সংবাদ

২২ স্টেশনের বেশির ভাগই বন্ধ, চাহিদার অর্ধেক জ্বালানি পাচ্ছে রংপুর


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম

২২ স্টেশনের বেশির ভাগই বন্ধ, চাহিদার অর্ধেক জ্বালানি পাচ্ছে রংপুর
ছবি : সংবাদ

রংপুর বিভাগীয় শহরের ২২টি ফিলিং স্টেশনের প্রায় সবগুলোই জ্বালানি সংকটে বন্ধ হয়ে আছে। মাত্র তিনটি স্টেশনে তেল দেওয়া হবে—এমন ঘোষণায় রোববার (২৬ এপ্রিল) ভোর থেকে সেখানে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কখন তেল পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারছেন না পাম্পের কর্মীরা। এতে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকেরা।

সরেজমিন নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ধাপে অবস্থিত ‘সিটি ফিলিং স্টেশনে’র সামনে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ লাইন। সেখানে অপেক্ষমাণ মোটরসাইকেল চালকেরা জানান, ফজরের আজানের পরপরই তারা লাইনে দাঁড়িয়েছেন। সকাল ৯টা নাগাদ সেই লাইন প্রায় এক কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। পাম্প চত্বরে দুটি তেলের ট্যাংকলরি দেখা গেলেও সরবরাহ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

পীরগঞ্জ উপজেলায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রহমান বলেন, ‘ভোর ৬টায় সিটি ফিলিং স্টেশনে এসেছি। কয়েকটা পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। ভেবেছিলাম ৯টার মধ্যে তেল নিয়ে অফিসে যাব, কিন্তু এখন দুপুর না বিকেলকখন পাব তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।’

একই ভোগান্তির কথা জানান পীরগাছার একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত সাহেব উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন ২০ কিলোমিটার দূরে পীরগাছায় যেতে হয়। এখন রেশনিং পদ্ধতিতে মাত্র ৫ লিটার করে তেল দেওয়া হচ্ছে। সরকার বলছে পর্যাপ্ত তেল আছে, তাহলে এই হয়রানি কেন?’

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরও ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় অর্ধেক তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ফিলিং স্টেশনের মালিকেরা। অনেক স্টেশনে দুই-তিন দিন পর পর তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

নর্দান ফিলিং স্টেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক রিপন বলেন, ‘এখনও রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিদিন ৬ হাজার লিটারের চাহিদার বিপরীতে আমরা পাচ্ছি মাত্র ৩ হাজার লিটার। সব স্টেশনে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না করলে এই সংকট ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে না।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


২২ স্টেশনের বেশির ভাগই বন্ধ, চাহিদার অর্ধেক জ্বালানি পাচ্ছে রংপুর

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রংপুর বিভাগীয় শহরের ২২টি ফিলিং স্টেশনের প্রায় সবগুলোই জ্বালানি সংকটে বন্ধ হয়ে আছে। মাত্র তিনটি স্টেশনে তেল দেওয়া হবে—এমন ঘোষণায় রোববার (২৬ এপ্রিল) ভোর থেকে সেখানে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কখন তেল পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারছেন না পাম্পের কর্মীরা। এতে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকেরা।

সরেজমিন নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ধাপে অবস্থিত ‘সিটি ফিলিং স্টেশনে’র সামনে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ লাইন। সেখানে অপেক্ষমাণ মোটরসাইকেল চালকেরা জানান, ফজরের আজানের পরপরই তারা লাইনে দাঁড়িয়েছেন। সকাল ৯টা নাগাদ সেই লাইন প্রায় এক কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। পাম্প চত্বরে দুটি তেলের ট্যাংকলরি দেখা গেলেও সরবরাহ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

পীরগঞ্জ উপজেলায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রহমান বলেন, ‘ভোর ৬টায় সিটি ফিলিং স্টেশনে এসেছি। কয়েকটা পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। ভেবেছিলাম ৯টার মধ্যে তেল নিয়ে অফিসে যাব, কিন্তু এখন দুপুর না বিকেলকখন পাব তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।’

একই ভোগান্তির কথা জানান পীরগাছার একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত সাহেব উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন ২০ কিলোমিটার দূরে পীরগাছায় যেতে হয়। এখন রেশনিং পদ্ধতিতে মাত্র ৫ লিটার করে তেল দেওয়া হচ্ছে। সরকার বলছে পর্যাপ্ত তেল আছে, তাহলে এই হয়রানি কেন?’

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরও ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় অর্ধেক তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ফিলিং স্টেশনের মালিকেরা। অনেক স্টেশনে দুই-তিন দিন পর পর তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

নর্দান ফিলিং স্টেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক রিপন বলেন, ‘এখনও রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিদিন ৬ হাজার লিটারের চাহিদার বিপরীতে আমরা পাচ্ছি মাত্র ৩ হাজার লিটার। সব স্টেশনে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না করলে এই সংকট ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে না।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত