সংবাদ

নারী শান্তিরক্ষীদের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম

নারী শান্তিরক্ষীদের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে বুধবার (১০ জুন) ঢাকা সেনানিবাসে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। আমি আল্লাহর দরবারে তাদের মাগফিরাত কামনা করছি।’

তিনি শহীদ ও আহত শান্তিরক্ষীদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের আত্মত্যাগকে ‘যুদ্ধবিরোধী শান্তিকামী মানুষের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের দুই লাখের বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩টি দেশের প্রায় ৬৩টি মিশনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০টি মিশনে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি আরও জানান, হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নারী শান্তিরক্ষীদের ভূমিকাকে গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।’ তিনি বিশ্বাস করেন, শান্তিরক্ষায় নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘একটি দেশের সশস্ত্র বাহিনী দেশের স্বাধীনতা, সম্মান ও সাহসের প্রতীক।’

তিনি সশস্ত্র বাহিনীর ঐক্য, পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অফ কমান্ড ছাড়া সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকা কঠিন।’

প্রধানমন্ত্রী বর্তমান বিশ্বের জটিল পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলেন, ‘পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তনের ফলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জ এখন বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ।’

তিনি সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ও মিডিয়া অপপ্রচারের বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ মিশনগুলো হতে হবে আরও আধুনিক, দূরদর্শী এবং প্রযুক্তিনির্ভর।’

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, ‘বাংলাদেশ সব সময় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাস করে। বাংলাদেশ যে কোনো আগ্রাসন ও সংঘাতের বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কূটনীতিক ও জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনেও বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্ব দরবারে দেশের সুনাম সমুন্নত রাখবেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬


নারী শান্তিরক্ষীদের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে বুধবার (১০ জুন) ঢাকা সেনানিবাসে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। আমি আল্লাহর দরবারে তাদের মাগফিরাত কামনা করছি।’

তিনি শহীদ ও আহত শান্তিরক্ষীদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের আত্মত্যাগকে ‘যুদ্ধবিরোধী শান্তিকামী মানুষের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের দুই লাখের বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩টি দেশের প্রায় ৬৩টি মিশনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০টি মিশনে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি আরও জানান, হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নারী শান্তিরক্ষীদের ভূমিকাকে গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।’ তিনি বিশ্বাস করেন, শান্তিরক্ষায় নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘একটি দেশের সশস্ত্র বাহিনী দেশের স্বাধীনতা, সম্মান ও সাহসের প্রতীক।’

তিনি সশস্ত্র বাহিনীর ঐক্য, পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অফ কমান্ড ছাড়া সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকা কঠিন।’

প্রধানমন্ত্রী বর্তমান বিশ্বের জটিল পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলেন, ‘পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তনের ফলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জ এখন বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ।’

তিনি সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ও মিডিয়া অপপ্রচারের বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ মিশনগুলো হতে হবে আরও আধুনিক, দূরদর্শী এবং প্রযুক্তিনির্ভর।’

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, ‘বাংলাদেশ সব সময় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাস করে। বাংলাদেশ যে কোনো আগ্রাসন ও সংঘাতের বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কূটনীতিক ও জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনেও বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্ব দরবারে দেশের সুনাম সমুন্নত রাখবেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত