সংবাদ

রোহিঙ্গা সংকট ও সমুদ্রপথে মৃত্যু


প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম

রোহিঙ্গা সংকট ও সমুদ্রপথে মৃত্যু

আন্দামান সাগরে একটি ট্রলার ডুবে কমবেশি ২৫০ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন| গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ট্রলারটি টেকনাফ থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল| অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ট্রলারটি উত্তাল সমুদ্রে প্রবল বাতাসের কারণে গত ৯ এপ্রিল ডুবে যায়| নিহত বা নিখোঁজদের অনেকেই ছিলেন রোহিঙ্গা শরণার্থী| 

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন প্রায় ৯শ’ জন| এ বছর সাড়ে ছয় হাজারের বেশি রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে যাত্রার চেষ্টা করেছেন| তাদের মধ্যে প্রতি সাতজনে একজন প্রাণ হারিয়েছেন| এই অঞ্চলে সমুদ্রপথে শরণার্থীদের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর ছিল ২০২৫| 

শরণার্থী শিবিরে মানবিক সহায়তা কমে গেছে| রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তা কাটেনি| অনেক শরণার্থী ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা বেছে নিচ্ছে| এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানব পাচারকারী চক্র| 

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা আশানুরূপ নয়| ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় মাত্র ৫৩ শতাংশ অর্থ পাওয়া গেছে| তহবিল কমলে শরণার্থী শিবিরে মানবিক সংকট বাড়ে| আর সংকট বাড়লে অনেক শরণার্থী ঝুঁকি নিতে বাধ্য হন| 

এই সংকটের কোনো সহজ সমাধান নেই| তবে কয়েকটি বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে| রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ থেকে বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো সমাধানে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ ˆতরি করতে হবে| শরণার্থী শিবিরে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত রাখতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন করা জরুরি| কারণ সাগরে ডুবে মরা মানুষের সংখ্যা কেবল পরিসংখ্যান নয়, এটি সম্মিলিত ব্যর্থতার প্রমাণ| 

রোহিঙ্গা সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমস্যা| এর স্থায়ী সমাধান না হলে মানুষের জীবনহানি অব্যাহত থাকবে|

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


রোহিঙ্গা সংকট ও সমুদ্রপথে মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

আন্দামান সাগরে একটি ট্রলার ডুবে কমবেশি ২৫০ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন| গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ট্রলারটি টেকনাফ থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল| অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ট্রলারটি উত্তাল সমুদ্রে প্রবল বাতাসের কারণে গত ৯ এপ্রিল ডুবে যায়| নিহত বা নিখোঁজদের অনেকেই ছিলেন রোহিঙ্গা শরণার্থী| 

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন প্রায় ৯শ’ জন| এ বছর সাড়ে ছয় হাজারের বেশি রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে যাত্রার চেষ্টা করেছেন| তাদের মধ্যে প্রতি সাতজনে একজন প্রাণ হারিয়েছেন| এই অঞ্চলে সমুদ্রপথে শরণার্থীদের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর ছিল ২০২৫| 

শরণার্থী শিবিরে মানবিক সহায়তা কমে গেছে| রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তা কাটেনি| অনেক শরণার্থী ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা বেছে নিচ্ছে| এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানব পাচারকারী চক্র| 

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা আশানুরূপ নয়| ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় মাত্র ৫৩ শতাংশ অর্থ পাওয়া গেছে| তহবিল কমলে শরণার্থী শিবিরে মানবিক সংকট বাড়ে| আর সংকট বাড়লে অনেক শরণার্থী ঝুঁকি নিতে বাধ্য হন| 

এই সংকটের কোনো সহজ সমাধান নেই| তবে কয়েকটি বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে| রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ থেকে বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো সমাধানে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ ˆতরি করতে হবে| শরণার্থী শিবিরে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত রাখতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন করা জরুরি| কারণ সাগরে ডুবে মরা মানুষের সংখ্যা কেবল পরিসংখ্যান নয়, এটি সম্মিলিত ব্যর্থতার প্রমাণ| 

রোহিঙ্গা সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমস্যা| এর স্থায়ী সমাধান না হলে মানুষের জীবনহানি অব্যাহত থাকবে|


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত