সংবাদ

বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবন বাণিজ্যিক করতে ইউজিসির নতুন উদ্যোগ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম

বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবন বাণিজ্যিক করতে ইউজিসির নতুন উদ্যোগ
গবেষণার ফল যেন শিল্পে কাজে লাগে, টিটিও ও ইনকিউবেটর গড়ছে ইউজিসি

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণাগারে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও জ্ঞানকে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাজে লাগানো এবং বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এ লক্ষ্যে যৌথ গবেষণায় অর্থায়ন বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর কার্যালয় (টিটিও) প্রতিষ্ঠা এবং স্টার্টআপ ইনকিউবেটর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) চট্টগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামে (আইআইইউসি) তিন দিনব্যাপী ‘পঞ্চম ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইনোভেশনস ইন সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এসব কথা বলেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘গবেষণার পরিধি কেবল গবেষণাপত্র লেখা, পর্যালোচনা ও প্রকাশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। গবেষণার ফলাফলকে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধান, প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং শিল্পের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগাতে হবে।’

তিনি জানান, গবেষণার সাফল্য শুধু প্রকাশনা বা উদ্ধৃতির সংখ্যা দিয়ে মূল্যায়ন না করে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, কার্যকর প্রোটোটাইপ তৈরি এবং মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের মাধ্যমেও মূল্যায়ন করতে হবে।

দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো বিভিন্ন প্রযুক্তি, সফটওয়্যার ও পরামর্শসেবার জন্য অনেকাংশে বিদেশের ওপর নির্ভরশীল বলে মন্তব্য করেন তিনি। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের মধ্যে এসব সমস্যার দেশীয় সমাধান দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের সরবরাহব্যবস্থার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনা, তৈরি পোশাক কারখানায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধির মতো ক্ষেত্রের কথা উল্লেখ করেন।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, গবেষকদেরও গবেষণাগারের গণ্ডি পেরিয়ে শিল্পকারখানায় যেতে হবে। শিল্পের বাস্তব চাহিদা ও সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেসবের কার্যকর প্রযুক্তিগত সমাধান উদ্ভাবনে কাজ করতে হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রযুক্তি হস্তান্তর কার্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব কার্যালয়ের মাধ্যমে উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ, পেটেন্ট গ্রহণ এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্টার্টআপ ইনকিউবেটর প্রতিষ্ঠায় কৌশলগত অনুদান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণাকে ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপান্তর, তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।

একইসঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত ব্যবহারিক গবেষণায় অর্থায়ন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উন্নত গবেষণাগার ও নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগও রয়েছে।

দেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা এবং আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি উচ্চমূল্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য অর্জনে গবেষণা ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরেন অধ্যাপক মামুন আহমেদ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, ওষুধশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং জীবপ্রযুক্তির মতো সম্ভাবনাময় খাতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশীয় সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় উদ্ভাবন নীতির দিকনির্দেশনা অনুসরণ এবং গবেষণা, শিল্প ও উদ্যোক্তা খাতের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আইআইইউসির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী আজাদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাসমত আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, নেপালের কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুদান ঝা, মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি সেইন্স ইসলাম মালয়েশিয়ার ড. আজনি হাসিলিজান বিনতে আবি হালিম, আইইইই বাংলাদেশ সেকশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম. ইমামুল হাসান ভূঁইয়া এবং আইআইইউসির অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. রাজু আহমেদসহ অন্যরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবন বাণিজ্যিক করতে ইউজিসির নতুন উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণাগারে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও জ্ঞানকে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাজে লাগানো এবং বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এ লক্ষ্যে যৌথ গবেষণায় অর্থায়ন বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর কার্যালয় (টিটিও) প্রতিষ্ঠা এবং স্টার্টআপ ইনকিউবেটর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) চট্টগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামে (আইআইইউসি) তিন দিনব্যাপী ‘পঞ্চম ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইনোভেশনস ইন সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এসব কথা বলেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘গবেষণার পরিধি কেবল গবেষণাপত্র লেখা, পর্যালোচনা ও প্রকাশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। গবেষণার ফলাফলকে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধান, প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং শিল্পের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগাতে হবে।’

তিনি জানান, গবেষণার সাফল্য শুধু প্রকাশনা বা উদ্ধৃতির সংখ্যা দিয়ে মূল্যায়ন না করে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, কার্যকর প্রোটোটাইপ তৈরি এবং মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের মাধ্যমেও মূল্যায়ন করতে হবে।

দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো বিভিন্ন প্রযুক্তি, সফটওয়্যার ও পরামর্শসেবার জন্য অনেকাংশে বিদেশের ওপর নির্ভরশীল বলে মন্তব্য করেন তিনি। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের মধ্যে এসব সমস্যার দেশীয় সমাধান দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের সরবরাহব্যবস্থার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনা, তৈরি পোশাক কারখানায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধির মতো ক্ষেত্রের কথা উল্লেখ করেন।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, গবেষকদেরও গবেষণাগারের গণ্ডি পেরিয়ে শিল্পকারখানায় যেতে হবে। শিল্পের বাস্তব চাহিদা ও সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেসবের কার্যকর প্রযুক্তিগত সমাধান উদ্ভাবনে কাজ করতে হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রযুক্তি হস্তান্তর কার্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব কার্যালয়ের মাধ্যমে উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ, পেটেন্ট গ্রহণ এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্টার্টআপ ইনকিউবেটর প্রতিষ্ঠায় কৌশলগত অনুদান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণাকে ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপান্তর, তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।

একইসঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত ব্যবহারিক গবেষণায় অর্থায়ন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উন্নত গবেষণাগার ও নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগও রয়েছে।

দেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা এবং আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি উচ্চমূল্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য অর্জনে গবেষণা ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরেন অধ্যাপক মামুন আহমেদ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, ওষুধশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং জীবপ্রযুক্তির মতো সম্ভাবনাময় খাতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশীয় সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় উদ্ভাবন নীতির দিকনির্দেশনা অনুসরণ এবং গবেষণা, শিল্প ও উদ্যোক্তা খাতের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আইআইইউসির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী আজাদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাসমত আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, নেপালের কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুদান ঝা, মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি সেইন্স ইসলাম মালয়েশিয়ার ড. আজনি হাসিলিজান বিনতে আবি হালিম, আইইইই বাংলাদেশ সেকশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম. ইমামুল হাসান ভূঁইয়া এবং আইআইইউসির অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. রাজু আহমেদসহ অন্যরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত