সংবাদ

বড় ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ

ঘর থেকে ছেলের, রেললাইন থেকে বাবার মরদেহ উদ্ধার


জেলা বার্তা পরিবেশক, গাজীপুর
জেলা বার্তা পরিবেশক, গাজীপুর
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২০ পিএম

ঘর থেকে ছেলের, রেললাইন থেকে বাবার মরদেহ উদ্ধার
ছবি : সংবাদ

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে বাবা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) ভোরে টঙ্গীর উত্তর বনমালা এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ছেলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ ঘরের ভেতর পাওয়া গেলেও বাবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে পার্শ্ববর্তী রেললাইন থেকে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের বড় ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত সোহেল রানা (৪৮) উত্তর বনমালা গ্রামের মোস্তফা দর্জির ছেলে। তার ছেলে সাকিবুর রহমান শোয়েব (১৭) ঢাকার উত্তরার আনোয়ারা মডেল ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল। আটক সাইফুর রহমান (২৭) সোহেল রানার বড় ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহেল রানা তার দুই ছেলে সাকিবুর ও সাইফুরকে নিয়ে একই কক্ষে ঘুমিয়েছিলেন। ভোরে প্রতিবেশীরা ওই ঘর থেকে চিৎকার শুনে বেরিয়ে আসেন। পরে কক্ষের ভেতরে সাকিবের মরদেহ ও পাশের রেললাইনে বাবা সোহেল রানার মরদেহ পাওয়া যায়। সাকিবের মরদেহের বিভিন্ন অংশ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাটা ছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সোহেল রানা দীর্ঘ দিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদক সেবন ও পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে পরিবারের ভেতরে কলহ চলছিল। ঘটনার রাতে সোহেল রানা তার দুই ছেলের সঙ্গে একই কক্ষে ছিলেন।

পুলিশ জানায়, সাকিবের মাথায় গভীর জখম ছাড়াও তার ডান হাতের কবজি ও বাম পায়ের গোড়ালির ওপরের অংশ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কাটা হয়েছে। এ ধরনের জখম সাধারণত কোনো পেশাদার অপরাধী বা ঠান্ডা মাথার পরিকল্পনাকারীর কাজ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এটি কেবল পারিবারিক কলহ নাকি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সাকিবের মরদেহ উদ্ধারের পর নিকটস্থ রেললাইন থেকে সোহেল রানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এটি অনুশোচনা থেকে আত্মহত্যা নাকি হত্যার পর মরদেহ রেললাইনে ফেলে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। এ ছাড়া বড় ছেলে সাইফুর রহমান একই কক্ষে থাকা সত্ত্বেও কেন অক্ষত ছিলেন এবং তার বক্তব্যে কেন অসংগতি পাওয়া যাচ্ছে, সে বিষয়টিও নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) অপরাধ (দক্ষিণ) বিভাগের উপকমিশনার মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাবা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাইফুর রহমানকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


ঘর থেকে ছেলের, রেললাইন থেকে বাবার মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে বাবা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) ভোরে টঙ্গীর উত্তর বনমালা এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ছেলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ ঘরের ভেতর পাওয়া গেলেও বাবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে পার্শ্ববর্তী রেললাইন থেকে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের বড় ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত সোহেল রানা (৪৮) উত্তর বনমালা গ্রামের মোস্তফা দর্জির ছেলে। তার ছেলে সাকিবুর রহমান শোয়েব (১৭) ঢাকার উত্তরার আনোয়ারা মডেল ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল। আটক সাইফুর রহমান (২৭) সোহেল রানার বড় ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহেল রানা তার দুই ছেলে সাকিবুর ও সাইফুরকে নিয়ে একই কক্ষে ঘুমিয়েছিলেন। ভোরে প্রতিবেশীরা ওই ঘর থেকে চিৎকার শুনে বেরিয়ে আসেন। পরে কক্ষের ভেতরে সাকিবের মরদেহ ও পাশের রেললাইনে বাবা সোহেল রানার মরদেহ পাওয়া যায়। সাকিবের মরদেহের বিভিন্ন অংশ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাটা ছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সোহেল রানা দীর্ঘ দিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদক সেবন ও পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে পরিবারের ভেতরে কলহ চলছিল। ঘটনার রাতে সোহেল রানা তার দুই ছেলের সঙ্গে একই কক্ষে ছিলেন।

পুলিশ জানায়, সাকিবের মাথায় গভীর জখম ছাড়াও তার ডান হাতের কবজি ও বাম পায়ের গোড়ালির ওপরের অংশ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কাটা হয়েছে। এ ধরনের জখম সাধারণত কোনো পেশাদার অপরাধী বা ঠান্ডা মাথার পরিকল্পনাকারীর কাজ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এটি কেবল পারিবারিক কলহ নাকি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সাকিবের মরদেহ উদ্ধারের পর নিকটস্থ রেললাইন থেকে সোহেল রানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এটি অনুশোচনা থেকে আত্মহত্যা নাকি হত্যার পর মরদেহ রেললাইনে ফেলে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। এ ছাড়া বড় ছেলে সাইফুর রহমান একই কক্ষে থাকা সত্ত্বেও কেন অক্ষত ছিলেন এবং তার বক্তব্যে কেন অসংগতি পাওয়া যাচ্ছে, সে বিষয়টিও নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) অপরাধ (দক্ষিণ) বিভাগের উপকমিশনার মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাবা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাইফুর রহমানকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত