যারা নিজেদের ইসলামি দল হিসেবে ঘোষণা করে থাকে, তাদের দলীয় দলিল ও মনোগ্রাম থেকে ‘আকিমুদ দ্বীন’ বা সমাজে ইসলাম বাস্তবায়ন করার বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদরাসার ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মহাসম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
মহাসম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও দেশের চরম ক্রান্তিকালে হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও দ্বীন, দেশ এবং ইসলামবিদ্বেষী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছিল।
এই আন্দোলনে সংগঠনটির বর্তমান আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে যেমন দীর্ঘ সময় লেগেছিল, তেমনি ফ্যাসিবাদী ও আলেম-ওলামাবিরোধী সরকারের হাত থেকে দেশের মানুষকে মুক্ত করতেও দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর সংগ্রাম করতে হয়েছে। শাপলা চত্বরে বহু আলেম-ওলামা রক্ত দিয়েছেন যাদের অনেকের নাম ও কবরের ঠিকানাও আজ অজানা। অগণিত মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই মূলত দেশ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে।
জাতিসংঘের হিসাব তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগের ১৬-১৭ বছরে প্রায় তিন হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে তিনি নিজেও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এ ছাড়াও প্রায় সাত হাজার মানুষ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ হামলা ও মামলার শিকার হয়ে নিপীড়িত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, দেশের মানুষ কি কখনো সেই ফ্যাসিবাদীদের পুনরাগমন বা প্রত্যাবর্তন দেখতে চায়? যদি না চায়, তবে আজ সেই ফেরার ক্ষেত্র কারা তৈরি করে দিচ্ছে, তা ভেবে দেখতে হবে।
তৈরি পোশাক শিল্প খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চক্রান্ত সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা এই ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের নেপথ্যে সেই ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত রয়েছে। এ দেশে কিছু দুষ্কৃতকারী রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ইসলামের নাম ব্যবহার করছে, অথচ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ইসলামের বিষয়টি প্রায় অনুপস্থিত বললেই চলে। তারা মুখে এক কথা বললেও তাদের দলীয় দলিলে তার কোনো সঠিক প্রমাণ বা প্রতিফলন নেই। তারা কখনো তাদের ইশতেহারে বলেনি যে তারা প্রকৃত ইসলামি শাসন বা শরিয়াভিত্তিক আইন-কানুন চালু করতে চায়; বরং অনেক ক্ষেত্রে তারা শরিয়াভিত্তিক শাসনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
নিজ দলের রাজনৈতিক আদর্শ ও পরিকল্পনা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তারা মূলত ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী ও ইসলামি মূল্যবোধের রাজনীতিকেই সমাজে প্রতিষ্ঠা করেছেন। দেশের সব জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।
জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে যে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণীত হয়েছে, বর্তমান সরকার তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করবে এবং এর পাশাপাশি ইসলামি মূল্যবোধের বিষয়গুলোও সংবিধানে যথাযথভাবে ধারণ করা হবে।
আন্দোলনরত বিভিন্ন পক্ষের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে গঠনমূলক সমালোচনা করা উচিত। সরকারকে কাজের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা যেতে পারে, তবে তা যেন কখনোই দেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক স্বার্থের পরিপন্থী না হয়।
বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, সরকার একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গঠন করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, রপ্তানি বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এর পাশাপাশি দেশের বিশিষ্ট আলেম-ওলামা এবং কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নের জন্যও নানা ধরনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মহাসম্মেলনে আলেম-ওলামারা বয়ান পেশ করেন। সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া ও জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন। দুই দিনব্যাপী আয়োজিত এই মহাসম্মেলন শুক্রবার রাতে মোনাজাতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হবে।

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
যারা নিজেদের ইসলামি দল হিসেবে ঘোষণা করে থাকে, তাদের দলীয় দলিল ও মনোগ্রাম থেকে ‘আকিমুদ দ্বীন’ বা সমাজে ইসলাম বাস্তবায়ন করার বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদরাসার ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মহাসম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
মহাসম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও দেশের চরম ক্রান্তিকালে হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও দ্বীন, দেশ এবং ইসলামবিদ্বেষী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছিল।
এই আন্দোলনে সংগঠনটির বর্তমান আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে যেমন দীর্ঘ সময় লেগেছিল, তেমনি ফ্যাসিবাদী ও আলেম-ওলামাবিরোধী সরকারের হাত থেকে দেশের মানুষকে মুক্ত করতেও দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর সংগ্রাম করতে হয়েছে। শাপলা চত্বরে বহু আলেম-ওলামা রক্ত দিয়েছেন যাদের অনেকের নাম ও কবরের ঠিকানাও আজ অজানা। অগণিত মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই মূলত দেশ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে।
জাতিসংঘের হিসাব তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগের ১৬-১৭ বছরে প্রায় তিন হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে তিনি নিজেও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এ ছাড়াও প্রায় সাত হাজার মানুষ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ হামলা ও মামলার শিকার হয়ে নিপীড়িত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, দেশের মানুষ কি কখনো সেই ফ্যাসিবাদীদের পুনরাগমন বা প্রত্যাবর্তন দেখতে চায়? যদি না চায়, তবে আজ সেই ফেরার ক্ষেত্র কারা তৈরি করে দিচ্ছে, তা ভেবে দেখতে হবে।
তৈরি পোশাক শিল্প খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চক্রান্ত সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা এই ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের নেপথ্যে সেই ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত রয়েছে। এ দেশে কিছু দুষ্কৃতকারী রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ইসলামের নাম ব্যবহার করছে, অথচ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ইসলামের বিষয়টি প্রায় অনুপস্থিত বললেই চলে। তারা মুখে এক কথা বললেও তাদের দলীয় দলিলে তার কোনো সঠিক প্রমাণ বা প্রতিফলন নেই। তারা কখনো তাদের ইশতেহারে বলেনি যে তারা প্রকৃত ইসলামি শাসন বা শরিয়াভিত্তিক আইন-কানুন চালু করতে চায়; বরং অনেক ক্ষেত্রে তারা শরিয়াভিত্তিক শাসনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
নিজ দলের রাজনৈতিক আদর্শ ও পরিকল্পনা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তারা মূলত ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী ও ইসলামি মূল্যবোধের রাজনীতিকেই সমাজে প্রতিষ্ঠা করেছেন। দেশের সব জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।
জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে যে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণীত হয়েছে, বর্তমান সরকার তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করবে এবং এর পাশাপাশি ইসলামি মূল্যবোধের বিষয়গুলোও সংবিধানে যথাযথভাবে ধারণ করা হবে।
আন্দোলনরত বিভিন্ন পক্ষের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে গঠনমূলক সমালোচনা করা উচিত। সরকারকে কাজের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা যেতে পারে, তবে তা যেন কখনোই দেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক স্বার্থের পরিপন্থী না হয়।
বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, সরকার একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গঠন করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, রপ্তানি বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এর পাশাপাশি দেশের বিশিষ্ট আলেম-ওলামা এবং কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নের জন্যও নানা ধরনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মহাসম্মেলনে আলেম-ওলামারা বয়ান পেশ করেন। সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া ও জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন। দুই দিনব্যাপী আয়োজিত এই মহাসম্মেলন শুক্রবার রাতে মোনাজাতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হবে।

আপনার মতামত লিখুন