সংবাদ

সংসদে প্রধানমন্ত্রী

হাসিনা, পরিবার ও ১১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাচারের মামলা সরকারের অগ্রাধিকারে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম

হাসিনা, পরিবার ও ১১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাচারের মামলা সরকারের অগ্রাধিকারে

  • ৭০,৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে
  • সরকার ‘স্মার্ট কৃষি’ কার্যক্রমের অধীনে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে
  • বিগত সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলারশিপ বাতিল করা হবে 
  • অন্তর্বর্তী সরকার হামের টিকা আমদানি না করায় সংকট

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ১০টি দেশ চিহ্নিত করে দেশগুলোর সঙ্গে আইনি সহায়তা চুক্তির প্রক্রিয়া সরকার চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অর্থ পাচার দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ করার কথা সংসদকে জানান তিনি। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পরিবার এবং ওই আমলে বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাচারের ১১টি মামলা সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে বলেও সংসদকে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব কথা জানান। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী দেশের বর্তমান ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার, কৃষি খাতের আমূল পরিবর্তন, স্বৈরাচারী আমলের সিন্ডিকেট নির্মূল এবং স্বাস্থ্য খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকারের অবস্থানের কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের বিষয়টিকে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে রেখেছে। শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে, যা বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।

প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকার প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশ চিহ্নিত করেছে। দেশগুলো হলো, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীন। প্রধানমন্ত্রী সংসদে জানান, এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তিতে সই করার বিষয়ে ইতিবাচক সম্মতি জানিয়েছে। বাকি সাতটি দেশের সাথে আলোচনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও গত ২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের অধীনেচুরির অর্থ উদ্ধার বিভাগ’ (স্টোলেন এসেট রিকভারি ডিভিশন) গঠন করা হয়েছে।

পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ১১টি সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের মামলাকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জানিয়েছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে গঠিত আন্তসংস্থা টাস্কফোর্সের চিহ্নিত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

প্রধানমন্ত্রী লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্ক ফোর্স চিহ্নিত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কেইসসমূহের অনুসন্ধান তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের নেতৃত্বে এবং পুলিশের সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল, শুল্ক গোয়েন্দা তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, অগ্রাধিকারভুক্ত মামলাগুলো হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার পরিবার তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। এস আলম গ্রুপ এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। বেক্সিমকো গ্রুপ এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। সিকদার গ্রুপ এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। বসুন্ধরা গ্রুপ এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। নাসা গ্রুপ এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। ওরিয়ন গ্রুপ এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। নাবিল গ্রুপ এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। এইচ বি এম ইকবাল, তার পরিবার তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং সামিট গ্রুপ এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে দেশে-বিদেশে প্রায় ৭০,৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক অবরুদ্ধ করা হয়েছে। পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে পর্যন্ত ১৪১টি মামলা হয়েছে এবং ১৫টি মামলার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, কৃষিখাতে বিপ্লব ঘটাতে সরকারস্মার্ট কৃষিকার্যক্রমের অধীনে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে গত ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখেকৃষক কার্ড’-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কৃষিকে টেকসই লাভজনক করতে কৃষক কার্ড একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি ১০ ধরনের ডিজিটাল ভৌত সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছেন তারেক রহমান। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ (বীজ, সার) বিতরণ, সরাসরি সরকারি ভর্তুকি প্রণোদনা প্রদান, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ কৃষি বিমা সুবিধা, পণ্য বিক্রয়ের সুবিধা সঠিক বাজার দর প্রাপ্তি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া রোগ-বালাই দমন পরামর্শ, কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ‘খামারি অ্যাপ’-এর মাধ্যমে মাটি পরিবেশ উপযোগী ফসল নির্বাচন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিশেষ পুনর্বাসন সহায়তা।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন খাতে শত কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ২৫ লাখের বেশি কৃষককে শত কোটি টাকার উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া সেচ সুবিধার জন্য ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।

সংসদ অধিবেশনে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত সার ডিলারদের নিয়ে আলোচনা হয়। চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পুরনো ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের হয়রানি করছে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, জনস্বার্থে বিগত সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত সকল ডিলারশিপ বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। কৃষিখাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা ফ্যাসিস্টদের দৌরাত্ম্য সহ্য করা হবে না বলে হুশিয়ারী দেন তিনি। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদও বিষয়ে একমত পোষণ করে জানান, অনিয়মকারী ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংসদে স্বাস্থ্য খাতে শিশুদের হামের টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিদেশ থেকে হামের টিকা আমদানি না করায় সংকট তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার দ্রুত ইউনিসেফের সহায়তায় ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেছে এবং দেশের প্রায় কোটি শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘হাম প্রতিরোধে টেস্ট করার যে কিট ব্যবহার করা হয়, এটির স্বল্পতা রয়েছে। তবে ব্যাপারেও সরকার কাজ করছে। এর মধ্যে অনেক কিট এসে পৌঁছেছে। একটি কিট দিয়ে তিনটি টেস্ট করা যায়। কিছু কিট এই মুহূর্তে এয়ারপোর্টের কাস্টমসে আছে। সেগুলো আমরা দ্রুত ছাড় করানোর ব্যবস্থা করব, ইনশাআল্লাহ।

পাশাপাশি দেশের শিক্ষিত যুবকদের স্বাবলম্বী করতে ফ্রিল্যান্সিং খাতে বড় বিনিয়োগ করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে হাজার জনকে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং ২০ লাখ ফ্রিল্যান্সার কার্ড প্রদান করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬


হাসিনা, পরিবার ও ১১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাচারের মামলা সরকারের অগ্রাধিকারে

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

  • ৭০,৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে
  • সরকার ‘স্মার্ট কৃষি’ কার্যক্রমের অধীনে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে
  • বিগত সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলারশিপ বাতিল করা হবে 
  • অন্তর্বর্তী সরকার হামের টিকা আমদানি না করায় সংকট

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ১০টি দেশ চিহ্নিত করে দেশগুলোর সঙ্গে আইনি সহায়তা চুক্তির প্রক্রিয়া সরকার চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অর্থ পাচার দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ করার কথা সংসদকে জানান তিনি। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পরিবার এবং ওই আমলে বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাচারের ১১টি মামলা সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে বলেও সংসদকে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব কথা জানান। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী দেশের বর্তমান ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার, কৃষি খাতের আমূল পরিবর্তন, স্বৈরাচারী আমলের সিন্ডিকেট নির্মূল এবং স্বাস্থ্য খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকারের অবস্থানের কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের বিষয়টিকে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে রেখেছে। শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে, যা বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।

প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকার প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশ চিহ্নিত করেছে। দেশগুলো হলো, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীন। প্রধানমন্ত্রী সংসদে জানান, এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তিতে সই করার বিষয়ে ইতিবাচক সম্মতি জানিয়েছে। বাকি সাতটি দেশের সাথে আলোচনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও গত ২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের অধীনেচুরির অর্থ উদ্ধার বিভাগ’ (স্টোলেন এসেট রিকভারি ডিভিশন) গঠন করা হয়েছে।

পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ১১টি সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের মামলাকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জানিয়েছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে গঠিত আন্তসংস্থা টাস্কফোর্সের চিহ্নিত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

প্রধানমন্ত্রী লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্ক ফোর্স চিহ্নিত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কেইসসমূহের অনুসন্ধান তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের নেতৃত্বে এবং পুলিশের সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল, শুল্ক গোয়েন্দা তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, অগ্রাধিকারভুক্ত মামলাগুলো হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার পরিবার তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। এস আলম গ্রুপ এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। বেক্সিমকো গ্রুপ এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। সিকদার গ্রুপ এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। বসুন্ধরা গ্রুপ এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। নাসা গ্রুপ এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। ওরিয়ন গ্রুপ এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। নাবিল গ্রুপ এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। এইচ বি এম ইকবাল, তার পরিবার তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং সামিট গ্রুপ এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে দেশে-বিদেশে প্রায় ৭০,৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক অবরুদ্ধ করা হয়েছে। পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে পর্যন্ত ১৪১টি মামলা হয়েছে এবং ১৫টি মামলার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, কৃষিখাতে বিপ্লব ঘটাতে সরকারস্মার্ট কৃষিকার্যক্রমের অধীনে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে গত ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখেকৃষক কার্ড’-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কৃষিকে টেকসই লাভজনক করতে কৃষক কার্ড একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি ১০ ধরনের ডিজিটাল ভৌত সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছেন তারেক রহমান। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ (বীজ, সার) বিতরণ, সরাসরি সরকারি ভর্তুকি প্রণোদনা প্রদান, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ কৃষি বিমা সুবিধা, পণ্য বিক্রয়ের সুবিধা সঠিক বাজার দর প্রাপ্তি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া রোগ-বালাই দমন পরামর্শ, কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ‘খামারি অ্যাপ’-এর মাধ্যমে মাটি পরিবেশ উপযোগী ফসল নির্বাচন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিশেষ পুনর্বাসন সহায়তা।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন খাতে শত কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ২৫ লাখের বেশি কৃষককে শত কোটি টাকার উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া সেচ সুবিধার জন্য ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।

সংসদ অধিবেশনে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত সার ডিলারদের নিয়ে আলোচনা হয়। চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পুরনো ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের হয়রানি করছে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, জনস্বার্থে বিগত সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত সকল ডিলারশিপ বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। কৃষিখাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা ফ্যাসিস্টদের দৌরাত্ম্য সহ্য করা হবে না বলে হুশিয়ারী দেন তিনি। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদও বিষয়ে একমত পোষণ করে জানান, অনিয়মকারী ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংসদে স্বাস্থ্য খাতে শিশুদের হামের টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিদেশ থেকে হামের টিকা আমদানি না করায় সংকট তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার দ্রুত ইউনিসেফের সহায়তায় ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেছে এবং দেশের প্রায় কোটি শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘হাম প্রতিরোধে টেস্ট করার যে কিট ব্যবহার করা হয়, এটির স্বল্পতা রয়েছে। তবে ব্যাপারেও সরকার কাজ করছে। এর মধ্যে অনেক কিট এসে পৌঁছেছে। একটি কিট দিয়ে তিনটি টেস্ট করা যায়। কিছু কিট এই মুহূর্তে এয়ারপোর্টের কাস্টমসে আছে। সেগুলো আমরা দ্রুত ছাড় করানোর ব্যবস্থা করব, ইনশাআল্লাহ।

পাশাপাশি দেশের শিক্ষিত যুবকদের স্বাবলম্বী করতে ফ্রিল্যান্সিং খাতে বড় বিনিয়োগ করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে হাজার জনকে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং ২০ লাখ ফ্রিল্যান্সার কার্ড প্রদান করা হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত