সংবাদ

গাড়ির নিচে তরল পড়লে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

গাড়ির নিচে তরল পড়লে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

গাড়ি পার্ক করার পর নিচে পানি জমে থাকতে দেখলে প্রথমেই সেটিকে যান্ত্রিক ত্রুটি ভেবে আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। বিশেষ করে এসি চালানোর পর স্বচ্ছ পানি পড়া গাড়ির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে। তবে তেল, কুল্যান্ট, ব্রেক ফ্লুইড কিংবা জ্বালানি বেরিয়ে এলে সেটি গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত। তাই গাড়ির নিচে জমে থাকা তরলের ধরন সম্পর্কে ধারণা রাখা জরুরি।

এসির পানি নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই

গাড়ির শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা এসি চালানোর সময় বাতাসের আর্দ্রতা ইভাপোরেটর কয়েলে ঘনীভূত হয়ে পানিতে পরিণত হয়। পরে ড্রেন পাইপ দিয়ে সেই পানি গাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসে। এ কারণে দীর্ঘক্ষণ এসি চালানোর পর গাড়ির নিচে স্বচ্ছ পানির ফোঁটা বা ছোট জলীয় অংশ দেখা যেতে পারে।

এ ধরনের পানি সাধারণত গন্ধহীন ও পাতলা হয়। শীতের সকালে কিংবা ইঞ্জিন চালু করার পর সাইলেন্সার থেকেও সামান্য পানি বের হতে পারে। জ্বালানি পোড়ানোর সময় তৈরি হওয়া জলীয় বাষ্প ঠান্ডা হয়ে তরলে পরিণত হওয়ার কারণে এমনটি ঘটে।

রঙ দেখে কুল্যান্ট ও তেল চিনুন

গাড়ির নিচে সবুজ, গোলাপি, নীল বা কমলা রঙের তরল জমলে সেটি কুল্যান্ট কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ইঞ্জিনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে এই তরল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কুল্যান্ট লিক হলে ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে। ড্যাশবোর্ডে তাপমাত্রার সতর্কসংকেত দেখা দেওয়ার পাশাপাশি ইঞ্জিনের ক্ষতিও হতে পারে।

অন্যদিকে ইঞ্জিন অয়েল সাধারণত বাদামি বা কালচে এবং পিচ্ছিল হয়। গিয়ারবক্সের তরলের রং গাড়ির মডেল ও ব্যবহৃত তরল অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই শুধু রঙের ওপর নির্ভর করে লিকেজের উৎস নির্ধারণ করা ঠিক নয়।

ব্রেক ফ্লুইড লিক হলে গাড়ি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ

চাকার আশপাশে বা গাড়ির নিচে স্বচ্ছ কিংবা হালকা হলুদাভ পিচ্ছিল তরল দেখা গেলে ব্রেক ফ্লুইড লিকের আশঙ্কা থাকতে পারে। ব্রেক ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় চাপ তৈরিতে এই তরল কাজ করে। লিকেজের কারণে এর পরিমাণ কমে গেলে ব্রেক প্যাডেল নরম হয়ে যেতে পারে এবং ব্রেক ঠিকভাবে কাজ না-ও করতে পারে।

এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে গাড়ি চালানো উচিত নয়। দ্রুত পেশাদার মেকানিকের সহায়তা নিতে হবে।

জ্বালানির গন্ধ পেলেই সাবধান

গাড়ির নিচে পেট্রল বা ডিজেলের ফোঁটা দেখা গেলে কিংবা আশপাশে তীব্র জ্বালানির গন্ধ পাওয়া গেলে বিষয়টিকে জরুরি হিসেবে নিতে হবে। ফুয়েল ট্যাংক বা পাইপের লিকেজ থেকে আগুন লাগার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে ইঞ্জিন চালু করবেন না। ধূমপান, আগুন কিংবা স্পার্ক তৈরি করতে পারে এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন। গাড়ি থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে পেশাদার সহায়তা নিন।

লিকেজ দেখা দিলে করণীয়

গাড়ির নিচে তরল জমে থাকলে সেটি স্বচ্ছ পানি নাকি তেলজাতীয় কিছু, তা বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করুন। তবে খালি হাতে তরল স্পর্শ করবেন না। ইঞ্জিন গরম থাকা অবস্থায় কুল্যান্টের ঢাকনাও খুলবেন না।

কুল্যান্ট কমে যাওয়া, ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়া, ব্রেকের কার্যকারিতা কমে যাওয়া কিংবা জ্বালানির গন্ধ পাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে গাড়ি চালানো বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে রাখুন। প্রয়োজনে দক্ষ মেকানিকের সাহায্য নিন।

মনে রাখতে হবে, এসি থেকে পানি পড়া অনেক সময় স্বাভাবিক হলেও অন্যান্য তরলের লিকেজ অবহেলা করা বিপজ্জনক হতে পারে। সমস্যার ধরন নিশ্চিত না হয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়া ঠিক নয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


গাড়ির নিচে তরল পড়লে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

গাড়ি পার্ক করার পর নিচে পানি জমে থাকতে দেখলে প্রথমেই সেটিকে যান্ত্রিক ত্রুটি ভেবে আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। বিশেষ করে এসি চালানোর পর স্বচ্ছ পানি পড়া গাড়ির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে। তবে তেল, কুল্যান্ট, ব্রেক ফ্লুইড কিংবা জ্বালানি বেরিয়ে এলে সেটি গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত। তাই গাড়ির নিচে জমে থাকা তরলের ধরন সম্পর্কে ধারণা রাখা জরুরি।

এসির পানি নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই

গাড়ির শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা এসি চালানোর সময় বাতাসের আর্দ্রতা ইভাপোরেটর কয়েলে ঘনীভূত হয়ে পানিতে পরিণত হয়। পরে ড্রেন পাইপ দিয়ে সেই পানি গাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসে। এ কারণে দীর্ঘক্ষণ এসি চালানোর পর গাড়ির নিচে স্বচ্ছ পানির ফোঁটা বা ছোট জলীয় অংশ দেখা যেতে পারে।

এ ধরনের পানি সাধারণত গন্ধহীন ও পাতলা হয়। শীতের সকালে কিংবা ইঞ্জিন চালু করার পর সাইলেন্সার থেকেও সামান্য পানি বের হতে পারে। জ্বালানি পোড়ানোর সময় তৈরি হওয়া জলীয় বাষ্প ঠান্ডা হয়ে তরলে পরিণত হওয়ার কারণে এমনটি ঘটে।

রঙ দেখে কুল্যান্ট ও তেল চিনুন

গাড়ির নিচে সবুজ, গোলাপি, নীল বা কমলা রঙের তরল জমলে সেটি কুল্যান্ট কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ইঞ্জিনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে এই তরল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কুল্যান্ট লিক হলে ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে। ড্যাশবোর্ডে তাপমাত্রার সতর্কসংকেত দেখা দেওয়ার পাশাপাশি ইঞ্জিনের ক্ষতিও হতে পারে।

অন্যদিকে ইঞ্জিন অয়েল সাধারণত বাদামি বা কালচে এবং পিচ্ছিল হয়। গিয়ারবক্সের তরলের রং গাড়ির মডেল ও ব্যবহৃত তরল অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই শুধু রঙের ওপর নির্ভর করে লিকেজের উৎস নির্ধারণ করা ঠিক নয়।

ব্রেক ফ্লুইড লিক হলে গাড়ি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ

চাকার আশপাশে বা গাড়ির নিচে স্বচ্ছ কিংবা হালকা হলুদাভ পিচ্ছিল তরল দেখা গেলে ব্রেক ফ্লুইড লিকের আশঙ্কা থাকতে পারে। ব্রেক ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় চাপ তৈরিতে এই তরল কাজ করে। লিকেজের কারণে এর পরিমাণ কমে গেলে ব্রেক প্যাডেল নরম হয়ে যেতে পারে এবং ব্রেক ঠিকভাবে কাজ না-ও করতে পারে।

এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে গাড়ি চালানো উচিত নয়। দ্রুত পেশাদার মেকানিকের সহায়তা নিতে হবে।

জ্বালানির গন্ধ পেলেই সাবধান

গাড়ির নিচে পেট্রল বা ডিজেলের ফোঁটা দেখা গেলে কিংবা আশপাশে তীব্র জ্বালানির গন্ধ পাওয়া গেলে বিষয়টিকে জরুরি হিসেবে নিতে হবে। ফুয়েল ট্যাংক বা পাইপের লিকেজ থেকে আগুন লাগার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে ইঞ্জিন চালু করবেন না। ধূমপান, আগুন কিংবা স্পার্ক তৈরি করতে পারে এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন। গাড়ি থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে পেশাদার সহায়তা নিন।

লিকেজ দেখা দিলে করণীয়

গাড়ির নিচে তরল জমে থাকলে সেটি স্বচ্ছ পানি নাকি তেলজাতীয় কিছু, তা বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করুন। তবে খালি হাতে তরল স্পর্শ করবেন না। ইঞ্জিন গরম থাকা অবস্থায় কুল্যান্টের ঢাকনাও খুলবেন না।

কুল্যান্ট কমে যাওয়া, ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়া, ব্রেকের কার্যকারিতা কমে যাওয়া কিংবা জ্বালানির গন্ধ পাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে গাড়ি চালানো বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে রাখুন। প্রয়োজনে দক্ষ মেকানিকের সাহায্য নিন।

মনে রাখতে হবে, এসি থেকে পানি পড়া অনেক সময় স্বাভাবিক হলেও অন্যান্য তরলের লিকেজ অবহেলা করা বিপজ্জনক হতে পারে। সমস্যার ধরন নিশ্চিত না হয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়া ঠিক নয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত