সংবাদ

মুখ থুবড়ে পড়েছে নৈতিকতা শেখানোর ‘সততা স্টোর’


প্রতিনিধি, আত্রাই (নওগাঁ)
প্রতিনিধি, আত্রাই (নওগাঁ)
প্রকাশ: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ০২:১৫ পিএম

মুখ থুবড়ে পড়েছে নৈতিকতা শেখানোর ‘সততা স্টোর’
ছবি : সংবাদ

শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু করা হয়েছিল ‘সততা স্টোর’। কিন্তু নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় বরাদ্দ পাওয়া ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেই এখন এই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কোথাও স্টোরের জন্য নির্দিষ্ট কক্ষ থাকলেও নেই প্রয়োজনীয় পণ্য ও নিয়মিত কার্যক্রম। ফলে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা চর্চার এই মহৎ উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়েই এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সাল থেকে আত্রাই উপজেলায় সততা স্টোর কার্যক্রম শুরু হয়। এই কার্যক্রমের আওতায় উপজেলার ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

সততা স্টোরের মূল উদ্দেশ্য ছিল, শিক্ষক বা বিক্রয়কর্মী ছাড়াই শিক্ষার্থীরা নিজেরাই দোকান থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও খাবার কিনবে এবং নির্ধারিত মূল্য বাক্সে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে যাবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, দায়িত্ববোধ ও আত্মশুদ্ধির চর্চা গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল।

তবে সরেজমিন ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেই সেই উদ্যোগ আজ স্থবির। আহসানুল্লাহ মেমোরিয়াল মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময় সততা স্টোরের কোনো কিছু পাইনি। তবে আগামীতে এটি চালুর চেষ্টা করব।’

বাঁকা উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. তাসলিমা খাতুন জানান, করোনাকালীন সময়ে বরাদ্দের টাকায় কেনা কিছু মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও প্রত্যাশিত সততার পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে নতুন করে আবারও স্টোরটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে আত্রাই উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুহেনা মোস্তফা কামাল বলেন, প্রতিষ্ঠানের সংস্কার কাজ শেষ হলে আবার সততা স্টোর চালু করা হবে। শলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, টেস্ট পরীক্ষা চলায় আপাতত স্টোর বন্ধ রয়েছে, তবে পরীক্ষা শেষে চালু করা হবে। যদিও সরেজমিন দেখা গেছে, ওই স্টোরটিতে মাত্র দুই থেকে তিন শ টাকার মালামাল রয়েছে।

আত্রাই পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজীমুদ্দীন সরদার বলেন, করোনাকালীন সময়ে মালামাল নষ্ট হওয়ার পর কক্ষসংকটের কারণে স্টোরটি আর চালু রাখা সম্ভব হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সততা স্টোরের নামে শুধু একটি সাইনবোর্ড বা কক্ষ থাকলেও বাস্তবে কোনো কার্যক্রম নেই। কিছু প্রতিষ্ঠানে খোলা থাকলেও সেখানে কেবল নামমাত্র চিপস বা বিস্কুট থাকে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাছাড়া বেশিরভাগ সময়ই স্টোরের দরজা তালাবদ্ধ থাকে।

অভিভাবকদের মতে, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা শেখাতে সততা স্টোর একটি চমৎকার উদ্যোগ ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তা বন্ধ থাকায় সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। তাই দ্রুত এসব স্টোর নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘সততা স্টোর বন্ধ রাখার কোনো সুযোগ নেই। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়মবহির্ভূতভাবে এটি বন্ধ রাখলে বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


মুখ থুবড়ে পড়েছে নৈতিকতা শেখানোর ‘সততা স্টোর’

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু করা হয়েছিল ‘সততা স্টোর’। কিন্তু নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় বরাদ্দ পাওয়া ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেই এখন এই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কোথাও স্টোরের জন্য নির্দিষ্ট কক্ষ থাকলেও নেই প্রয়োজনীয় পণ্য ও নিয়মিত কার্যক্রম। ফলে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা চর্চার এই মহৎ উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়েই এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সাল থেকে আত্রাই উপজেলায় সততা স্টোর কার্যক্রম শুরু হয়। এই কার্যক্রমের আওতায় উপজেলার ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

সততা স্টোরের মূল উদ্দেশ্য ছিল, শিক্ষক বা বিক্রয়কর্মী ছাড়াই শিক্ষার্থীরা নিজেরাই দোকান থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও খাবার কিনবে এবং নির্ধারিত মূল্য বাক্সে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে যাবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, দায়িত্ববোধ ও আত্মশুদ্ধির চর্চা গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল।

তবে সরেজমিন ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেই সেই উদ্যোগ আজ স্থবির। আহসানুল্লাহ মেমোরিয়াল মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময় সততা স্টোরের কোনো কিছু পাইনি। তবে আগামীতে এটি চালুর চেষ্টা করব।’

বাঁকা উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. তাসলিমা খাতুন জানান, করোনাকালীন সময়ে বরাদ্দের টাকায় কেনা কিছু মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও প্রত্যাশিত সততার পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে নতুন করে আবারও স্টোরটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে আত্রাই উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুহেনা মোস্তফা কামাল বলেন, প্রতিষ্ঠানের সংস্কার কাজ শেষ হলে আবার সততা স্টোর চালু করা হবে। শলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, টেস্ট পরীক্ষা চলায় আপাতত স্টোর বন্ধ রয়েছে, তবে পরীক্ষা শেষে চালু করা হবে। যদিও সরেজমিন দেখা গেছে, ওই স্টোরটিতে মাত্র দুই থেকে তিন শ টাকার মালামাল রয়েছে।

আত্রাই পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজীমুদ্দীন সরদার বলেন, করোনাকালীন সময়ে মালামাল নষ্ট হওয়ার পর কক্ষসংকটের কারণে স্টোরটি আর চালু রাখা সম্ভব হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সততা স্টোরের নামে শুধু একটি সাইনবোর্ড বা কক্ষ থাকলেও বাস্তবে কোনো কার্যক্রম নেই। কিছু প্রতিষ্ঠানে খোলা থাকলেও সেখানে কেবল নামমাত্র চিপস বা বিস্কুট থাকে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাছাড়া বেশিরভাগ সময়ই স্টোরের দরজা তালাবদ্ধ থাকে।

অভিভাবকদের মতে, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা শেখাতে সততা স্টোর একটি চমৎকার উদ্যোগ ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তা বন্ধ থাকায় সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। তাই দ্রুত এসব স্টোর নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘সততা স্টোর বন্ধ রাখার কোনো সুযোগ নেই। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়মবহির্ভূতভাবে এটি বন্ধ রাখলে বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত