সংবাদ

‘চরম দরপতনের মুখে পড়তে পারে ভারতীয় রুপি’


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম

‘চরম দরপতনের মুখে পড়তে পারে ভারতীয় রুপি’
ছবি : সংগৃহীত

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা অর্থনৈতিক সংকটের আবর্তে পড়ে আবারও বড় ধরনের দরপতনের ঝুঁকিতে পড়েছে ভারতীয় রুপি। বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ দুর্বল থাকা, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক হারে পুঁজি প্রত্যাহার অব্যাহত থাকায় ভারতীয় মুদ্রার ওপর এই দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞদের এমন আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এক বিশেষ জরিপে অংশ নেওয়া ৩৭ জন শীর্ষস্থানীয় মুদ্রাবাজার বিশ্লেষকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ৯৪ দশমিক ৭০ রুপিতে লেনদেন হওয়া এই মুদ্রাটি আগামী জানুয়ারির শেষ নাগাদ আরও দুর্বল হয়ে ৯৬ রুপিতে নেমে আসতে পারে। শুধু তাই নয়, আগামী বছরের এপ্রিলের শেষ নাগাদ এর বিনিময় মূল্য আরও কমে রেকর্ড ৯৬ দশমিক ৩৩ রুপিতে ঠেকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত ২ থেকে ৪ নভেম্বরের মধ্যে এই জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের তেলের উচ্চমূল্য সবসময়ই বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে আসছে। এর ওপর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের রেকর্ড পরিমাণ পুঁজি প্রত্যাহার পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ডলারের গতিপ্রকৃতি এবং ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট নীতিগত পদক্ষেপ সত্ত্বেও এসব বহুমুখী চাপ শিগগিরই পুরোপুরি প্রশমিত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ভারতীয় রুপির মূল্য প্রায় ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

এর আগে গত মে মাসে প্রতি ডলারের বিপরীতে রুপির মান সর্বকালের সর্বনিম্ন ৯৬ দশমিক ৯৬-এ নেমে গিয়েছিল। যদিও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সাময়িকভাবে দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল রুপি।

বিশিষ্ট বিনিয়োগ ব্যাংক মরগান স্ট্যানলির প্রধান ভারতীয় অর্থনীতিবিদ উপাসনা চাচরা এই পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ কিংবা পুঁজি প্রবাহের বর্তমান প্রবণতায় নিকট ভবিষ্যতে বড় ধরনের কোনো ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। ফলে ভারতীয় মুদ্রার ওপর এই ধারাবাহিক চাপ বজায় থাকবে এবং এর অবমূল্যায়নের আশঙ্কা দিন দিন আরও জোরালো হচ্ছে।

রয়টার্সের এই জরিপে অংশ নেওয়া বিশ্লেষকেরা যদিও আগামী কয়েক মাসের মধ্যে মার্কিন ডলারের দর কিছুটা কমার পূর্বাভাস দিয়েছেন, তবুও তাদের শঙ্কা হলো যে ডলারের বর্তমান শক্তি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি সময় ধরে বাজারে বজায় থাকতে পারে।

চাচরা আরও জানান, বিশ্বব্যাপী আর্থিক ও বাণিজ্যিক পরিস্থিতি কঠোর হয়ে উঠলে ভারতসহ উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর পক্ষে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়ে। এই জরিপে সবথেকে নেতিবাচক বা রক্ষণশীল পূর্বাভাস দিয়েছে ব্যাংক অব আমেরিকা। প্রতিষ্ঠানটির গত আগস্ট মাস থেকে বলে আসছে, আগামী ১২ মাসের মধ্যে প্রতি ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দাম সরাসরি ৯৯-এ নেমে যেতে পারে।

তবে মরগান স্ট্যানলির ধারণা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শুরুর দিকে রুপির দাম নতুন করে সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। যদিও স্বস্তির বিষয় হলো, জরিপে অংশ নেওয়া কোনো বিশ্লেষকই রুপির দাম প্রতি ডলারে ১০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো চরম পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেননি।

এদিকে, বাজারে রুপির এই অস্বাভাবিক দরপতন ঠেকিয়ে এর মান ধরে রাখতে গিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ কমে বর্তমানে ৭১৯ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার পরিশোধের দায় বেড়ে রেকর্ড ২৩৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

আরবিএল ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ অনীতা রঙ্গন এই প্রসঙ্গে বলেন, ডলারের বিপরীতে রুপির বর্তমান বিনিময় হার কোনো স্বস্তিদায়ক বা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাড়ছে না, বরং এটিকে কৃত্রিম উপায়ে ধরে রাখা হয়েছে। এটি মূলত বাজারের দীর্ঘমেয়াদি কোনো স্থিতিশীলতা নয়, বরং এক ধরনের সাময়িক ব্যবস্থাপনা।

যদিও ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বরাবরই দাবি করে আসছে, তারা ডলারের বিপরীতে রুপির জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো কৃত্রিম বিনিময় হার নির্ধারণ করে না এবং মুদ্রাবাজারে অতিরিক্ত ও অস্বাভাবিক অস্থিরতা ঠেকাতেই কেবল তারা নিয়মিত হস্তক্ষেপ করে থাকে। তবে চলতি বছরের অধিকাংশ মাসেই নিয়মিত ও কঠোর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রুপির দর ৯৫ টাকার আশপাশে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

ফিনরেক্স ট্রেজারি অ্যাডভাইজার্সের ট্রেজারি বিভাগের প্রধান অনিল বনসালি এই বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন, আরবিআই সুনির্দিষ্টভাবে এবং জেনেশুনেই রুপির দাম ৯৫ টাকার কাছাকাছি একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আটকে রাখতে চাইছে।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ধরনের লাগাতার হস্তক্ষেপের কারণে ভবিষ্যতে মুদ্রার দরপতনজনিত সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সুরক্ষা নেওয়ার খরচ বা হেজিং কস্ট বহুগুণ বেড়ে গেছে। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতে নতুন করে পুঁজি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক ও রক্ষণশীল হয়ে উঠছেন।

শ্রীরাম গ্রুপের প্রধান অর্থনীতিবিদ অপূর্ব জাওয়াদেকর মনে করেন, আরবিআইয়ের বর্তমান নীতির কারণে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পক্ষে ভারতীয় বাজারে আবার স্বাচ্ছন্দ্যে ফিরে আসা আরও বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক অর্থে, বিদেশি বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ মুদ্রা বিনিময় চুক্তির বাজারে বাড়তি চড়া দাম পরিশোধের মাধ্যমেই কেবল রুপির এই সাময়িক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে উচ্চ জ্বালানি আমদানি ব্যয়, অব্যাহত বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সীমিত নীতিগত সুযোগের কারণে আগামী দিনগুলোতেও ভারতীয় রুপির ওপর এই বহুমুখী চাপ বলবৎ থাকবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


‘চরম দরপতনের মুখে পড়তে পারে ভারতীয় রুপি’

প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা অর্থনৈতিক সংকটের আবর্তে পড়ে আবারও বড় ধরনের দরপতনের ঝুঁকিতে পড়েছে ভারতীয় রুপি। বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ দুর্বল থাকা, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক হারে পুঁজি প্রত্যাহার অব্যাহত থাকায় ভারতীয় মুদ্রার ওপর এই দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞদের এমন আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এক বিশেষ জরিপে অংশ নেওয়া ৩৭ জন শীর্ষস্থানীয় মুদ্রাবাজার বিশ্লেষকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ৯৪ দশমিক ৭০ রুপিতে লেনদেন হওয়া এই মুদ্রাটি আগামী জানুয়ারির শেষ নাগাদ আরও দুর্বল হয়ে ৯৬ রুপিতে নেমে আসতে পারে। শুধু তাই নয়, আগামী বছরের এপ্রিলের শেষ নাগাদ এর বিনিময় মূল্য আরও কমে রেকর্ড ৯৬ দশমিক ৩৩ রুপিতে ঠেকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত ২ থেকে ৪ নভেম্বরের মধ্যে এই জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের তেলের উচ্চমূল্য সবসময়ই বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে আসছে। এর ওপর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের রেকর্ড পরিমাণ পুঁজি প্রত্যাহার পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ডলারের গতিপ্রকৃতি এবং ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট নীতিগত পদক্ষেপ সত্ত্বেও এসব বহুমুখী চাপ শিগগিরই পুরোপুরি প্রশমিত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ভারতীয় রুপির মূল্য প্রায় ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

এর আগে গত মে মাসে প্রতি ডলারের বিপরীতে রুপির মান সর্বকালের সর্বনিম্ন ৯৬ দশমিক ৯৬-এ নেমে গিয়েছিল। যদিও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সাময়িকভাবে দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল রুপি।

বিশিষ্ট বিনিয়োগ ব্যাংক মরগান স্ট্যানলির প্রধান ভারতীয় অর্থনীতিবিদ উপাসনা চাচরা এই পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ কিংবা পুঁজি প্রবাহের বর্তমান প্রবণতায় নিকট ভবিষ্যতে বড় ধরনের কোনো ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। ফলে ভারতীয় মুদ্রার ওপর এই ধারাবাহিক চাপ বজায় থাকবে এবং এর অবমূল্যায়নের আশঙ্কা দিন দিন আরও জোরালো হচ্ছে।

রয়টার্সের এই জরিপে অংশ নেওয়া বিশ্লেষকেরা যদিও আগামী কয়েক মাসের মধ্যে মার্কিন ডলারের দর কিছুটা কমার পূর্বাভাস দিয়েছেন, তবুও তাদের শঙ্কা হলো যে ডলারের বর্তমান শক্তি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি সময় ধরে বাজারে বজায় থাকতে পারে।

চাচরা আরও জানান, বিশ্বব্যাপী আর্থিক ও বাণিজ্যিক পরিস্থিতি কঠোর হয়ে উঠলে ভারতসহ উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর পক্ষে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়ে। এই জরিপে সবথেকে নেতিবাচক বা রক্ষণশীল পূর্বাভাস দিয়েছে ব্যাংক অব আমেরিকা। প্রতিষ্ঠানটির গত আগস্ট মাস থেকে বলে আসছে, আগামী ১২ মাসের মধ্যে প্রতি ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দাম সরাসরি ৯৯-এ নেমে যেতে পারে।

তবে মরগান স্ট্যানলির ধারণা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শুরুর দিকে রুপির দাম নতুন করে সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। যদিও স্বস্তির বিষয় হলো, জরিপে অংশ নেওয়া কোনো বিশ্লেষকই রুপির দাম প্রতি ডলারে ১০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো চরম পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেননি।

এদিকে, বাজারে রুপির এই অস্বাভাবিক দরপতন ঠেকিয়ে এর মান ধরে রাখতে গিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ কমে বর্তমানে ৭১৯ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার পরিশোধের দায় বেড়ে রেকর্ড ২৩৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

আরবিএল ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ অনীতা রঙ্গন এই প্রসঙ্গে বলেন, ডলারের বিপরীতে রুপির বর্তমান বিনিময় হার কোনো স্বস্তিদায়ক বা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাড়ছে না, বরং এটিকে কৃত্রিম উপায়ে ধরে রাখা হয়েছে। এটি মূলত বাজারের দীর্ঘমেয়াদি কোনো স্থিতিশীলতা নয়, বরং এক ধরনের সাময়িক ব্যবস্থাপনা।

যদিও ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বরাবরই দাবি করে আসছে, তারা ডলারের বিপরীতে রুপির জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো কৃত্রিম বিনিময় হার নির্ধারণ করে না এবং মুদ্রাবাজারে অতিরিক্ত ও অস্বাভাবিক অস্থিরতা ঠেকাতেই কেবল তারা নিয়মিত হস্তক্ষেপ করে থাকে। তবে চলতি বছরের অধিকাংশ মাসেই নিয়মিত ও কঠোর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রুপির দর ৯৫ টাকার আশপাশে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

ফিনরেক্স ট্রেজারি অ্যাডভাইজার্সের ট্রেজারি বিভাগের প্রধান অনিল বনসালি এই বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন, আরবিআই সুনির্দিষ্টভাবে এবং জেনেশুনেই রুপির দাম ৯৫ টাকার কাছাকাছি একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আটকে রাখতে চাইছে।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ধরনের লাগাতার হস্তক্ষেপের কারণে ভবিষ্যতে মুদ্রার দরপতনজনিত সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সুরক্ষা নেওয়ার খরচ বা হেজিং কস্ট বহুগুণ বেড়ে গেছে। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতে নতুন করে পুঁজি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক ও রক্ষণশীল হয়ে উঠছেন।

শ্রীরাম গ্রুপের প্রধান অর্থনীতিবিদ অপূর্ব জাওয়াদেকর মনে করেন, আরবিআইয়ের বর্তমান নীতির কারণে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পক্ষে ভারতীয় বাজারে আবার স্বাচ্ছন্দ্যে ফিরে আসা আরও বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক অর্থে, বিদেশি বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ মুদ্রা বিনিময় চুক্তির বাজারে বাড়তি চড়া দাম পরিশোধের মাধ্যমেই কেবল রুপির এই সাময়িক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে উচ্চ জ্বালানি আমদানি ব্যয়, অব্যাহত বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সীমিত নীতিগত সুযোগের কারণে আগামী দিনগুলোতেও ভারতীয় রুপির ওপর এই বহুমুখী চাপ বলবৎ থাকবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত