষা শিক্ষা, কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি ও নিয়মকানুনের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

বাংলাদেশী শিক্ষার্থী আকাশ ও হাবিবা জাপানের স্কুলে পড়েন। তারা স্বামী স্ত্রী দুজনেই এন-৪ কম্পিল্ট করে জাপানে যায়। তারা সংবাদকে বলেন, ধীরে ধীরে জাপানে অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়েছে। এখন বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী জাপানে উচ্চ শিক্ষার জন্য আসেন। অনেকেই জব ভিসা নিয়ে আসেন, যা খুবই ইতিবাচক দিক। তবে জাপানি ভাষা না জানার কারণে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

তাদের মতে, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার গঠনের অন্যতম গন্তব্য জাপান। কেননা, জাপানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের গবেষণার পাশাপাশি রয়েছে পার্টটাইম কাজের বিরাট সুযোগ। সুতরাং আমাদের পরামর্শ থাকবে জাপানি ভাষা শিখে তারপর এ দেশে আসা। তা না হলে কাজও পাবেন না আবার যে টাকা খরচ করে আসবেন সেগুলোও গচ্চা যাবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


জাপানের শ্রমবাজারে হাতছানি, বড় দেয়াল ভাষাগত অদক্ষতা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

জাপানের বিশাল ও সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের সুযোগ দিন দিন বাড়ছে। তবে কারিগরি বা পেশাগত দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও কেবল জাপানি ভাষায় দখল না থাকায় এই সম্ভাবনার পূর্ণ সুফল ঘরে তুলতে পারছে না বাংলাদেশ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটিতে মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান ও স্থায়ী ক্যারিয়ার গড়তে ভাষাগত অদক্ষতাই এখন প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাপান প্রবাসী ব্যবসায়ী এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপানে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে শুধু কাজের দক্ষতাই যথেষ্ট নয়, সেখানকার কর্মপরিবেশ, সংস্কৃতি এবং প্রাত্যহিক যোগাযোগের মূল চাবিকাঠি হলো জাপানি ভাষায় দখল। এমনকি সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে চুক্তি বাস্তবায়নেও জরুরি হয়ে পড়েছে জাপানি ভাষা। জাপানের সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার কাজে লাগাতে তরুণদের সঠিক উপায়ে জাপানি ভাষায় দক্ষ করে তোলা জরুরি। প্রয়োজনীয় ভাষাজ্ঞান অর্জিত হলে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও প্রফেশনাল জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে আসবে এক নতুন জোয়ার।

সম্প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর দেশটিতে চার দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সফর অনুষ্ঠিত হয়। ওই সফরে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েনের (৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রায় ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির আশার বার্তা মিলেছে।

এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি), নার্সিং, কেয়ারগিভার, কৃষি, প্রকৌশল ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে বাংলাদেশি জনশক্তি নিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে উঠেছে জাপানি ভাষা শিক্ষা।

জাপানে বর্তমানে ৪৫ হাজারের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন। এছাড়া সাড়ে ৪ হাজোরের বেশি জাপানি পাসপোর্টধারী বাংলাদেশি রয়েছে দেশটিতে। তাদের একটি বড় অংশ তাদের অভিজ্ঞতা থেকে বলছে, ভাষা না জেনে দেশটিতে এলে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। জাপানের স্থানীয় সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষার ব্যবহার সীমিত।

ফলে কাজ জানা থাকলেও কেবল ভাষা না জানার কারণে অনেক কর্মীকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা ভারী শারীরিক পরিশ্রমের মতো নিম্ন আয়ের কাজে আটকে থাকতে হচ্ছে। যেখানে ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের প্রবাসীরা ভাষাগত দক্ষতার জোরে তুলনামূলক ভালো পদে জায়গা করে নিচ্ছেন।

জাপান প্রবাসীদের অনেকেই মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর কেবল দুটি দেশের সরকারের সম্পর্ককেই মজবুত করেনি, বরং জাপানে অবস্থানরত সাড়ে তিন লাখেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশির মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সফর-পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সেতু হিসেবে এক বিশাল ভূমিকা পালন করবে।

জাপানি ভাষা দক্ষতার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (জেএলপিটি) পাঁচটি স্তরে বিভক্ত: এন-৫ (প্রাথমিক), এন-৪ (মৌলিক), এন-৩ (মধ্যম), এন-২ (উচ্চ-মধ্যম) এবং এন-১ (উন্নত)।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বাংলাদেশ থেকে আসা তরুণ বা শিক্ষার্থীরা সাধারণত কোনো রকমে প্রাথমিক স্তর (এন-৫ বা এন-৪) শেষ করে দেশটিতে পাড়ি জমান। পরে জীবিকা ও পড়াশোনার চাপে ভাষা শেখার পর্যাপ্ত সময় পান না। অথচ কর্মক্ষেত্রে সাবলীল যোগাযোগ এবং এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে পদোন্নতি পেতে হলে অন্তত এন-৩ বা এন-২ স্তর পর্যন্ত দক্ষতা থাকা আবশ্যক। ২০২৬ সাল থেকে সেবা ও যোগাযোগ খাতের ভিসা নীতিতে জাপান সরকার ভাষা দক্ষতার শর্ত আরও কড়াকড়ি করছে।

জাপানে ১১ বছর বসবাসকারী সিমেন্স ইডিএ (হেড অফ ডাটা সেন্টার), জাপানের সিনিয়র ইনফ্রাস্টাকচার ইঞ্জিনিয়ার মো. হাসান মাহবুব সংবাদকে বলেন, ‘জাপানের আইটি খাতের কাজের পরিধি অনেক বিস্তৃত। তবে দেশটিতে আসার আগে ভাষা শিখে না এলে পদে পদে বিপদে পড়তে হয়। এমনকি চাকরি পরিবর্তন বা পদোন্নতির জন্য অন্তত এন-২ স্তরের ভাষা জানা প্রয়োজন।’

একই উদ্বেগের কথা জানান দুই যুগ ধরে টোকিওতে গাড়ি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আবে চৌধুরী। তার মতে, ভাষা না জানলে জাপানি সংস্কৃতি ও কাজের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো অসম্ভব।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ‘বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী থাকলেও চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও ভাষা দক্ষতার অভাবে জনমিতিক সুবিধার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। জনশক্তি খাতকে শুধু সংখ্যার হিসাবে না দেখে কর্মীদের বাস্তব দক্ষতা ও জাপানি নিয়োগকর্তাদের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

তাদের মতে, কর্মী পাঠানোর আগে দেশেই নিবিড় ভাষা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি, প্রয়োজনে জাপান থেকে প্রশিক্ষক এনে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে।

সফরকালে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাপানি ভাষা চালুর পরিকল্পনা এবং দক্ষ প্রবাসীদের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজে লাগানোর উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দ্রুত ও কম খরচে রেমিট্যান্স পাঠানোর বিষয়েও ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।

অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে জাপানের অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। এতে অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য প্রসার এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) পাশাপাশি বিকল্প অর্থায়নের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিশ্লেষকদের বলছেন, জাপানের শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য যে সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে, তা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে হলে ভাসা-ভাসা প্রস্তুতি পরিহার করতে হবে। অভিবাসন প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উচ্চমানের ভাষা শিক্ষা, কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি ও নিয়মকানুনের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

বাংলাদেশী শিক্ষার্থী আকাশ ও হাবিবা জাপানের স্কুলে পড়েন। তারা স্বামী স্ত্রী দুজনেই এন-৪ কম্পিল্ট করে জাপানে যায়। তারা সংবাদকে বলেন, ধীরে ধীরে জাপানে অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়েছে। এখন বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী জাপানে উচ্চ শিক্ষার জন্য আসেন। অনেকেই জব ভিসা নিয়ে আসেন, যা খুবই ইতিবাচক দিক। তবে জাপানি ভাষা না জানার কারণে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

তাদের মতে, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার গঠনের অন্যতম গন্তব্য জাপান। কেননা, জাপানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের গবেষণার পাশাপাশি রয়েছে পার্টটাইম কাজের বিরাট সুযোগ। সুতরাং আমাদের পরামর্শ থাকবে জাপানি ভাষা শিখে তারপর এ দেশে আসা। তা না হলে কাজও পাবেন না আবার যে টাকা খরচ করে আসবেন সেগুলোও গচ্চা যাবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত