সংবাদ

ডেঙ্গু লাগামহীন: একদিনেই ৭ মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৪৫২


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম

ডেঙ্গু লাগামহীন: একদিনেই ৭ মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৪৫২
ছবি : সংগৃহীত

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে, যা নিয়ে চলতি বছর মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৪৫২ জনে। এ ছাড়া একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৬ জন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ঢাকা বিভাগে তিনজন, চট্টগ্রাম বিভাগে তিনজন এবং খুলনা বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭১ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুম শেষ হলেও ডেঙ্গুর প্রকোপ একেবারেই কমেনি। এর প্রধান দুটি কারণ—এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস না হওয়া এবং সিটি করপোরেশনগুলোর মশক নিধন কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি। বর্তমানে যেসব জায়গায় মশক নিধনে অভিযান চালানো হচ্ছে, সেগুলোতে কয়েকদিন পর আবারই এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জটিল রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। অনেকেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে দেরি করছেন। এ কারণে মৃত্যুর হারও বেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া ডেঙ্গু শনাক্তকরণে সময়মতো পরীক্ষা না করানো এবং হাসপাতালে বেড সংকটও পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, হঠাৎ করে তীব্র জ্বরের সঙ্গে শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা বা গায়ে লালচে দাগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর প্লেটলেট কাউন্ট কমে গেলেও অনেক সময় রোগী নিজে বুঝতে পারেন না। তাই জ্বরকে অবহেলা করা যাবে না।

এডিস মশার প্রজনন রোধে ঘরের ভেতরে ও আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা, ফুলের টব, পুরনো টায়ার বা কৌটায় পানি জমতে না দেওয়া এবং নিয়মিত মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল—১ হাজার ৭০৫ জন। ওই বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। গত বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় চার শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের বেশি।

এ বছর এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪৫০ ছাড়িয়ে গেলেও, আক্রান্ত ও মৃত্যুর গতিপথ দেখে আশঙ্কা করা হচ্ছে—ডিসেম্বরের আগেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সিটি করপোরেশনগুলোকে আরও কার্যকর মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


ডেঙ্গু লাগামহীন: একদিনেই ৭ মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৪৫২

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে, যা নিয়ে চলতি বছর মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৪৫২ জনে। এ ছাড়া একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৬ জন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ঢাকা বিভাগে তিনজন, চট্টগ্রাম বিভাগে তিনজন এবং খুলনা বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭১ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুম শেষ হলেও ডেঙ্গুর প্রকোপ একেবারেই কমেনি। এর প্রধান দুটি কারণ—এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস না হওয়া এবং সিটি করপোরেশনগুলোর মশক নিধন কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি। বর্তমানে যেসব জায়গায় মশক নিধনে অভিযান চালানো হচ্ছে, সেগুলোতে কয়েকদিন পর আবারই এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জটিল রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। অনেকেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে দেরি করছেন। এ কারণে মৃত্যুর হারও বেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া ডেঙ্গু শনাক্তকরণে সময়মতো পরীক্ষা না করানো এবং হাসপাতালে বেড সংকটও পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, হঠাৎ করে তীব্র জ্বরের সঙ্গে শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা বা গায়ে লালচে দাগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর প্লেটলেট কাউন্ট কমে গেলেও অনেক সময় রোগী নিজে বুঝতে পারেন না। তাই জ্বরকে অবহেলা করা যাবে না।

এডিস মশার প্রজনন রোধে ঘরের ভেতরে ও আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা, ফুলের টব, পুরনো টায়ার বা কৌটায় পানি জমতে না দেওয়া এবং নিয়মিত মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল—১ হাজার ৭০৫ জন। ওই বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। গত বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় চার শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের বেশি।

এ বছর এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪৫০ ছাড়িয়ে গেলেও, আক্রান্ত ও মৃত্যুর গতিপথ দেখে আশঙ্কা করা হচ্ছে—ডিসেম্বরের আগেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সিটি করপোরেশনগুলোকে আরও কার্যকর মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত