সংবাদ

অর্থ কি আসলেই অনর্থের মূল?


তানজিম হোসেন
তানজিম হোসেন
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪০ এএম

অর্থ কি আসলেই অনর্থের মূল?

অর্থ মানুষের জীবনের প্রয়োজন, রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি এবং সভ্যতার অগ্রযাত্রার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। অর্থের বিনিময়ে মানুষ খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ পায়। অর্থ দিয়েই গড়ে ওঠে শিল্পকারখানা, সড়ক, সেতু, হাসপাতাল এবং রাষ্ট্রের উন্নয়ন অবকাঠামো। কিন্তু যে অর্থ মানুষের জীবনকে সহজ করার কথা, সেই অর্থই যখন অনৈতিক উপার্জন, দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখন তা ব্যক্তিগত সমৃদ্ধির আড়ালে জাতীয় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রশ্ন জাগে, অর্থ কি আসলেই অনর্থের মূল, নাকি অর্থের প্রতি মানুষের সীমাহীন লোভ, অনৈতিকতা এবং জবাবদিহিহীন ক্ষমতার চর্চাই অনর্থের প্রকৃত উৎস?

অর্থ নিজে কখনো অনর্থের কারণ নয়। বরং অর্থের ব্যবহার, অর্জনের পদ্ধতি এবং বণ্টনের নৈতিকতাই নির্ধারণ করে এটি মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে, নাকি সমাজে বৈষম্য ও অস্থিরতা তৈরি করবে। একজন উদ্যোক্তা অর্থ বিনিয়োগ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন, একজন কৃষক অর্থ ব্যয় করে খাদ্য উৎপাদন করেন, একজন শিক্ষার্থী অর্থের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পান। অন্যদিকে, যখন কেউ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার দুর্বলতা কিংবা ব্যবসায়িক প্রভাব ব্যবহার করে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করেন এবং সেই সম্পদ বিদেশে সরিয়ে নেন, তখন অর্থ আর উন্নয়নের উপকরণ থাকে না; তা হয়ে ওঠে রাষ্ট্রের সম্পদ হরণের মাধ্যম।

বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অর্থ পাচার একটি দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়। অর্থ পাচার বলতে শুধু নগদ অর্থ বিদেশে পাঠানো বোঝায় না। আমদানি-রপ্তানিতে পণ্যের মূল্য কম বা বেশি দেখানো, ভুয়া ব্যবসায়িক লেনদেন, হুন্ডি, দুর্নীতির অর্থ বিদেশে বিনিয়োগ, কর ফাঁকি এবং সম্পদের প্রকৃত মালিকানা গোপন করার মতো বিভিন্ন প্রক্রিয়াও অবৈধ আর্থিক প্রবাহের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে আলোচিত একটি পদ্ধতি হলো ট্রেড বেইজড মানি লন্ডারিং বা বাণিজ্যভিত্তিক অর্থ পাচার। উদাহরণস্বরূপ, কোনো আমদানিকারক বিদেশ থেকে ১০ লাখ ডলারের পণ্য কিনে কাগজে তার মূল্য ১৫ লাখ ডলার দেখালে অতিরিক্ত ৫ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। আবার কোনো রপ্তানিকারক প্রকৃত রপ্তানি আয় গোপন করে ঘোষিত মূল্যের চেয়ে কম অর্থ দেশে আনলেও একই ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এভাবে বৈধ বাণিজ্যের আড়ালে অবৈধ আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হলে তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (GFI) ২০২১ সালের প্রতিবেদনে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পণ্যের মূল্যসংক্রান্ত অসংগতির ভিত্তিতে বছরে গড়ে প্রায় ৮.২৭৫ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য আর্থিক প্রবাহের ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে এই অঙ্ককে মোট আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ১৭.৩ শতাংশের সমতুল্য বলা হয়। তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি: এটি নিশ্চিতভাবে পাচার হওয়া অর্থের হিসাব নয়; আন্তর্জাতিক বাণিজ্যতথ্যের অসংগতির ভিত্তিতে তৈরি একটি অনুমান। তবু এই পরিসংখ্যান বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

আরও সাম্প্রতিক সময়ে GFI ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ প্রকাশ করে Trade-Related Illicit Financial Flows in Developing Asia (2013–2022) শীর্ষক গবেষণা। বাংলাদেশকে নিয়ে এই গবেষণার তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রায় ৬৮.৩ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যভিত্তিক অবৈধ আর্থিক প্রবাহের ঝুঁকির হিসাব উঠে এসেছে। অর্থাৎ, দশ বছরের হিসাবে গড়ে বছরে প্রায় ৬.৮৩ বিলিয়ন ডলার। তবে GFI নিজেই স্পষ্ট করেছে, বাণিজ্যতথ্যের পার্থক্য সব সময় অপরাধমূলক অর্থ লেনদেনের প্রমাণ নয়। এগুলো তদন্তের ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র শনাক্ত করার নির্দেশক।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর প্রকাশিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত অবৈধ আর্থিক বহিঃপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন ডলার এবং বার্ষিক গড় ১৬ বিলিয়ন ডলার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই হিসাব বিভিন্ন উৎসের তথ্য ও অনুমানের ভিত্তিতে তৈরি। তাই GFI এবং শ্বেতপত্রের পরিসংখ্যানকে সরাসরি যোগ করা কিংবা একই ধরনের পরিমাপ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। তবে উভয় গবেষণাই একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে: দেশের অর্থনৈতিক সম্পদ বিদেশে চলে যাওয়ার ঝুঁকি কতটা গুরুতর।

অর্থ পাচারের মূল্য দেয় কারা?

অর্থ পাচারের সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি অনেক সময় সেই সাধারণ নাগরিক, যিনি কখনো জানতেও পারেন না যে তাঁর জীবনের সুযোগগুলো কীভাবে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রের অর্থ বিদেশে চলে গেলে দেশের ভেতরে বিনিয়োগের সম্ভাবনা কমে। নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সুযোগ বাধাগ্রস্ত হয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ব্যাহত হয় এবং সরকারের রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে।

ধরা যাক, কোনো দেশের বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার না হয়ে দেশের ভেতরেই শিল্প, কৃষি, শিক্ষা কিংবা স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ হতো। সেই অর্থ দিয়ে নতুন কারখানা তৈরি হতে পারত, হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারত, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নত হতে পারত। কিন্তু অবৈধ আর্থিক প্রবাহের কারণে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়িত না হলে উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হয় সাধারণ মানুষ।

এখানে কর ফাঁকির বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জন করে কর এড়িয়ে যান, তাদের কারণে রাষ্ট্রের রাজস্ব আয় কমে যায়। ফলে সরকারকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও সামাজিক নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়। অন্যদিকে, যারা নিয়ম মেনে কর দেন, তাদের ওপর তুলনামূলক বেশি চাপ পড়তে পারে। এতে সমাজে অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হয় এবং বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারীরা অসাধু প্রতিযোগিতার মুখে পড়েন।

একটি দেশের আর্থিক ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো ব্যাংকিং খাতের প্রতি মানুষের আস্থা। মানুষ তার সঞ্চয় ব্যাংকে রাখে এই বিশ্বাসে যে, প্রতিষ্ঠানটি তার অর্থ নিরাপদ রাখবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যবহার করতে দেবে। কিন্তু ঋণ অনিয়ম, জালিয়াতি, দুর্বল তদারকি এবং প্রভাবশালী মহলের অনৈতিক হস্তক্ষেপ ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (BFIU) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি ওই বছরে মোট ৩০ হাজার ১৯৯টি সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমসংক্রান্ত প্রতিবেদন পেয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এই সংখ্যা ৭৪ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ২০ হাজার ৫২৪টি ছিল সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন এবং ৯ হাজার ৬৭৫টি ছিল সন্দেহজনক কার্যক্রম প্রতিবেদন।

তবে এসব প্রতিবেদনকে সরাসরি অর্থ পাচারের প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না। সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। বরং এগুলো সম্ভাব্য অনিয়ম শনাক্ত করে তদন্তের জন্য তথ্য সরবরাহ করে। একই সঙ্গে প্রতিবেদন বৃদ্ধির পেছনে নজরদারি ও রিপোর্টিং ব্যবস্থার উন্নতিও ভূমিকা রাখতে পারে। এই পার্থক্যটি বোঝা জরুরি, কারণ অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে সন্দেহ, অভিযোগ ও প্রমাণিত অপরাধকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশে অর্থ পাচার প্রতিরোধের জন্য আইন ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর অধীনে অর্থ পাচার প্রতিরোধ, সন্দেহজনক লেনদেন বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের তদন্তে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজ করে। BFIU আর্থিক গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পাঠায়। এ ছাড়া অর্থ পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে।

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও আন্তরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অর্থ পাচার করে বিদেশে সরিয়ে নেওয়া সম্পদ শনাক্ত, তদন্ত ও পুনরুদ্ধারের জন্য আন্তঃসংস্থার টাস্কফোর্স পুনর্গঠন করা হয়। এর মাধ্যমে বিদেশি আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, সংশ্লিষ্ট দেশের আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পদ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে অর্থ ফেরত আনা শুধু সম্পদ শনাক্ত করার বিষয় নয়। বিদেশে সম্পদের প্রকৃত মালিকানা শনাক্ত করা, আদালতের মাধ্যমে সম্পদ জব্দের আদেশ পাওয়া, সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপন করা দীর্ঘ ও জটিল কাজ। তাই তদন্তের মান, আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা এবং দক্ষ জনবল বাড়াতে হবে।

একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানির প্রতিটি ধাপে ডিজিটাল নজরদারি, পণ্যের প্রকৃত মূল্য যাচাই, ব্যাংকিং লেনদেনের স্বচ্ছতা, প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকের পরিচয় প্রকাশ এবং কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন জরুরি। রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক পরিচয় যা-ই হোক, আর্থিক অপরাধের অভিযোগের তদন্ত হতে হবে নিরপেক্ষ ও প্রমাণনির্ভর। আইনের প্রয়োগে বৈষম্য থাকলে দুর্নীতি প্রতিরোধের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হবে না।

অর্থ মানুষের প্রয়োজন পূরণ করে, কিন্তু অর্থের প্রতি অন্ধ লোভ মানুষের নৈতিকতাকে গ্রাস করতে পারে। একটি দেশের উন্নয়ন শুধু জিডিপি বৃদ্ধি কিংবা বড় অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে পরিমাপ করা যায় না। উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড হলো মানুষের জীবনমান, অর্থনৈতিক সুযোগের ন্যায্য বণ্টন, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা।

অর্থ যদি মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, তবে সেটিই উন্নয়নের শক্তি। আর সেই অর্থ যদি দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারের মাধ্যমে অল্প কিছু মানুষের সম্পদ বৃদ্ধির উপকরণে পরিণত হয়, তবে তা জাতীয় অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

সুতরাং, অর্থ অনর্থের মূল নয়; অনর্থের মূল হলো অর্থ অর্জন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে নৈতিকতার অনুপস্থিতি, জবাবদিহির অভাব এবং আইনের অসম প্রয়োগ। একটি রাষ্ট্র তখনই প্রকৃত অর্থে সমৃদ্ধ হয়, যখন তার সম্পদ দেশের মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, নাগরিকের সঞ্চয় নিরাপদ থাকে এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের মালিক যত প্রভাবশালীই হোন, তাঁকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে তাই শুধু অর্থ উপার্জন নয়, অর্থের সঠিক ব্যবহার, সুষ্ঠু বণ্টন এবং অবৈধ অর্থপ্রবাহ বন্ধ করাই হতে হবে জাতীয় অগ্রাধিকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

(লেখকের নিজস্ব মত)

[লেখক: শিক্ষার্থী, লোকপ্রশাসন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়] 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


অর্থ কি আসলেই অনর্থের মূল?

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

অর্থ মানুষের জীবনের প্রয়োজন, রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি এবং সভ্যতার অগ্রযাত্রার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। অর্থের বিনিময়ে মানুষ খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ পায়। অর্থ দিয়েই গড়ে ওঠে শিল্পকারখানা, সড়ক, সেতু, হাসপাতাল এবং রাষ্ট্রের উন্নয়ন অবকাঠামো। কিন্তু যে অর্থ মানুষের জীবনকে সহজ করার কথা, সেই অর্থই যখন অনৈতিক উপার্জন, দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখন তা ব্যক্তিগত সমৃদ্ধির আড়ালে জাতীয় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রশ্ন জাগে, অর্থ কি আসলেই অনর্থের মূল, নাকি অর্থের প্রতি মানুষের সীমাহীন লোভ, অনৈতিকতা এবং জবাবদিহিহীন ক্ষমতার চর্চাই অনর্থের প্রকৃত উৎস?



অর্থ নিজে কখনো অনর্থের কারণ নয়। বরং অর্থের ব্যবহার, অর্জনের পদ্ধতি এবং বণ্টনের নৈতিকতাই নির্ধারণ করে এটি মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে, নাকি সমাজে বৈষম্য ও অস্থিরতা তৈরি করবে। একজন উদ্যোক্তা অর্থ বিনিয়োগ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন, একজন কৃষক অর্থ ব্যয় করে খাদ্য উৎপাদন করেন, একজন শিক্ষার্থী অর্থের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পান। অন্যদিকে, যখন কেউ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার দুর্বলতা কিংবা ব্যবসায়িক প্রভাব ব্যবহার করে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করেন এবং সেই সম্পদ বিদেশে সরিয়ে নেন, তখন অর্থ আর উন্নয়নের উপকরণ থাকে না; তা হয়ে ওঠে রাষ্ট্রের সম্পদ হরণের মাধ্যম।





বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অর্থ পাচার একটি দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়। অর্থ পাচার বলতে শুধু নগদ অর্থ বিদেশে পাঠানো বোঝায় না। আমদানি-রপ্তানিতে পণ্যের মূল্য কম বা বেশি দেখানো, ভুয়া ব্যবসায়িক লেনদেন, হুন্ডি, দুর্নীতির অর্থ বিদেশে বিনিয়োগ, কর ফাঁকি এবং সম্পদের প্রকৃত মালিকানা গোপন করার মতো বিভিন্ন প্রক্রিয়াও অবৈধ আর্থিক প্রবাহের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।



এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে আলোচিত একটি পদ্ধতি হলো ট্রেড বেইজড মানি লন্ডারিং বা বাণিজ্যভিত্তিক অর্থ পাচার। উদাহরণস্বরূপ, কোনো আমদানিকারক বিদেশ থেকে ১০ লাখ ডলারের পণ্য কিনে কাগজে তার মূল্য ১৫ লাখ ডলার দেখালে অতিরিক্ত ৫ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। আবার কোনো রপ্তানিকারক প্রকৃত রপ্তানি আয় গোপন করে ঘোষিত মূল্যের চেয়ে কম অর্থ দেশে আনলেও একই ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এভাবে বৈধ বাণিজ্যের আড়ালে অবৈধ আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হলে তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।



যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (GFI) ২০২১ সালের প্রতিবেদনে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পণ্যের মূল্যসংক্রান্ত অসংগতির ভিত্তিতে বছরে গড়ে প্রায় ৮.২৭৫ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য আর্থিক প্রবাহের ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে এই অঙ্ককে মোট আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ১৭.৩ শতাংশের সমতুল্য বলা হয়। তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি: এটি নিশ্চিতভাবে পাচার হওয়া অর্থের হিসাব নয়; আন্তর্জাতিক বাণিজ্যতথ্যের অসংগতির ভিত্তিতে তৈরি একটি অনুমান। তবু এই পরিসংখ্যান বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।



আরও সাম্প্রতিক সময়ে GFI ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ প্রকাশ করে Trade-Related Illicit Financial Flows in Developing Asia (2013–2022) শীর্ষক গবেষণা। বাংলাদেশকে নিয়ে এই গবেষণার তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রায় ৬৮.৩ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যভিত্তিক অবৈধ আর্থিক প্রবাহের ঝুঁকির হিসাব উঠে এসেছে। অর্থাৎ, দশ বছরের হিসাবে গড়ে বছরে প্রায় ৬.৮৩ বিলিয়ন ডলার। তবে GFI নিজেই স্পষ্ট করেছে, বাণিজ্যতথ্যের পার্থক্য সব সময় অপরাধমূলক অর্থ লেনদেনের প্রমাণ নয়। এগুলো তদন্তের ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র শনাক্ত করার নির্দেশক।



অন্যদিকে, বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর প্রকাশিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত অবৈধ আর্থিক বহিঃপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন ডলার এবং বার্ষিক গড় ১৬ বিলিয়ন ডলার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই হিসাব বিভিন্ন উৎসের তথ্য ও অনুমানের ভিত্তিতে তৈরি। তাই GFI এবং শ্বেতপত্রের পরিসংখ্যানকে সরাসরি যোগ করা কিংবা একই ধরনের পরিমাপ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। তবে উভয় গবেষণাই একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে: দেশের অর্থনৈতিক সম্পদ বিদেশে চলে যাওয়ার ঝুঁকি কতটা গুরুতর।



অর্থ পাচারের মূল্য দেয় কারা?



অর্থ পাচারের সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি অনেক সময় সেই সাধারণ নাগরিক, যিনি কখনো জানতেও পারেন না যে তাঁর জীবনের সুযোগগুলো কীভাবে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রের অর্থ বিদেশে চলে গেলে দেশের ভেতরে বিনিয়োগের সম্ভাবনা কমে। নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সুযোগ বাধাগ্রস্ত হয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ব্যাহত হয় এবং সরকারের রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে।



ধরা যাক, কোনো দেশের বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার না হয়ে দেশের ভেতরেই শিল্প, কৃষি, শিক্ষা কিংবা স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ হতো। সেই অর্থ দিয়ে নতুন কারখানা তৈরি হতে পারত, হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারত, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নত হতে পারত। কিন্তু অবৈধ আর্থিক প্রবাহের কারণে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়িত না হলে উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হয় সাধারণ মানুষ।



এখানে কর ফাঁকির বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জন করে কর এড়িয়ে যান, তাদের কারণে রাষ্ট্রের রাজস্ব আয় কমে যায়। ফলে সরকারকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও সামাজিক নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়। অন্যদিকে, যারা নিয়ম মেনে কর দেন, তাদের ওপর তুলনামূলক বেশি চাপ পড়তে পারে। এতে সমাজে অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হয় এবং বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারীরা অসাধু প্রতিযোগিতার মুখে পড়েন।





একটি দেশের আর্থিক ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো ব্যাংকিং খাতের প্রতি মানুষের আস্থা। মানুষ তার সঞ্চয় ব্যাংকে রাখে এই বিশ্বাসে যে, প্রতিষ্ঠানটি তার অর্থ নিরাপদ রাখবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যবহার করতে দেবে। কিন্তু ঋণ অনিয়ম, জালিয়াতি, দুর্বল তদারকি এবং প্রভাবশালী মহলের অনৈতিক হস্তক্ষেপ ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট করে।



বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (BFIU) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি ওই বছরে মোট ৩০ হাজার ১৯৯টি সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমসংক্রান্ত প্রতিবেদন পেয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এই সংখ্যা ৭৪ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ২০ হাজার ৫২৪টি ছিল সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন এবং ৯ হাজার ৬৭৫টি ছিল সন্দেহজনক কার্যক্রম প্রতিবেদন।



তবে এসব প্রতিবেদনকে সরাসরি অর্থ পাচারের প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না। সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। বরং এগুলো সম্ভাব্য অনিয়ম শনাক্ত করে তদন্তের জন্য তথ্য সরবরাহ করে। একই সঙ্গে প্রতিবেদন বৃদ্ধির পেছনে নজরদারি ও রিপোর্টিং ব্যবস্থার উন্নতিও ভূমিকা রাখতে পারে। এই পার্থক্যটি বোঝা জরুরি, কারণ অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে সন্দেহ, অভিযোগ ও প্রমাণিত অপরাধকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।





বাংলাদেশে অর্থ পাচার প্রতিরোধের জন্য আইন ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর অধীনে অর্থ পাচার প্রতিরোধ, সন্দেহজনক লেনদেন বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের তদন্তে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজ করে। BFIU আর্থিক গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পাঠায়। এ ছাড়া অর্থ পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে।



বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও আন্তরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অর্থ পাচার করে বিদেশে সরিয়ে নেওয়া সম্পদ শনাক্ত, তদন্ত ও পুনরুদ্ধারের জন্য আন্তঃসংস্থার টাস্কফোর্স পুনর্গঠন করা হয়। এর মাধ্যমে বিদেশি আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, সংশ্লিষ্ট দেশের আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পদ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



তবে অর্থ ফেরত আনা শুধু সম্পদ শনাক্ত করার বিষয় নয়। বিদেশে সম্পদের প্রকৃত মালিকানা শনাক্ত করা, আদালতের মাধ্যমে সম্পদ জব্দের আদেশ পাওয়া, সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপন করা দীর্ঘ ও জটিল কাজ। তাই তদন্তের মান, আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা এবং দক্ষ জনবল বাড়াতে হবে।



একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানির প্রতিটি ধাপে ডিজিটাল নজরদারি, পণ্যের প্রকৃত মূল্য যাচাই, ব্যাংকিং লেনদেনের স্বচ্ছতা, প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকের পরিচয় প্রকাশ এবং কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন জরুরি। রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক পরিচয় যা-ই হোক, আর্থিক অপরাধের অভিযোগের তদন্ত হতে হবে নিরপেক্ষ ও প্রমাণনির্ভর। আইনের প্রয়োগে বৈষম্য থাকলে দুর্নীতি প্রতিরোধের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হবে না।





অর্থ মানুষের প্রয়োজন পূরণ করে, কিন্তু অর্থের প্রতি অন্ধ লোভ মানুষের নৈতিকতাকে গ্রাস করতে পারে। একটি দেশের উন্নয়ন শুধু জিডিপি বৃদ্ধি কিংবা বড় অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে পরিমাপ করা যায় না। উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড হলো মানুষের জীবনমান, অর্থনৈতিক সুযোগের ন্যায্য বণ্টন, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা।



অর্থ যদি মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, তবে সেটিই উন্নয়নের শক্তি। আর সেই অর্থ যদি দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারের মাধ্যমে অল্প কিছু মানুষের সম্পদ বৃদ্ধির উপকরণে পরিণত হয়, তবে তা জাতীয় অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।



সুতরাং, অর্থ অনর্থের মূল নয়; অনর্থের মূল হলো অর্থ অর্জন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে নৈতিকতার অনুপস্থিতি, জবাবদিহির অভাব এবং আইনের অসম প্রয়োগ। একটি রাষ্ট্র তখনই প্রকৃত অর্থে সমৃদ্ধ হয়, যখন তার সম্পদ দেশের মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, নাগরিকের সঞ্চয় নিরাপদ থাকে এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের মালিক যত প্রভাবশালীই হোন, তাঁকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে তাই শুধু অর্থ উপার্জন নয়, অর্থের সঠিক ব্যবহার, সুষ্ঠু বণ্টন এবং অবৈধ অর্থপ্রবাহ বন্ধ করাই হতে হবে জাতীয় অগ্রাধিকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

(লেখকের নিজস্ব মত)

[লেখক: শিক্ষার্থী, লোকপ্রশাসন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়] 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত