বর্ষার আগমনী বার্তার সঙ্গেই দরজায় কড়া নাড়ছে ডেঙ্গুর ভয়াল থাবা। ঘরে ঘরে যেন কান্নার রোল না ওঠে, সেজন্য ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রকোপ থেকে জাতিকে রক্ষা করতে এবার কোমর বেঁধে মাঠে নামছে সরকার। দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে সাঁড়াশি ‘চিরুনি অভিযান’। তবে শুধু অভিযানই নয়, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের চিকিৎসার খরচ হাতের নাগালে আনতে দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেওয়া হয়েছে ছাড়ের ঘোষণা।
মশার
বংশবৃদ্ধি ঠেকাতে এবার পরিত্যক্ত ওয়াশরুম,
ছাদ ও গ্যারেজে জমে
থাকা পানিতে মশার লার্ভা ধ্বংসে
বিশেষ রাসায়নিক ‘নোভালিইউরন’ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ডেঙ্গু নিয়ে অংশীদারদের সঙ্গে
একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন
বলেন, "অনেক পরিত্যক্ত বাথরুমের
কমোড এবং গ্যারেজে পানি
জমে থাকে, যা মশার প্রধান
প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।"
তিনি
জানান, স্থল ও জল
উভয়পথেই সমানে স্প্রে কার্যক্রম চালানো হবে এবং সন্দেহভাজন
বাড়িগুলোতে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তল্লাশি চালিয়ে জরিমানা করা হবে।
এবারের
ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর
এসেছে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর পক্ষ থেকে। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সব ডেঙ্গু রোগীর
চিকিৎসায় এক বিশাল মানবিক
হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তারা। হাসপাতালগুলো তাদের মোট সিটের ১০
শতাংশ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য সম্পূর্ণ ফ্রি
বা ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত
নিয়েছে, যেখানে কোনো ডাক্তার বা
বেড চার্জ দিতে হবে না।
এছাড়া সব ডেঙ্গু রোগীর
ল্যাব ইনভেস্টিগেশনে (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) দেওয়া হবে ৮০ শতাংশ
পর্যন্ত বিশাল ছাড়।
বিশ্বের
কিছু দেশে ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন
ব্যবহার করা হলেও এখনই
তা বাংলাদেশে প্রয়োগ করা হচ্ছে না।
নিরাপত্তার বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে দেশের
মানুষের ওপর কোনো ঝুঁকি
নিতে চায় না সরকার।
এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, "আমরা
এলডিসি কান্ট্রি হিসেবে হঠাৎ করে এই
ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করতে পারি
না। খোদা না খাস্তা
একটা দুর্ঘটনা ঘটলে সব দায়
আমাদের ওপর আসবে। মাননীয়
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা
হয়েছে।"
আন্তর্জাতিক
মহলে কথা বলে এটি
সম্পূর্ণ নিরাপদ প্রমাণিত হলেই ভবিষ্যতে ভ্যাকসিনের
কথা বিবেচনা করা হবে।
লড়াইটা
কঠিন, কিন্তু বাঙালির হার না মানার
ইতিহাসই বড় শক্তি। মরণব্যাধি
ডেঙ্গুর হাত থেকে দেশের
প্রতিটি নাগরিককে বাঁচানোর এই যুদ্ধে গবেষক
থেকে শুরু করে গণমাধ্যম—সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো
হয়েছে।
বুকভরা
আশা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দৃঢ়
প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, "শূন্য
ভান্ডার থেকে যেভাবে অতীতে
নানা দুর্যোগ মোকাবিলা করা হয়েছে, ঠিক
তেমনি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায়
এবারও ডেঙ্গুর হাত থেকে জাতিকে
রক্ষা করা সম্ভব হবে।"

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬
বর্ষার আগমনী বার্তার সঙ্গেই দরজায় কড়া নাড়ছে ডেঙ্গুর ভয়াল থাবা। ঘরে ঘরে যেন কান্নার রোল না ওঠে, সেজন্য ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রকোপ থেকে জাতিকে রক্ষা করতে এবার কোমর বেঁধে মাঠে নামছে সরকার। দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে সাঁড়াশি ‘চিরুনি অভিযান’। তবে শুধু অভিযানই নয়, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের চিকিৎসার খরচ হাতের নাগালে আনতে দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেওয়া হয়েছে ছাড়ের ঘোষণা।
মশার
বংশবৃদ্ধি ঠেকাতে এবার পরিত্যক্ত ওয়াশরুম,
ছাদ ও গ্যারেজে জমে
থাকা পানিতে মশার লার্ভা ধ্বংসে
বিশেষ রাসায়নিক ‘নোভালিইউরন’ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ডেঙ্গু নিয়ে অংশীদারদের সঙ্গে
একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন
বলেন, "অনেক পরিত্যক্ত বাথরুমের
কমোড এবং গ্যারেজে পানি
জমে থাকে, যা মশার প্রধান
প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।"
তিনি
জানান, স্থল ও জল
উভয়পথেই সমানে স্প্রে কার্যক্রম চালানো হবে এবং সন্দেহভাজন
বাড়িগুলোতে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তল্লাশি চালিয়ে জরিমানা করা হবে।
এবারের
ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর
এসেছে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর পক্ষ থেকে। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সব ডেঙ্গু রোগীর
চিকিৎসায় এক বিশাল মানবিক
হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তারা। হাসপাতালগুলো তাদের মোট সিটের ১০
শতাংশ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য সম্পূর্ণ ফ্রি
বা ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত
নিয়েছে, যেখানে কোনো ডাক্তার বা
বেড চার্জ দিতে হবে না।
এছাড়া সব ডেঙ্গু রোগীর
ল্যাব ইনভেস্টিগেশনে (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) দেওয়া হবে ৮০ শতাংশ
পর্যন্ত বিশাল ছাড়।
বিশ্বের
কিছু দেশে ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন
ব্যবহার করা হলেও এখনই
তা বাংলাদেশে প্রয়োগ করা হচ্ছে না।
নিরাপত্তার বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে দেশের
মানুষের ওপর কোনো ঝুঁকি
নিতে চায় না সরকার।
এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, "আমরা
এলডিসি কান্ট্রি হিসেবে হঠাৎ করে এই
ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করতে পারি
না। খোদা না খাস্তা
একটা দুর্ঘটনা ঘটলে সব দায়
আমাদের ওপর আসবে। মাননীয়
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা
হয়েছে।"
আন্তর্জাতিক
মহলে কথা বলে এটি
সম্পূর্ণ নিরাপদ প্রমাণিত হলেই ভবিষ্যতে ভ্যাকসিনের
কথা বিবেচনা করা হবে।
লড়াইটা
কঠিন, কিন্তু বাঙালির হার না মানার
ইতিহাসই বড় শক্তি। মরণব্যাধি
ডেঙ্গুর হাত থেকে দেশের
প্রতিটি নাগরিককে বাঁচানোর এই যুদ্ধে গবেষক
থেকে শুরু করে গণমাধ্যম—সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো
হয়েছে।
বুকভরা
আশা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দৃঢ়
প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, "শূন্য
ভান্ডার থেকে যেভাবে অতীতে
নানা দুর্যোগ মোকাবিলা করা হয়েছে, ঠিক
তেমনি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায়
এবারও ডেঙ্গুর হাত থেকে জাতিকে
রক্ষা করা সম্ভব হবে।"

আপনার মতামত লিখুন