সংবাদ

গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত!


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত!
বাংলার গোলমরিচ।

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, যুদ্ধ জমি, সোনা বা ক্ষমতার লোভেই হয়ে থাকে। কিন্তু ভারতবর্ষের ক্ষেত্রে দৃশ্যপট ছিল ভিন্ন। প্রায় ২০০ বছরের পরাধীনতার পেছনে ছিল রান্নাঘরের একটি সাধারণ মশলা- গোলমরিচ। ইতিহাসবিদরা যাকে বলেন, ‘দ্য স্পাইস দ্যাট চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড’।

মধ্যযুগের ইউরোপে মাংস সংরক্ষণ ও খাবারের স্বাদ বাড়াতে গোলমরিচের জুড়ি ছিল না। এক পাউন্ড গোলমরিচের দাম তখন এক পাউন্ড সোনার সমান। এই বিপুল চাহিদা ইউরোপীয় নাবিকদের বাধ্য করেছিল ভারতের সমুদ্রপথ আবিষ্কার করতে। গোলমরিচই সেই ‘কালো সোনা’, যার পেছনে ছুটেছিল পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, ফরাসি ও ব্রিটিশরা।

১৪৯৮ সালে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামা যখন ভারতের কালিকট বন্দরে পৌঁছান, তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল সরাসরি গোলমরিচের বাণিজ্য। পরে এলেন ওলন্দাজ, ফরাসিরা। আর শেষে ব্রিটিশরা। তারা এসেছিলেন বণিক হয়ে, কিন্তু গোলমরিচের একচেটিয়া আধিপত্য ধরে রাখতে গিয়ে তাঁরা জড়িয়ে পড়েন স্থানীয় রাজনীতিতে।

গোলমরিচের লোভে বাংলায় আসতেন ইউরোপীয় বণিকরা

১৬০০ সালে ‘ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠনের সময় মূল লক্ষ্যই ছিল দক্ষিণ এশিয়া থেকে মশলা আমদানি। কোম্পানি বুঝতে পারে, কেবল ব্যবসা নয়- রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করলে মশলা কেনা বন্ধ করে সেগুলো কেড়ে নেওয়া সহজ। পলাশীর প্রান্তরে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পেছনেও এই বাণিজ্যিক স্বার্থই মুখ্য ভূমিকা রেখেছিল।

পরাধীনতার পর ব্রিটিশরা এ দেশের কৃষকদের বাধ্য করত খাদ্যশস্যের বদলে গোলমরিচ ও নীল চাষ করতে। ভারতের মশলায় সমৃদ্ধ হয়েছে ইউরোপের অর্থনীতি। আর এ দেশ নিমজ্জিত হয়েছে দুর্ভিক্ষ ও দারিদ্র্যে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. তপন রায়চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘গোলমরিচের লোভ ইউরোপীয়দের জলপথে এ দেশে টেনে আনে। পরে সেই বাণিজ্যিক স্বার্থই পরিণত হয় উপনিবেশবাদী শাসনে।’

আজকের দিনে আমরা সহজেই গোলমরিচ ব্যবহার করি। কিন্তু প্রতিটি দানা যেন এক রক্তাক্ত ইতিহাসের স্মারক। একটি সাধারণ মশলার স্বাদের জন্য ভারতবর্ষ যে মূল্য স্বাধীনতা দিয়ে চুকিয়েছিল, সেটা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। গোলমরিচের দানায় লুকিয়ে আছে লুণ্ঠনের গল্প, ঔপনিবেশিক নিপীড়নের কাহিনি। তথ্যসূত্র: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এশীয় ইতিহাস বিভাগের গবেষণা প্রতিবেদন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬


গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত!

প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, যুদ্ধ জমি, সোনা বা ক্ষমতার লোভেই হয়ে থাকে। কিন্তু ভারতবর্ষের ক্ষেত্রে দৃশ্যপট ছিল ভিন্ন। প্রায় ২০০ বছরের পরাধীনতার পেছনে ছিল রান্নাঘরের একটি সাধারণ মশলা- গোলমরিচ। ইতিহাসবিদরা যাকে বলেন, ‘দ্য স্পাইস দ্যাট চেঞ্জড দ্য ওয়ার্ল্ড’।

মধ্যযুগের ইউরোপে মাংস সংরক্ষণ ও খাবারের স্বাদ বাড়াতে গোলমরিচের জুড়ি ছিল না। এক পাউন্ড গোলমরিচের দাম তখন এক পাউন্ড সোনার সমান। এই বিপুল চাহিদা ইউরোপীয় নাবিকদের বাধ্য করেছিল ভারতের সমুদ্রপথ আবিষ্কার করতে। গোলমরিচই সেই ‘কালো সোনা’, যার পেছনে ছুটেছিল পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, ফরাসি ও ব্রিটিশরা।

১৪৯৮ সালে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামা যখন ভারতের কালিকট বন্দরে পৌঁছান, তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল সরাসরি গোলমরিচের বাণিজ্য। পরে এলেন ওলন্দাজ, ফরাসিরা। আর শেষে ব্রিটিশরা। তারা এসেছিলেন বণিক হয়ে, কিন্তু গোলমরিচের একচেটিয়া আধিপত্য ধরে রাখতে গিয়ে তাঁরা জড়িয়ে পড়েন স্থানীয় রাজনীতিতে।

গোলমরিচের লোভে বাংলায় আসতেন ইউরোপীয় বণিকরা

১৬০০ সালে ‘ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠনের সময় মূল লক্ষ্যই ছিল দক্ষিণ এশিয়া থেকে মশলা আমদানি। কোম্পানি বুঝতে পারে, কেবল ব্যবসা নয়- রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করলে মশলা কেনা বন্ধ করে সেগুলো কেড়ে নেওয়া সহজ। পলাশীর প্রান্তরে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পেছনেও এই বাণিজ্যিক স্বার্থই মুখ্য ভূমিকা রেখেছিল।

পরাধীনতার পর ব্রিটিশরা এ দেশের কৃষকদের বাধ্য করত খাদ্যশস্যের বদলে গোলমরিচ ও নীল চাষ করতে। ভারতের মশলায় সমৃদ্ধ হয়েছে ইউরোপের অর্থনীতি। আর এ দেশ নিমজ্জিত হয়েছে দুর্ভিক্ষ ও দারিদ্র্যে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. তপন রায়চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘গোলমরিচের লোভ ইউরোপীয়দের জলপথে এ দেশে টেনে আনে। পরে সেই বাণিজ্যিক স্বার্থই পরিণত হয় উপনিবেশবাদী শাসনে।’

আজকের দিনে আমরা সহজেই গোলমরিচ ব্যবহার করি। কিন্তু প্রতিটি দানা যেন এক রক্তাক্ত ইতিহাসের স্মারক। একটি সাধারণ মশলার স্বাদের জন্য ভারতবর্ষ যে মূল্য স্বাধীনতা দিয়ে চুকিয়েছিল, সেটা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। গোলমরিচের দানায় লুকিয়ে আছে লুণ্ঠনের গল্প, ঔপনিবেশিক নিপীড়নের কাহিনি। তথ্যসূত্র: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এশীয় ইতিহাস বিভাগের গবেষণা প্রতিবেদন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত