মেক্সিকোর মাঠে যখন বিশ্বকাপের পতাকা ওড়ে, তখন গ্রিন ফ্যালকনসের ডানা ভাঙার আশঙ্কাও সমান। স্পেন আর উরুগুয়ের গ্রুপে পড়ে সৌদি আরবের সামনে এখন বাস্তবের কঠিন পাঠ। লক্ষ্য কঠিন নয়, কিন্তু অর্জন করাও সহজ নয়- গ্রুপে তৃতীয় হয়ে রাউন্ড অব ৩২-এ ওঠা।
হার্ভে রেনার্ডের যাদুতে কাতারে আর্জেন্টিনাকে হারানো সেই অলৌকিক জয়ের পর এই সৌদি আরবকে যেন কেড়ে নিয়েছে মানসিক অবসাদ। এশিয়ান বাছাইয়ে জাপান-অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পায়ে পায়ে লড়তে গিয়ে হারিয়ে ফেলেছে নিজেদের খেলার ছন্দ। আক্রমণভাগে অস্থিরতা, বিদেশি তারা খেলোয়াড়েদের বেঞ্চে বসে থাকা- এসব একাকার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাছাইপর্বের চতুর্থ রাউন্ডের সেই চাপের ম্যাচে ইন্দোনেশিয়াকে ৩-২ হারিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে সৌদি আরব। সেটাই যেন তাদের আত্মবিশ্বাসের সন্ধান দেয়। এই অলৌকিক ঘটনার রুপকার জর্জিওস দনিস।
সৌদি ফুটবলের ভিতর-বাইরের খবর যিনি ভালোই জানেন। আর দলকে তিনি দিয়েছেন বাস্তবতার পাঠ- ‘বল দখলের প্রয়োজন নেই, জায়গা দখল আর পাল্টা আক্রমণই যথেষ্ট’। চার বছর আগের মোহ ভুলে দনিস বানিয়েছেন বাঙ্কার শক্ত দেয়াল। ৫-৪-১ অথবা ৪-২-৩-১; গভীর রক্ষণ, সংকুচিত মাঝমাঠ আর বিদ্যুৎগতির পাল্টা হানা।
সৌদি আরবের মূল শক্তি তাদের খেলোয়াড়দের দলীয় সংহতি। আল হিলাল, আল নাসের, আল আহলি- একই ঘরানার দলের প্রায় ৯০ ভাগ খেলোয়াড় দিনের পর দিন একসঙ্গে খেলছেন। মুসাব আল জুয়াইরের পাসিং জাদু, সৌদ আব্দুলহামিদের ডানপ্রান্তের গতি, আর সালেম আল দাওসারির চিরচেনা অভিজ্ঞতা- এসব নিয়েই তাদের স্বপ্ন।
তবে শঙ্কা আরও বড়। ইউরোপীয় মাপের ফিজিক্যাল ফুটবলে সৌদি আরবের ডিফেন্ডাররা পিছিয়ে পড়েন। আকাশি লড়াইয়ে দুর্বলতা, সেটপিসে গোল হজমের ভয়, আর গোলরক্ষকদের ম্যাচ ফিটনেসের অভাব- এগুলো দনিসের ভাবনায় বড় প্রতিবন্ধকতা। অনেক খেলোয়াড় ক্লাব ফুটবলে বেঞ্চে বসার কারণে ছন্দহীন।
আর একটি বড় সমস্যা–প্রস্তুতির স্বল্প সময়। দনিসের ডিএনএ বোঝার মাত্র দুই মাস পাবেন ফ্যালকনরা। অন্যদিকে স্পেন আর উরুগুয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় তরতাজা।
উদ্বোধনী প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে। বিয়েলসার আক্রমণাত্মক প্রেসিং হবে দনিসের বাঙ্কারের জন্য কঠিন পরীক্ষা। ফেদে ভালভার্দের অক্লান্ত দৌড় আর ডারউইন নুনেজের ধারালো অ্যাটাক। সৌদি আরবের খেলা হবে ধৈর্যের।
দ্বিতীয় ম্যাচ স্পেনের বিপক্ষে। সৌদি আরবকে নামতে হবে কৌশলের পরীক্ষায়। বল ছেড়ে দিয়ে ব্লক তৈরি, আর দাওসারি-ব্রিকানদের বিদ্যুতের গতি- যে প্ল্যান একদিন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ভাঙিয়েছিল।
সবশেষে কেপ ভার্দে। সৌদি আরবের জন্য খোলা সুযোগ। আফ্রিকান দল ফিজিক্যালি শক্তিশালী, কিন্তু কৌশলে দুর্বল। এখানে আক্রমণের পূর্ণশক্তি নিয়ে মাঠে নামতে হবে। গোল পার্থক্য বাড়াতে হবে, ওয়াইল্ডকার্ডের আশায়।
গ্রুপ এইচ-এ সৌদি আরবের সম্ভাবনা উজ্জ্বল নয়, কিন্তু অন্ধকারও নয়। দনিসের দর্শন কাজ করলে গ্রুপে তৃতীয় হতে পারে তারা। তাতে ওয়াইল্ডকার্ডের পথ খোলা থাকবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে ফাইনাল অবস্থান: গ্রুপ পর্বে শেষ হয়নি স্বপ্ন। তবে স্পেন-উরুগুয়ের ধাক্কায় টিকে থাকা কঠিন। তবু ফ্যালকনরা শিখেছে, লড়াইয়ের শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত সব কিছু সম্ভব। আর বিশ্বকাপে সম্ভাবনার শেষ নেই।

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
মেক্সিকোর মাঠে যখন বিশ্বকাপের পতাকা ওড়ে, তখন গ্রিন ফ্যালকনসের ডানা ভাঙার আশঙ্কাও সমান। স্পেন আর উরুগুয়ের গ্রুপে পড়ে সৌদি আরবের সামনে এখন বাস্তবের কঠিন পাঠ। লক্ষ্য কঠিন নয়, কিন্তু অর্জন করাও সহজ নয়- গ্রুপে তৃতীয় হয়ে রাউন্ড অব ৩২-এ ওঠা।
হার্ভে রেনার্ডের যাদুতে কাতারে আর্জেন্টিনাকে হারানো সেই অলৌকিক জয়ের পর এই সৌদি আরবকে যেন কেড়ে নিয়েছে মানসিক অবসাদ। এশিয়ান বাছাইয়ে জাপান-অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পায়ে পায়ে লড়তে গিয়ে হারিয়ে ফেলেছে নিজেদের খেলার ছন্দ। আক্রমণভাগে অস্থিরতা, বিদেশি তারা খেলোয়াড়েদের বেঞ্চে বসে থাকা- এসব একাকার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাছাইপর্বের চতুর্থ রাউন্ডের সেই চাপের ম্যাচে ইন্দোনেশিয়াকে ৩-২ হারিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে সৌদি আরব। সেটাই যেন তাদের আত্মবিশ্বাসের সন্ধান দেয়। এই অলৌকিক ঘটনার রুপকার জর্জিওস দনিস।
সৌদি ফুটবলের ভিতর-বাইরের খবর যিনি ভালোই জানেন। আর দলকে তিনি দিয়েছেন বাস্তবতার পাঠ- ‘বল দখলের প্রয়োজন নেই, জায়গা দখল আর পাল্টা আক্রমণই যথেষ্ট’। চার বছর আগের মোহ ভুলে দনিস বানিয়েছেন বাঙ্কার শক্ত দেয়াল। ৫-৪-১ অথবা ৪-২-৩-১; গভীর রক্ষণ, সংকুচিত মাঝমাঠ আর বিদ্যুৎগতির পাল্টা হানা।
সৌদি আরবের মূল শক্তি তাদের খেলোয়াড়দের দলীয় সংহতি। আল হিলাল, আল নাসের, আল আহলি- একই ঘরানার দলের প্রায় ৯০ ভাগ খেলোয়াড় দিনের পর দিন একসঙ্গে খেলছেন। মুসাব আল জুয়াইরের পাসিং জাদু, সৌদ আব্দুলহামিদের ডানপ্রান্তের গতি, আর সালেম আল দাওসারির চিরচেনা অভিজ্ঞতা- এসব নিয়েই তাদের স্বপ্ন।
তবে শঙ্কা আরও বড়। ইউরোপীয় মাপের ফিজিক্যাল ফুটবলে সৌদি আরবের ডিফেন্ডাররা পিছিয়ে পড়েন। আকাশি লড়াইয়ে দুর্বলতা, সেটপিসে গোল হজমের ভয়, আর গোলরক্ষকদের ম্যাচ ফিটনেসের অভাব- এগুলো দনিসের ভাবনায় বড় প্রতিবন্ধকতা। অনেক খেলোয়াড় ক্লাব ফুটবলে বেঞ্চে বসার কারণে ছন্দহীন।
আর একটি বড় সমস্যা–প্রস্তুতির স্বল্প সময়। দনিসের ডিএনএ বোঝার মাত্র দুই মাস পাবেন ফ্যালকনরা। অন্যদিকে স্পেন আর উরুগুয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় তরতাজা।
উদ্বোধনী প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে। বিয়েলসার আক্রমণাত্মক প্রেসিং হবে দনিসের বাঙ্কারের জন্য কঠিন পরীক্ষা। ফেদে ভালভার্দের অক্লান্ত দৌড় আর ডারউইন নুনেজের ধারালো অ্যাটাক। সৌদি আরবের খেলা হবে ধৈর্যের।
দ্বিতীয় ম্যাচ স্পেনের বিপক্ষে। সৌদি আরবকে নামতে হবে কৌশলের পরীক্ষায়। বল ছেড়ে দিয়ে ব্লক তৈরি, আর দাওসারি-ব্রিকানদের বিদ্যুতের গতি- যে প্ল্যান একদিন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ভাঙিয়েছিল।
সবশেষে কেপ ভার্দে। সৌদি আরবের জন্য খোলা সুযোগ। আফ্রিকান দল ফিজিক্যালি শক্তিশালী, কিন্তু কৌশলে দুর্বল। এখানে আক্রমণের পূর্ণশক্তি নিয়ে মাঠে নামতে হবে। গোল পার্থক্য বাড়াতে হবে, ওয়াইল্ডকার্ডের আশায়।
গ্রুপ এইচ-এ সৌদি আরবের সম্ভাবনা উজ্জ্বল নয়, কিন্তু অন্ধকারও নয়। দনিসের দর্শন কাজ করলে গ্রুপে তৃতীয় হতে পারে তারা। তাতে ওয়াইল্ডকার্ডের পথ খোলা থাকবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে ফাইনাল অবস্থান: গ্রুপ পর্বে শেষ হয়নি স্বপ্ন। তবে স্পেন-উরুগুয়ের ধাক্কায় টিকে থাকা কঠিন। তবু ফ্যালকনরা শিখেছে, লড়াইয়ের শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত সব কিছু সম্ভব। আর বিশ্বকাপে সম্ভাবনার শেষ নেই।

আপনার মতামত লিখুন