সংবাদ

রংপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ সারি


জেলা বার্তা পরিবেশক, রংপুর
জেলা বার্তা পরিবেশক, রংপুর
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম

রংপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ সারি
রংপুরের একটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের জন্য মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। ছবি : সংবাদ

বিভাগীয় শহর রংপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তেলের জন্য নগরজুড়ে একধরনের হাহাকার তৈরি হয়েছে। নগরীর ৪০টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে মাত্র দু-একটিতে তেল পাওয়া গেলেও সেখানে শত শত মোটরসাইকেল ও যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। ৫-৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে আগাম ঘোষণা ছাড়া ফিলিং স্টেশনগুলোতে পুলিশের তল্লাশি ও জরিমানাকে কেন্দ্র করে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে

বুধবার ( ১৫ এপ্রিল) নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ পাম্পে ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে। নগরীর শাপলা চত্বরে অবস্থিত ইউনিক ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ সারি। একই অবস্থা প্রাইভেট কারসহ অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রেও। পাম্পের কর্মীরা জানান, ডিপো থেকে তেলবাহী ট্যাংক লরি আসার অপেক্ষায় আছেন তারা।

সালেক পেট্রোল পাম্পের ব্যবস্থাপক আফসার আলী জানান, পাঁচ দিন আগে ৩ হাজার লিটার পেট্রোল বরাদ্দ পেয়েছিলেন, যা চার ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। এরপর পাঁচ দিন ধরে ডিপো থেকে আর কোনো তেল দেওয়া হয়নি। স্টেশন রোডের রহমান পেট্রোল পাম্পের কর্মীরাও একই অভিযোগ করেন।

ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ডিপো থেকে তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হচ্ছে। দু-একটি পাম্প প্রতিদিন তেল পেলেও বেশির ভাগ পাম্প ৪ থেকে ৬ দিন পরপর বরাদ্দ পাচ্ছে। ফলে চাহিদার চার ভাগের এক ভাগ তেলও মিলছে না।

এরই মধ্যে বুধবার শাপলা চত্বরের ইউনিক ট্রেডার্সে গিয়ে দেখা যায়, মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা তেল নিতে আসা চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করছেন। কাগজপত্র না থাকা এবং হেলমেট না পরার দায়ে অনেককে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হচ্ছে।

আলমনগর এলাকার ভুক্তভোগী সাহেব আলী বলেন, ‘তেল নিতে এসে দেখি তল্লাশি চলছে। হেলমেট না থাকায় আমাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হলো। সংকটের এই সময়ে আগাম ঘোষণা না দিয়ে এমন অভিযানে আমরা হয়রানির শিকার হচ্ছি।’

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (ট্রাফিক) মারুফ আহমেদ বলেন, ‘যাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে, তাদেরই কেবল তেল নিতে দেওয়া হচ্ছে। এতে পাম্পের অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড় কমবে। আর আইন অমান্যকারীদের জরিমানা করা হচ্ছে।’

রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) রমিজ আলম বলেন, ‘জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। আমরা সার্বিক বিষয় পর্যবেক্ষণ করছি।’

তবে ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আশফাক মাহাতাব বলেন, তেলের সরবরাহ ও বিক্রির বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কোনো সমন্বয় নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় শহরতলি ও উপজেলার পাম্পগুলোতেও মানুষ ভিড় করছেন, কিন্তু তেল পাচ্ছেন না।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


রংপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ সারি

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বিভাগীয় শহর রংপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তেলের জন্য নগরজুড়ে একধরনের হাহাকার তৈরি হয়েছে। নগরীর ৪০টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে মাত্র দু-একটিতে তেল পাওয়া গেলেও সেখানে শত শত মোটরসাইকেল ও যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। ৫-৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে আগাম ঘোষণা ছাড়া ফিলিং স্টেশনগুলোতে পুলিশের তল্লাশি ও জরিমানাকে কেন্দ্র করে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে

বুধবার ( ১৫ এপ্রিল) নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ পাম্পে ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে। নগরীর শাপলা চত্বরে অবস্থিত ইউনিক ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ সারি। একই অবস্থা প্রাইভেট কারসহ অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রেও। পাম্পের কর্মীরা জানান, ডিপো থেকে তেলবাহী ট্যাংক লরি আসার অপেক্ষায় আছেন তারা।

সালেক পেট্রোল পাম্পের ব্যবস্থাপক আফসার আলী জানান, পাঁচ দিন আগে ৩ হাজার লিটার পেট্রোল বরাদ্দ পেয়েছিলেন, যা চার ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। এরপর পাঁচ দিন ধরে ডিপো থেকে আর কোনো তেল দেওয়া হয়নি। স্টেশন রোডের রহমান পেট্রোল পাম্পের কর্মীরাও একই অভিযোগ করেন।

ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ডিপো থেকে তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হচ্ছে। দু-একটি পাম্প প্রতিদিন তেল পেলেও বেশির ভাগ পাম্প ৪ থেকে ৬ দিন পরপর বরাদ্দ পাচ্ছে। ফলে চাহিদার চার ভাগের এক ভাগ তেলও মিলছে না।

এরই মধ্যে বুধবার শাপলা চত্বরের ইউনিক ট্রেডার্সে গিয়ে দেখা যায়, মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা তেল নিতে আসা চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করছেন। কাগজপত্র না থাকা এবং হেলমেট না পরার দায়ে অনেককে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হচ্ছে।

আলমনগর এলাকার ভুক্তভোগী সাহেব আলী বলেন, ‘তেল নিতে এসে দেখি তল্লাশি চলছে। হেলমেট না থাকায় আমাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হলো। সংকটের এই সময়ে আগাম ঘোষণা না দিয়ে এমন অভিযানে আমরা হয়রানির শিকার হচ্ছি।’

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (ট্রাফিক) মারুফ আহমেদ বলেন, ‘যাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে, তাদেরই কেবল তেল নিতে দেওয়া হচ্ছে। এতে পাম্পের অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড় কমবে। আর আইন অমান্যকারীদের জরিমানা করা হচ্ছে।’

রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) রমিজ আলম বলেন, ‘জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। আমরা সার্বিক বিষয় পর্যবেক্ষণ করছি।’

তবে ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আশফাক মাহাতাব বলেন, তেলের সরবরাহ ও বিক্রির বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কোনো সমন্বয় নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় শহরতলি ও উপজেলার পাম্পগুলোতেও মানুষ ভিড় করছেন, কিন্তু তেল পাচ্ছেন না।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত