সংবাদ

চট্টগ্রাম-৪ আসনের শপথ জটিলতায় দুই ‘অ্যামিকাস কিউরি’


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম

চট্টগ্রাম-৪ আসনের শপথ জটিলতায় দুই ‘অ্যামিকাস কিউরি’
ছবি: সংগৃহীত

ঋণখেলাপির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে আইনি মতামত জানতে দুজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে ‘অ্যামিকাস কিউরি’  নিয়োগ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে ঋণখেলাপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বৈধ হলেও ২৩টি ব্যাংক থেকে প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার ঋণখেলাপির অভিযোগে তার চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফল স্থগিত রাখা হয়। ফলে নির্বাচণে বিজয়ী হয়েও শপথ নিতে পারেননি বিএনপির এই প্রার্থী। পরে আসলাম চৌধুরী তার ফলাফল প্রকাশ ও শপথ গ্রহণের অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন।

বুধবার (১০ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ৪ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।

আদালত যাদের অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন, তারা হলেন- সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী এবং কামরুল হক সিদ্দিকী।

কামরুল হক সিদ্দিকী সুপ্রিম কোর্টের একজন প্রখ্যাত দেওয়ানি আইন বিশেষজ্ঞ। জনস্বার্থসহ বিভিন্ন হাই-প্রোফাইল মামলায় আইনি লড়াইয়ের জন্য তিনি পরিচিত। অন্যদিকে, প্রবীর নিয়োগীও দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী, যিনি এর আগে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী (রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানো সংক্রান্ত) সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্নে আদালতকে আইনি পরামর্শ (অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে) দিয়েছেন।

আগামী ১৫ জুন মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীর পক্ষে  আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, “মামলাটির শুনানি বর্তমানে আংশিক সম্পন্ন (পার্ট-হার্ড) অবস্থায় রয়েছে। আদালত এই মামলায় আইনি ব্যাখ্যার জন্য জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী  ও কামরুল হক সিদ্দিকীকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।”

মামলার পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে এই আইনজীবী বলেন, “আগামী ১৫ তারিখ, সোমবার আদালত অ্যামিকাস কিউরিদের বক্তব্য শুনবেন। তাদের আইনি মতামত শোনার পর আদালত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।”

এর আগে, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রেখে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ ওই আদেশ দিয়েছিলেন। আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতার বিরুদ্ধে ওই আসনের জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী এবং যমুনা ব্যাংক পৃথক লিভ টু আপিল করেছিল। লিভ মঞ্জুর হওয়ায় এখন আপিলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি চলছে।

এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত হয় গত ৩ জানুয়ারি। ওই দিন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেন। তবে তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী এবং সংশ্লিষ্ট যমুনা ব্যাংক।

শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন আনোয়ার সিদ্দিকী ও ব্যাংকের আপিল খারিজ করে দেয়। ফলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে। ইসির এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক রিট করেন আবেদনকারীরা।

গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট শুনানি শেষে রিট দুটি খারিজ করে দেন। এর ফলে সেখানেও আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা টিকে যায়।

হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে ২৯ জানুয়ারি চেম্বার আদালতে আবেদন করেন আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক। সেদিন চেম্বার আদালত আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে হাইকোর্টের আদেশের প্রত্যায়িত অনুলিপি পেয়ে আনোয়ার সিদ্দিকী লিভ টু আপিল দায়ের করেন।

বর্তমানে বিষয়টি আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। ঋণখেলাপির অভিযোগের চূড়ান্ত সুরাহার আগে তিনি শপথ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে আইনি সমাধানের জন্যই দেশের দুই শীর্ষ আইনজীবীর মতামত শুনবেন সর্বোচ্চ আদালত।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬


চট্টগ্রাম-৪ আসনের শপথ জটিলতায় দুই ‘অ্যামিকাস কিউরি’

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image

ঋণখেলাপির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে আইনি মতামত জানতে দুজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে ‘অ্যামিকাস কিউরি’  নিয়োগ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে ঋণখেলাপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বৈধ হলেও ২৩টি ব্যাংক থেকে প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার ঋণখেলাপির অভিযোগে তার চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফল স্থগিত রাখা হয়। ফলে নির্বাচণে বিজয়ী হয়েও শপথ নিতে পারেননি বিএনপির এই প্রার্থী। পরে আসলাম চৌধুরী তার ফলাফল প্রকাশ ও শপথ গ্রহণের অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন।

বুধবার (১০ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ৪ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।

আদালত যাদের অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন, তারা হলেন- সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী এবং কামরুল হক সিদ্দিকী।

কামরুল হক সিদ্দিকী সুপ্রিম কোর্টের একজন প্রখ্যাত দেওয়ানি আইন বিশেষজ্ঞ। জনস্বার্থসহ বিভিন্ন হাই-প্রোফাইল মামলায় আইনি লড়াইয়ের জন্য তিনি পরিচিত। অন্যদিকে, প্রবীর নিয়োগীও দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী, যিনি এর আগে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী (রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানো সংক্রান্ত) সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্নে আদালতকে আইনি পরামর্শ (অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে) দিয়েছেন।

আগামী ১৫ জুন মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীর পক্ষে  আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, “মামলাটির শুনানি বর্তমানে আংশিক সম্পন্ন (পার্ট-হার্ড) অবস্থায় রয়েছে। আদালত এই মামলায় আইনি ব্যাখ্যার জন্য জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী  ও কামরুল হক সিদ্দিকীকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।”

মামলার পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে এই আইনজীবী বলেন, “আগামী ১৫ তারিখ, সোমবার আদালত অ্যামিকাস কিউরিদের বক্তব্য শুনবেন। তাদের আইনি মতামত শোনার পর আদালত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।”

এর আগে, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রেখে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ ওই আদেশ দিয়েছিলেন। আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতার বিরুদ্ধে ওই আসনের জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী এবং যমুনা ব্যাংক পৃথক লিভ টু আপিল করেছিল। লিভ মঞ্জুর হওয়ায় এখন আপিলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি চলছে।

এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত হয় গত ৩ জানুয়ারি। ওই দিন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেন। তবে তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী এবং সংশ্লিষ্ট যমুনা ব্যাংক।

শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন আনোয়ার সিদ্দিকী ও ব্যাংকের আপিল খারিজ করে দেয়। ফলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে। ইসির এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক রিট করেন আবেদনকারীরা।

গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট শুনানি শেষে রিট দুটি খারিজ করে দেন। এর ফলে সেখানেও আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা টিকে যায়।

হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে ২৯ জানুয়ারি চেম্বার আদালতে আবেদন করেন আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক। সেদিন চেম্বার আদালত আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে হাইকোর্টের আদেশের প্রত্যায়িত অনুলিপি পেয়ে আনোয়ার সিদ্দিকী লিভ টু আপিল দায়ের করেন।

বর্তমানে বিষয়টি আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। ঋণখেলাপির অভিযোগের চূড়ান্ত সুরাহার আগে তিনি শপথ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে আইনি সমাধানের জন্যই দেশের দুই শীর্ষ আইনজীবীর মতামত শুনবেন সর্বোচ্চ আদালত।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত