সোহাগী জাহান তনু। যে নামটি এখনো কাঁদায় হাজারো মানুষকে। হত্যার ১০ বছর পর গত ৬ এপ্রিল কুমিল্লার আদালত অবসরপ্রাপ্ত তিন সেনা সদস্যের ডিএনএ ক্রস-ম্যাচিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে। দীর্ঘদিন স্থবির থাকা মামলায় এটি নতুন অগ্রগতি।
তনুর মা আনোয়ারা বেগম চেয়ে থাকেন ঘরের দেয়ালে ঝোলানো মেয়ের ছবির দিকে। চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, “অনেক কষ্টে মেয়েকে মানুষ করেছি। শুধু সঠিক বিচার চাই। যারা অপরাধী, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।”তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, “গত দশ বছর ধরে বিচার চেয়ে আসছি।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর ঝোপের নিচে উদ্ধার করা হয় তনুর মরদেহ। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত হত্যা মামলায় ৪টি তদন্ত সংস্থা বদলেছে। ৭ জন কর্মকর্তা তদন্ত করেছেন। প্রায় ৮০টি শুনানি হয়েছে। এমনকি দুই দফা ময়নাতদন্ত করেও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে পারেননি চিকিৎসকরা।
তবে গত ৬ এপ্রিল পিবিআই পরিদর্শক তারিকুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লা সদর আমলি আদালত-১-এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক তিন সেনা সদস্যের ডিএনএ প্রোফাইল ক্রস-ম্যাচিংয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। তারা হলেন- সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলম। ২২ এপ্রিল হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
তনু হত্যার পরপরই দেশজুড়ে প্রতিবাদ হয়। শিক্ষার্থী থেকে সর্বস্তরের মানুষ রাস্তায় নামেন বিচারের দাবিতে। তবে অভিযোগ রয়েছে সেই আন্দোলন দমন করতে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা প্রতিবাদকারীদের ভয়ভীতি দেখিয়েছেন।
তারপরও থামেননি তনুর মা-বাবা। হুমকি, প্রলোভন- কিছুই টলাতে পারেনি আনোয়ারা বেগমকে। এখনো তিনি কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের স্টাফ কোয়ার্টারে থেকে ন্যায়বিচারের দাবিতে লড়ে যাচ্ছেন।
কুমিল্লা জেলা জজ আদালতের পরিদর্শক মামুনুর রশিদ গণমাধ্যমে জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে ৬ এপ্রিল আদালতে হাজির হয়ে অগ্রগতি জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পিবিআই পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম জানান, তারা আদালতে সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরেছেন। আশা করছেন তদন্তের মাধ্যমে সবকিছু বেরিয়ে আসবে।
তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকায় বিচার পাইনি। তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন জিওসির স্ত্রী ও একজন কমান্ডিং অফিসারের স্ত্রী সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
দশ বছর কেটে গেছে। মা আনোয়ারা বেগমের চোখের পানির ফোঁটা যেন প্রতিটি শুনানির পর আরও ভারী হয়। তার কণ্ঠেএকটাই কথা- “শুধু বিচার চাই।”এদিকে, আদালত গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এর আগে ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার সূত্র ধরে তদন্তের অংশ হিসেবে হাফিজুরকে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬
সোহাগী জাহান তনু। যে নামটি এখনো কাঁদায় হাজারো মানুষকে। হত্যার ১০ বছর পর গত ৬ এপ্রিল কুমিল্লার আদালত অবসরপ্রাপ্ত তিন সেনা সদস্যের ডিএনএ ক্রস-ম্যাচিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে। দীর্ঘদিন স্থবির থাকা মামলায় এটি নতুন অগ্রগতি।
তনুর মা আনোয়ারা বেগম চেয়ে থাকেন ঘরের দেয়ালে ঝোলানো মেয়ের ছবির দিকে। চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, “অনেক কষ্টে মেয়েকে মানুষ করেছি। শুধু সঠিক বিচার চাই। যারা অপরাধী, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।”তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, “গত দশ বছর ধরে বিচার চেয়ে আসছি।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর ঝোপের নিচে উদ্ধার করা হয় তনুর মরদেহ। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত হত্যা মামলায় ৪টি তদন্ত সংস্থা বদলেছে। ৭ জন কর্মকর্তা তদন্ত করেছেন। প্রায় ৮০টি শুনানি হয়েছে। এমনকি দুই দফা ময়নাতদন্ত করেও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে পারেননি চিকিৎসকরা।
তবে গত ৬ এপ্রিল পিবিআই পরিদর্শক তারিকুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লা সদর আমলি আদালত-১-এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক তিন সেনা সদস্যের ডিএনএ প্রোফাইল ক্রস-ম্যাচিংয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। তারা হলেন- সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলম। ২২ এপ্রিল হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
তনু হত্যার পরপরই দেশজুড়ে প্রতিবাদ হয়। শিক্ষার্থী থেকে সর্বস্তরের মানুষ রাস্তায় নামেন বিচারের দাবিতে। তবে অভিযোগ রয়েছে সেই আন্দোলন দমন করতে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা প্রতিবাদকারীদের ভয়ভীতি দেখিয়েছেন।
তারপরও থামেননি তনুর মা-বাবা। হুমকি, প্রলোভন- কিছুই টলাতে পারেনি আনোয়ারা বেগমকে। এখনো তিনি কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের স্টাফ কোয়ার্টারে থেকে ন্যায়বিচারের দাবিতে লড়ে যাচ্ছেন।
কুমিল্লা জেলা জজ আদালতের পরিদর্শক মামুনুর রশিদ গণমাধ্যমে জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে ৬ এপ্রিল আদালতে হাজির হয়ে অগ্রগতি জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পিবিআই পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম জানান, তারা আদালতে সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরেছেন। আশা করছেন তদন্তের মাধ্যমে সবকিছু বেরিয়ে আসবে।
তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকায় বিচার পাইনি। তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন জিওসির স্ত্রী ও একজন কমান্ডিং অফিসারের স্ত্রী সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
দশ বছর কেটে গেছে। মা আনোয়ারা বেগমের চোখের পানির ফোঁটা যেন প্রতিটি শুনানির পর আরও ভারী হয়। তার কণ্ঠেএকটাই কথা- “শুধু বিচার চাই।”এদিকে, আদালত গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এর আগে ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার সূত্র ধরে তদন্তের অংশ হিসেবে হাফিজুরকে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন