সংবাদ

ফেসবুকে পদ্মার ২ কাতল দেখে শিল্পপতির ফোন, অতঃপর...


গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম

ফেসবুকে পদ্মার ২ কাতল দেখে শিল্পপতির ফোন, অতঃপর...
পদ্মা ধরা পড়া দুই বিশালাকার কাতল। ছবি: প্রতিনিধি

পদ্মার বুকে জেলের জালে ধরা পড়া দুই বিশালকায় কাতল মাছ। একটির ওজন ২৫ কেজি ৫০০ গ্রাম, অপরটির ১৭ কেজি। মাছ দুটির দাম শুনলে চোখ কপালে উঠবে বৈকি! ঢাকার এক শিল্পপতি কিনে নিয়েছেন ৮৬ হাজার ৭০০ টাকায়। অর্থাৎ মাছ দুটির দাম পড়েছে ৮৬ হাজার ৭০০ টাকা।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া একতা মৎস্য আড়তে এই দরপতন ঘটে।

এর আগে শুক্রবার রাতে দৌলতদিয়া এলাকার জেলে বাবু সরদার ও পাবনার ঢালারচরের জামাল প্রামানিক আলাদা ট্রলার নিয়ে পদ্মা ও যমুনার মোহনায় জাল ফেলেন। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই জাল টেনে অবাক দুই জেলে। বাবু সরদারের জালে ১৭ কেজির একটি কাতল, আর জামাল প্রামানিকের জালে ২৫ কেজি ৫০০ গ্রামের আরেক কাতল।

স্থানীয়দের চোখ ছানাবড়া। এত বড় মাছ যে কেবল পদ্মাই পারে উপহার দিতে।

শনিবার সকালে মাছ দুটি আড়তে ওঠে। উন্মুক্ত নিলামে অংশ নেন স্থানীয় ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা। তিনি প্রথমে ২৫ কেজি ৫০০ গ্রামের কাতলটি কিনেন ২১শ টাকা কেজি দরে- মোট ৫৩ হাজার ৫৫০ টাকা। আর ১৭ কেজির কাতলটি কিনেন ১৭শ টাকা কেজি দরে- মোট ২৮ হাজার ৯০০ টাকায়। সব মিলিয়ে খরচ পড়ে ৮২ হাজার ৪৫০ টাকা।

তবে গল্প এখানেই শেষ নয়। চান্দু মোল্লা মাছ দুটির ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করেন। সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকার গুলশানের এক শিল্পপতি ফোন দেন-‘মাছ দুটো আমার জন্য রাখেন।’

শিল্পপতি প্রতি কেজিতে আরও ১০০ টাকা বেশি দিতে রাজি হন। ফলে চান্দু মোল্লার লাভ হয় ৪ হাজার ২৫০ টাকা। আর মাছ দুটির নতুন দাম দাঁড়ায় ৮৬ হাজার ৭০০ টাকায়। শিল্পপতি টাকা পরিশোধ করে বিশেষ ব্যবস্থায় মাছ বাড়িতে পাঠিয়ে নেন।

চান্দু মোল্লার আড়তে দুই কাতল।

চান্দু মোল্লা বললেন, ‘পদ্মার মাছের স্বর্গের মতো গন্ধ। বাড়তি দাম দিয়েও কেনার জন্য মানুষ পাগল।’

ঢাকার শিল্পপতি এ মাছ প্লেটে সাজিয়ে হয়তো উপভোগ করবেন। কিন্তু জেলে বাবু সরদারের মুখে হতাশা। তিনি বলেন, ‘পদ্মা-যমুনায় এখন বড় বড় মাছ ধরা পড়ছে। ভালো দাম পাচ্ছি। কিন্তু জ্বালানি তেলের অভাবে ট্রলার ঠিকমতো চালাতেই পারছি না। নিয়মিত জাল ফেলতে পারলে আরও বেশি মাছ পেতাম।’

গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম পাইলট বলেন, ‘এ এলাকায় মাঝেমধ্যেই বড় বড় মাছ ধরা পড়ছে। জেলে ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেন। কিন্তু এ মাছগুলোর জন্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলা গেলে নদীতে সহজে বংশবিস্তার করত। উৎপাদন আরও বাড়ত।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


ফেসবুকে পদ্মার ২ কাতল দেখে শিল্পপতির ফোন, অতঃপর...

প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পদ্মার বুকে জেলের জালে ধরা পড়া দুই বিশালকায় কাতল মাছ। একটির ওজন ২৫ কেজি ৫০০ গ্রাম, অপরটির ১৭ কেজি। মাছ দুটির দাম শুনলে চোখ কপালে উঠবে বৈকি! ঢাকার এক শিল্পপতি কিনে নিয়েছেন ৮৬ হাজার ৭০০ টাকায়। অর্থাৎ মাছ দুটির দাম পড়েছে ৮৬ হাজার ৭০০ টাকা।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া একতা মৎস্য আড়তে এই দরপতন ঘটে।

এর আগে শুক্রবার রাতে দৌলতদিয়া এলাকার জেলে বাবু সরদার ও পাবনার ঢালারচরের জামাল প্রামানিক আলাদা ট্রলার নিয়ে পদ্মা ও যমুনার মোহনায় জাল ফেলেন। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই জাল টেনে অবাক দুই জেলে। বাবু সরদারের জালে ১৭ কেজির একটি কাতল, আর জামাল প্রামানিকের জালে ২৫ কেজি ৫০০ গ্রামের আরেক কাতল।

স্থানীয়দের চোখ ছানাবড়া। এত বড় মাছ যে কেবল পদ্মাই পারে উপহার দিতে।

শনিবার সকালে মাছ দুটি আড়তে ওঠে। উন্মুক্ত নিলামে অংশ নেন স্থানীয় ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা। তিনি প্রথমে ২৫ কেজি ৫০০ গ্রামের কাতলটি কিনেন ২১শ টাকা কেজি দরে- মোট ৫৩ হাজার ৫৫০ টাকা। আর ১৭ কেজির কাতলটি কিনেন ১৭শ টাকা কেজি দরে- মোট ২৮ হাজার ৯০০ টাকায়। সব মিলিয়ে খরচ পড়ে ৮২ হাজার ৪৫০ টাকা।

তবে গল্প এখানেই শেষ নয়। চান্দু মোল্লা মাছ দুটির ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করেন। সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকার গুলশানের এক শিল্পপতি ফোন দেন-‘মাছ দুটো আমার জন্য রাখেন।’

শিল্পপতি প্রতি কেজিতে আরও ১০০ টাকা বেশি দিতে রাজি হন। ফলে চান্দু মোল্লার লাভ হয় ৪ হাজার ২৫০ টাকা। আর মাছ দুটির নতুন দাম দাঁড়ায় ৮৬ হাজার ৭০০ টাকায়। শিল্পপতি টাকা পরিশোধ করে বিশেষ ব্যবস্থায় মাছ বাড়িতে পাঠিয়ে নেন।

চান্দু মোল্লার আড়তে দুই কাতল।

চান্দু মোল্লা বললেন, ‘পদ্মার মাছের স্বর্গের মতো গন্ধ। বাড়তি দাম দিয়েও কেনার জন্য মানুষ পাগল।’

ঢাকার শিল্পপতি এ মাছ প্লেটে সাজিয়ে হয়তো উপভোগ করবেন। কিন্তু জেলে বাবু সরদারের মুখে হতাশা। তিনি বলেন, ‘পদ্মা-যমুনায় এখন বড় বড় মাছ ধরা পড়ছে। ভালো দাম পাচ্ছি। কিন্তু জ্বালানি তেলের অভাবে ট্রলার ঠিকমতো চালাতেই পারছি না। নিয়মিত জাল ফেলতে পারলে আরও বেশি মাছ পেতাম।’

গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম পাইলট বলেন, ‘এ এলাকায় মাঝেমধ্যেই বড় বড় মাছ ধরা পড়ছে। জেলে ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেন। কিন্তু এ মাছগুলোর জন্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলা গেলে নদীতে সহজে বংশবিস্তার করত। উৎপাদন আরও বাড়ত।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত