রংপুর নগরীর কেরানীপাড়া টেক্সটাইল মোড়ে অবস্থিত নেসকো বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ কার্যালয়ে চলছে চরম অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও দায়িত্বহীনতা। সরকারি এই অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনই করা হয় না। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টা হলেও কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো অফিসে আসছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৯টায় সরেজমিনে নেসকো বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও একজন অফিস সহায়ক ছাড়া অফিসে কেউ নেই।
সকাল ৯টা ১৮ মিনিটে আসেন এক মহিলা কর্মকর্তা। দেরিতে আসার কারণ জানতে চাইলে তাচ্ছিল্যের সুরে জানান, তিনি বেড়াতে এসেছেন। পরে অবশ্য বলেন, ‘শরীরটা ভালো ছিল না, তাই একটু দেরি হলো।’
ওই সময় কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দেখা যায় অফিসে প্রবেশ না করেই পাশের বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে গিয়ে বসে থাকতে।
সকাল ৯টা ২০ মিনিটে আসেন আরেক মহিলা কর্মকর্তা। তিনি জানান, রাস্তায় যানজটের কারণে দেরি হয়েছে।
আরেক কর্মকর্তা জানান, তাদের অফিস শুরু হয় সাড়ে ৯টার পরে। কারণ, নির্বাহী প্রকৌশলী মনির হোসেন ১০টার পর আসেন, তার আগে এসে কী হবে? এভাবে নানা অজুহাতে দেরিতে অফিসে আসেন তারা।
নির্ধারিত সময়ের ৩৫ মিনিট পর সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে অফিসে আসেন নেসকো-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনির হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে অনেক কাজ করতে হয়, রাতেও কাজ করতে হয়। বুধবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অফিসে ছিলাম।’
জাতীয় পতাকা কেন উত্তোলন করা হয় না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিশেষ দিবস ছাড়া তারা পতাকা উত্তোলন করেন না। ’ আমার অফিসে বিশেষ দিবসেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করি’ বলে তিনি গর্বের সঙ্গে জানান।
এদিকে সকাল ৯টার পর থেকে নানা সমস্যা নিয়ে আসতে শুরু করেন সেবাগ্রহীতারা। কিন্তু কর্মকর্তারা দেরিতে আসায় কয়েকজন অপেক্ষা করে চলে যান। কেরানীপাড়া মহল্লার সেবাগ্রহীতা মোসলেমা খাতুন জানান, দুই দিন ধরে নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে বিদ্যুৎ বিল বেশি দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে আসলেও তার দেখা পাননি।
।
সকাল নয়টায় সব চেয়ার টেবিল শূন্য। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা।
সোলায়মান আলী বলেন, ‘একজন উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ছিলাম, এখন অবসরে আছি। নেসকোর এই কার্যালয়ে যে লংকাকাণ্ড চলছে, তাতে সেবাগ্রহীতারা যদি কাঙ্ক্ষিত সেবাই না পান, তাহলে এই অফিসের কাজ কী?’
সার্বিক বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬
রংপুর নগরীর কেরানীপাড়া টেক্সটাইল মোড়ে অবস্থিত নেসকো বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ কার্যালয়ে চলছে চরম অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও দায়িত্বহীনতা। সরকারি এই অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনই করা হয় না। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টা হলেও কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো অফিসে আসছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৯টায় সরেজমিনে নেসকো বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও একজন অফিস সহায়ক ছাড়া অফিসে কেউ নেই।
সকাল ৯টা ১৮ মিনিটে আসেন এক মহিলা কর্মকর্তা। দেরিতে আসার কারণ জানতে চাইলে তাচ্ছিল্যের সুরে জানান, তিনি বেড়াতে এসেছেন। পরে অবশ্য বলেন, ‘শরীরটা ভালো ছিল না, তাই একটু দেরি হলো।’
ওই সময় কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দেখা যায় অফিসে প্রবেশ না করেই পাশের বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে গিয়ে বসে থাকতে।
সকাল ৯টা ২০ মিনিটে আসেন আরেক মহিলা কর্মকর্তা। তিনি জানান, রাস্তায় যানজটের কারণে দেরি হয়েছে।
আরেক কর্মকর্তা জানান, তাদের অফিস শুরু হয় সাড়ে ৯টার পরে। কারণ, নির্বাহী প্রকৌশলী মনির হোসেন ১০টার পর আসেন, তার আগে এসে কী হবে? এভাবে নানা অজুহাতে দেরিতে অফিসে আসেন তারা।
নির্ধারিত সময়ের ৩৫ মিনিট পর সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে অফিসে আসেন নেসকো-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনির হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে অনেক কাজ করতে হয়, রাতেও কাজ করতে হয়। বুধবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অফিসে ছিলাম।’
জাতীয় পতাকা কেন উত্তোলন করা হয় না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিশেষ দিবস ছাড়া তারা পতাকা উত্তোলন করেন না। ’ আমার অফিসে বিশেষ দিবসেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করি’ বলে তিনি গর্বের সঙ্গে জানান।
এদিকে সকাল ৯টার পর থেকে নানা সমস্যা নিয়ে আসতে শুরু করেন সেবাগ্রহীতারা। কিন্তু কর্মকর্তারা দেরিতে আসায় কয়েকজন অপেক্ষা করে চলে যান। কেরানীপাড়া মহল্লার সেবাগ্রহীতা মোসলেমা খাতুন জানান, দুই দিন ধরে নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে বিদ্যুৎ বিল বেশি দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে আসলেও তার দেখা পাননি।
।
সকাল নয়টায় সব চেয়ার টেবিল শূন্য। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা।
সোলায়মান আলী বলেন, ‘একজন উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ছিলাম, এখন অবসরে আছি। নেসকোর এই কার্যালয়ে যে লংকাকাণ্ড চলছে, তাতে সেবাগ্রহীতারা যদি কাঙ্ক্ষিত সেবাই না পান, তাহলে এই অফিসের কাজ কী?’
সার্বিক বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আপনার মতামত লিখুন