ভারতের আসামে ভ্রমণের সময় এক রোমাঞ্চকর ও মানবিক ঘটনার সাক্ষী হলেন যাত্রীরা। গুয়াহাটি থেকে দিব্রুগড়গামী একটি যাত্রীবাহী বাসে ভ্রমণের সময় প্রসব বেদনায় আক্রান্ত হয়ে বাসের ভেতরই এক নারী একটি সুস্থ মেয়ে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এই অস্বাভাবিক ও সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রসবের সময় সহায়তা করতে বাসচালকসহ উপস্থিত সব যাত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টা ও মানবিকতা পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আদিউ জান পরিবহন নামের ওই যাত্রীবাহী বাসটির চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বাবুল বরপাত্র। ওই প্রসূতি নারীর সঙ্গে তার পরিবারের আরও সাতজন সদস্য একসঙ্গে বাসে ভ্রমণ করছিলেন। তারা আসামের জাগিরোড থেকে দিমুর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করার কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ ওই নারীর তীব্র প্রসব বেদনা শুরু হয়। হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে বাসের ভেতরের যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
বাসচালক বাবুল বরপাত্র গণমাধ্যমকে জানান, বাস চালানোর একপর্যায়ে তিনি ভেতরের যাত্রীদের চিৎকার শুনতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে খোঁজ নিয়ে যখন তিনি জানতে পারেন যে এক নারীর প্রসব বেদনা উঠেছে, তখন তিনি কালবিলম্ব না করে মুহূর্তের মধ্যে বাসটি রাস্তার পাশে নিরাপদে থামিয়ে ফেলেন। চালক বাস থামানোর পরপরই প্রসবকালে ওই নারীর যথাযথ গোপনীয়তা ও সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য বাসের সব পুরুষযাত্রী নিজে থেকেই বাস থেকে দ্রুত নেমে যান। একই সঙ্গে, প্রসবের স্থানটি চারপাশ থেকে নিরাপদে ঢেকে দেওয়ার জন্য বাসের ভেতরেই আলাদা কাপড় ও চাদর টানিয়ে চমৎকার পর্দার ব্যবস্থা করা হয়।
পুরো প্রসবের সময়টাতে বাসের নারী যাত্রী এবং বাসের স্টাফরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে ওই প্রসূতির পাশে এসে দাঁড়ান। জরুরি নম্বরে ফোন করে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করার আগেই বাসটির ভেতরেই ওই নারী একটি সুন্দর কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। চালক ও অন্যান্য সচেতন যাত্রীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই একটি জরুরি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে আনা হয়। এরপর ওই নতুন মা ও তার সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতক শিশুকে নিরাপদে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে হাসপাতালের চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন যে মা ও শিশু দুজনই সম্পূর্ণ সুস্থ এবং তাদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে পুরোপুরি স্থিতিশীল রয়েছে।
চলন্ত বাসে এমন অলৌকিক ও মানবিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে গভীর প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে। বাসের চালক, নারী যাত্রী এবং পুরুষযাত্রীদের এই অপূর্ব পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধ সমাজের প্রতিটি স্তরে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অপরিচিত যাত্রীদের এই বিপদের দিনে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা প্রমাণ করে যে মানবতা আজও বেঁচে আছে।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
ভারতের আসামে ভ্রমণের সময় এক রোমাঞ্চকর ও মানবিক ঘটনার সাক্ষী হলেন যাত্রীরা। গুয়াহাটি থেকে দিব্রুগড়গামী একটি যাত্রীবাহী বাসে ভ্রমণের সময় প্রসব বেদনায় আক্রান্ত হয়ে বাসের ভেতরই এক নারী একটি সুস্থ মেয়ে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এই অস্বাভাবিক ও সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রসবের সময় সহায়তা করতে বাসচালকসহ উপস্থিত সব যাত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টা ও মানবিকতা পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আদিউ জান পরিবহন নামের ওই যাত্রীবাহী বাসটির চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বাবুল বরপাত্র। ওই প্রসূতি নারীর সঙ্গে তার পরিবারের আরও সাতজন সদস্য একসঙ্গে বাসে ভ্রমণ করছিলেন। তারা আসামের জাগিরোড থেকে দিমুর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করার কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ ওই নারীর তীব্র প্রসব বেদনা শুরু হয়। হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে বাসের ভেতরের যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
বাসচালক বাবুল বরপাত্র গণমাধ্যমকে জানান, বাস চালানোর একপর্যায়ে তিনি ভেতরের যাত্রীদের চিৎকার শুনতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে খোঁজ নিয়ে যখন তিনি জানতে পারেন যে এক নারীর প্রসব বেদনা উঠেছে, তখন তিনি কালবিলম্ব না করে মুহূর্তের মধ্যে বাসটি রাস্তার পাশে নিরাপদে থামিয়ে ফেলেন। চালক বাস থামানোর পরপরই প্রসবকালে ওই নারীর যথাযথ গোপনীয়তা ও সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য বাসের সব পুরুষযাত্রী নিজে থেকেই বাস থেকে দ্রুত নেমে যান। একই সঙ্গে, প্রসবের স্থানটি চারপাশ থেকে নিরাপদে ঢেকে দেওয়ার জন্য বাসের ভেতরেই আলাদা কাপড় ও চাদর টানিয়ে চমৎকার পর্দার ব্যবস্থা করা হয়।
পুরো প্রসবের সময়টাতে বাসের নারী যাত্রী এবং বাসের স্টাফরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে ওই প্রসূতির পাশে এসে দাঁড়ান। জরুরি নম্বরে ফোন করে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করার আগেই বাসটির ভেতরেই ওই নারী একটি সুন্দর কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। চালক ও অন্যান্য সচেতন যাত্রীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই একটি জরুরি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে আনা হয়। এরপর ওই নতুন মা ও তার সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতক শিশুকে নিরাপদে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে হাসপাতালের চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন যে মা ও শিশু দুজনই সম্পূর্ণ সুস্থ এবং তাদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে পুরোপুরি স্থিতিশীল রয়েছে।
চলন্ত বাসে এমন অলৌকিক ও মানবিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে গভীর প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে। বাসের চালক, নারী যাত্রী এবং পুরুষযাত্রীদের এই অপূর্ব পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধ সমাজের প্রতিটি স্তরে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অপরিচিত যাত্রীদের এই বিপদের দিনে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা প্রমাণ করে যে মানবতা আজও বেঁচে আছে।

আপনার মতামত লিখুন