কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে দাখিল পরীক্ষায় এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীকে বোর্ড নির্ধারিত বাড়তি সময় ও বিশেষ সুবিধা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার শাহ্ বাজার এ এইচ ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সময়সহ বিশেষ সহায়তা পাওয়ার কথা থাকলেও সাধারণ পরীক্ষার্থীদের মতোই তাকে পরীক্ষা দিতে হয়েছে।
বঞ্চনার শিকার ওই পরীক্ষার্থীর নাম ফারজানা মিতু। সে উপজেলার ভাঙামোড় দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। মিতু জানায়, সে একজন জন্মগত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং নিয়মিত সরকারি ভাতাও পায়। এর আগে একবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিলেও কোনো বাড়তি সুবিধা না পাওয়ায় তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল। এবার সেই বিষয়গুলোতেই পুনরায় পরীক্ষা দিচ্ছে সে। মিতুর দাবি, নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত সময়ের জন্য আবেদন করার পরও কেন্দ্র থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শাহ্ বাজার এ এইচ ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের (কেন্দ্র নম্বর ৩৮০) ১ নম্বর হলে পরীক্ষা দিচ্ছিল মিতু। বঞ্চনার বিষয়ে সিনিয়র শিক্ষক ও সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা বাড়তি সুবিধা পাওয়ার আইনগত অধিকার রাখে। আবেদন করার পরও তা না পাওয়া স্পষ্ট অধিকার লঙ্ঘন। একটু সময় পেলে মেয়েটি আরও ভালো ফল করতে পারত।
এ বিষয়ে ভাঙামোড় দাখিল মাদ্রাসার সুপার ইসমাইল হোসেন দাবি করেন, আগে মিতুর পরিবার থেকে আবেদন করা হয়নি। তবে পরীক্ষার দিন কেন্দ্র সচিবের কাছে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র সচিব মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, আবেদনটি যাচাই করে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুস সালাম বলেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর আবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা আক্তার বলেন, ‘পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্র সচিব বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে মিতু যেন বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত সময়সহ সব ধরনের সুবিধা পায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
আপনার মতামত লিখুন