মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর শশিকর কালিবাড়ি মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী চড়ক গাছ খেলা ও বৈশাখী মেলা। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি সময়ে তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন করা হয়।
মেলার শেষ দিন বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় মেলার প্রধান আকর্ষণ চড়ক গাছ খেলা। এই খেলায় ধর্মীয় আচারের অংশ হিসেবে জীবন্ত মানুষের শরীরে লোহার বড়শি গেঁথে চড়কগাছে ঝুলিয়ে ঘোরানো হয়। রোমাঞ্চকর এই দৃশ্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বিকেলে পাঁচজন যুবকের পিঠে বড় আকারের লোহার বড়শি গেঁথে দেওয়া হয়। এরপর তাদের মধ্যে দুজনকে বড়শির সঙ্গে দড়ি বেঁধে উঁচুতে তুলে চড়ক গাছের চারদিকে চক্রাকারে ঘোরানো হয়। ব্যতিক্রমী ও রোমাঞ্চকর এই আয়োজন দেখতে আসা দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল ও বিস্ময় তৈরি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা চড়ক গাছ খেলাকে দীর্ঘকাল ধরে ধর্মীয় আচার ও পূজার অংশ হিসেবে পালন করে আসছেন। লোকজ বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রায় ৩০০ বছর আগে থেকে এই এলাকায় চড়ক গাছ খেলা ও বৈশাখী মেলার প্রচলন রয়েছে। তবে ঐতিহাসিকদের মধ্যে এ নিয়ে ভিন্ন মতও আছে। কেউ কেউ মনে করেন, প্রাচীনকালে খাজনা দিতে ব্যর্থ প্রজাদের শাস্তি দিতে এ ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো, যা কালক্রমে লোকজ উৎসবে রূপ নিয়েছে।
মেলায় গ্রামীণ পণ্য, মাটির খেলনা, মিষ্টান্ন ও বিভিন্ন বিনোদনের আয়োজন ছিল। মেলা প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা, ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম, নবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল তালুকদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, ‘চড়ক গাছ খেলা একটি ভিন্নধর্মী ও রোমাঞ্চকর আয়োজন। এটি পরিচালনায় যেমন সাহসিকতা প্রয়োজন, তেমনি আয়োজকদের নিরাপত্তা বিষয়েও যথেষ্ট সচেতন থাকতে হয়।’
ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিশ্বাস ও গ্রামীণ সংস্কৃতির মেলবন্ধনে আয়োজিত এই চড়ক মেলা প্রতি বছরই মাদারীপুরের এই অঞ্চলে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়।
আপনার মতামত লিখুন