সংবাদ

লোডশেডিংয়ে ভরসা তালপাতার পাখা


প্রতিনিধি, মহেশপুর (ঝিনাইদহ)
প্রতিনিধি, মহেশপুর (ঝিনাইদহ)
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম

লোডশেডিংয়ে ভরসা তালপাতার পাখা

তীব্র গরম আর ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার জনজীবন। এই হাঁসফাঁস অবস্থায় সাধারণ মানুষের কাছে স্বস্তির শেষ ঠিকানা হয়ে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী তালপাতার হাতপাখা। উপজেলার ঘরে ঘরে এখন আবার শোনা যাচ্ছে হাতপাখার সেই চিরচেনা শব্দ।

উপজেলার নাস্তি এলাকার শাকিব মোড়ের পাখা প্রস্তুতকারক শ্রী বিকাশ বলেন, ‘এবার শুধু গরম না, বিদ্যুতের যন্ত্রণায় মানুষ আবার পাখার দিকেই ফিরছে। সকাল থেকে পাখা তৈরি করি, বিকেলের মধ্যেই সব বিক্রি হয়ে যায়।’ তার কথায় স্পষ্ট, আধুনিকতার এই সময়েও চরম প্রয়োজনে পুরোনো ঐতিহ্যের গুরুত্ব কমেনি।

উপজেলার সস্তার বাজার, ভৈরবা বাজার, সামন্তা বাজার, জিন্দানগর বাজার, খালিশপুর বাজার ও পুড়াপাড়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, তালপাতা, বাঁশ আর রঙিন কাপড়ে তৈরি নানা ধরনের হাতপাখা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। কোথাও ছোট, কোথাও বড়; আবার কোথাও রঙের ছোঁয়ায় নান্দনিক সব পাখা। এসব দোকানে ক্রেতাদের ভিড় দেখে মনে হয় যেন কোনো গ্রামীণ মেলা বসেছে।

গোপালপুর গ্রামের ক্রেতা বদরুজ্জামান বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকলে ঘরে থাকা দায়। তাই একটি নয়, পরিবারের জন্য কয়েকটি পাখা কিনলাম।’ ফতেপুর বেড়ের মাঠ এলাকার মো. শাহীন বলেন, ‘গরমে বাচ্চা ও বয়স্করা বেশি কষ্ট পায়। তাই পাখা ছাড়া এখন আর কোনো উপায় নেই।’

গত ২৫ বছর ধরে পাখা বিক্রি করছেন শ্রী শৈলেন দাস। তিনি জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর হাতপাখার চাহিদা অনেক বেশি। তার মতে, মানুষ আবার আগের মতো হাতপাখার গুরুত্ব বুঝতে পারছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিদ্যুতের অনিশ্চয়তায় নিম্নআয়ের মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ পরিবার-সবার কাছেই এখন সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য সমাধান হিসেবে হাতপাখা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আধুনিকতার কোলাহলের মাঝেও মহেশপুরে এই নীরব সঙ্গীটি আবার তার আপন জায়গা ফিরে পেয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


লোডশেডিংয়ে ভরসা তালপাতার পাখা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

তীব্র গরম আর ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার জনজীবন। এই হাঁসফাঁস অবস্থায় সাধারণ মানুষের কাছে স্বস্তির শেষ ঠিকানা হয়ে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী তালপাতার হাতপাখা। উপজেলার ঘরে ঘরে এখন আবার শোনা যাচ্ছে হাতপাখার সেই চিরচেনা শব্দ।

উপজেলার নাস্তি এলাকার শাকিব মোড়ের পাখা প্রস্তুতকারক শ্রী বিকাশ বলেন, ‘এবার শুধু গরম না, বিদ্যুতের যন্ত্রণায় মানুষ আবার পাখার দিকেই ফিরছে। সকাল থেকে পাখা তৈরি করি, বিকেলের মধ্যেই সব বিক্রি হয়ে যায়।’ তার কথায় স্পষ্ট, আধুনিকতার এই সময়েও চরম প্রয়োজনে পুরোনো ঐতিহ্যের গুরুত্ব কমেনি।

উপজেলার সস্তার বাজার, ভৈরবা বাজার, সামন্তা বাজার, জিন্দানগর বাজার, খালিশপুর বাজার ও পুড়াপাড়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, তালপাতা, বাঁশ আর রঙিন কাপড়ে তৈরি নানা ধরনের হাতপাখা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। কোথাও ছোট, কোথাও বড়; আবার কোথাও রঙের ছোঁয়ায় নান্দনিক সব পাখা। এসব দোকানে ক্রেতাদের ভিড় দেখে মনে হয় যেন কোনো গ্রামীণ মেলা বসেছে।

গোপালপুর গ্রামের ক্রেতা বদরুজ্জামান বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকলে ঘরে থাকা দায়। তাই একটি নয়, পরিবারের জন্য কয়েকটি পাখা কিনলাম।’ ফতেপুর বেড়ের মাঠ এলাকার মো. শাহীন বলেন, ‘গরমে বাচ্চা ও বয়স্করা বেশি কষ্ট পায়। তাই পাখা ছাড়া এখন আর কোনো উপায় নেই।’

গত ২৫ বছর ধরে পাখা বিক্রি করছেন শ্রী শৈলেন দাস। তিনি জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর হাতপাখার চাহিদা অনেক বেশি। তার মতে, মানুষ আবার আগের মতো হাতপাখার গুরুত্ব বুঝতে পারছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিদ্যুতের অনিশ্চয়তায় নিম্নআয়ের মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ পরিবার-সবার কাছেই এখন সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য সমাধান হিসেবে হাতপাখা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আধুনিকতার কোলাহলের মাঝেও মহেশপুরে এই নীরব সঙ্গীটি আবার তার আপন জায়গা ফিরে পেয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত