দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে উৎপাদনে ফিরলেও দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখনো স্বস্তিদায়ক নয়। বিপরীতে কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকা, জ্বালানি সংকট ও চাহিদা বাড়ায় লোডশেডিং আগের চেয়েও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানান, পাথর মিশ্রিত কয়লার কারণে কোল মিল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিটে কেন্দ্রটির উৎপাদন পুনরায় শুরু হয়। কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। তবে এর দ্বিতীয় ইউনিট (১২৫ মেগাওয়াট) ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে এবং তৃতীয় ইউনিট (২৭৫ মেগাওয়াট) গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই একটি ইউনিটের ওপর নির্ভর করে চলছিল উৎপাদন।
দেশের বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা আগের চেয়ে কমেছে। ১,৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পটুয়াখালীর পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। জ্বালানি সংকট ও রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।
১,১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার মাতারবাড়ি তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র (কক্সবাজার) জ্বালানি সীমাবদ্ধতার মধ্যে সীমিত আকারে চালু রয়েছে। পুরোদমে উৎপাদন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রাউজান তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের (চট্টগ্রাম) দুটি ইউনিটই প্রায় বন্ধ। একটি বন্ধ যান্ত্রিক ত্রুটিতে, অন্যটি গ্যাস সংকটের কারণে। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র (কাপ্তাই): পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে মাত্র একটি চালু আছে। কাপ্তাই হ্রদে পানি স্বল্পতার কারণে অন্য ইউনিটগুলো বন্ধ।
সারা দেশের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে লোডশেডিং পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি। শনিবারের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের প্রায় সব এলাকায় প্রতিদিন গড়ে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে- কখনো কখনো তা ১২ ঘণ্টাও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বিভাগের গ্রামীণ এলাকায় পরিস্থিতি শহরের চেয়েও খারাপ।
অঞ্চলটির চাহিদা ১,৩০০-১,৪০০ মেগাওয়াট হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম আসায় সংকট আরও গভীর হচ্ছে। ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনেকগুলো যান্ত্রিক ত্রুটি ও জ্বালানি সংকটে বন্ধ বা আংশিক চালু।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের সর্বশেষ তথ্য বলছে, শনিবার সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৬,৯০০ মেগাওয়াট। অন্যদিকে সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে ১৪,১৯৬ মেগাওয়াট। ব্যবধান ২,৭০৪ মেগাওয়াট। এই বিশাল ঘাটতি পূরণ করতে গিয়ে বাস্তবে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে পিডিবি বলছে, এপ্রিলের শেষ নাগাদ জাতীয় গ্রিডে ১,৯৫০ মেগাওয়াট যুক্ত হতে পারে। আদানি গ্রুপের বন্ধ ইউনিট (৭৫০ মেগাওয়াট) আজ ২৬ এপ্রিল থেকে আবার চালু হচ্ছে। এসএস পাওয়ার (৬০০ মেগাওয়াট) ২৮ এপ্রিল থেকে আর আরএনপিএল (৬০০ মেগাওয়াট) ২৮ এপ্রিল থেকে চালু হবে। একটি কয়লাবাহী জাহাজ রোববার পায়রা বন্দরে পৌঁছালে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রও চালু হতে পারে।

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে উৎপাদনে ফিরলেও দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখনো স্বস্তিদায়ক নয়। বিপরীতে কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকা, জ্বালানি সংকট ও চাহিদা বাড়ায় লোডশেডিং আগের চেয়েও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানান, পাথর মিশ্রিত কয়লার কারণে কোল মিল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিটে কেন্দ্রটির উৎপাদন পুনরায় শুরু হয়। কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। তবে এর দ্বিতীয় ইউনিট (১২৫ মেগাওয়াট) ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে এবং তৃতীয় ইউনিট (২৭৫ মেগাওয়াট) গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই একটি ইউনিটের ওপর নির্ভর করে চলছিল উৎপাদন।
দেশের বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা আগের চেয়ে কমেছে। ১,৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পটুয়াখালীর পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। জ্বালানি সংকট ও রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।
১,১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার মাতারবাড়ি তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র (কক্সবাজার) জ্বালানি সীমাবদ্ধতার মধ্যে সীমিত আকারে চালু রয়েছে। পুরোদমে উৎপাদন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রাউজান তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের (চট্টগ্রাম) দুটি ইউনিটই প্রায় বন্ধ। একটি বন্ধ যান্ত্রিক ত্রুটিতে, অন্যটি গ্যাস সংকটের কারণে। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র (কাপ্তাই): পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে মাত্র একটি চালু আছে। কাপ্তাই হ্রদে পানি স্বল্পতার কারণে অন্য ইউনিটগুলো বন্ধ।
সারা দেশের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে লোডশেডিং পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি। শনিবারের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের প্রায় সব এলাকায় প্রতিদিন গড়ে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে- কখনো কখনো তা ১২ ঘণ্টাও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বিভাগের গ্রামীণ এলাকায় পরিস্থিতি শহরের চেয়েও খারাপ।
অঞ্চলটির চাহিদা ১,৩০০-১,৪০০ মেগাওয়াট হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম আসায় সংকট আরও গভীর হচ্ছে। ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনেকগুলো যান্ত্রিক ত্রুটি ও জ্বালানি সংকটে বন্ধ বা আংশিক চালু।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের সর্বশেষ তথ্য বলছে, শনিবার সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৬,৯০০ মেগাওয়াট। অন্যদিকে সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে ১৪,১৯৬ মেগাওয়াট। ব্যবধান ২,৭০৪ মেগাওয়াট। এই বিশাল ঘাটতি পূরণ করতে গিয়ে বাস্তবে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে পিডিবি বলছে, এপ্রিলের শেষ নাগাদ জাতীয় গ্রিডে ১,৯৫০ মেগাওয়াট যুক্ত হতে পারে। আদানি গ্রুপের বন্ধ ইউনিট (৭৫০ মেগাওয়াট) আজ ২৬ এপ্রিল থেকে আবার চালু হচ্ছে। এসএস পাওয়ার (৬০০ মেগাওয়াট) ২৮ এপ্রিল থেকে আর আরএনপিএল (৬০০ মেগাওয়াট) ২৮ এপ্রিল থেকে চালু হবে। একটি কয়লাবাহী জাহাজ রোববার পায়রা বন্দরে পৌঁছালে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রও চালু হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন