মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে (১৬) ধর্ষণের ঘটনা গোপন সালিশের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলার কলমা লক্ষ্মীকান্ত উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা কলেজ সড়কে এই কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধন থেকে অভিযুক্ত ধর্ষক আল মামুন ফরাজির (৫০) সর্বোচ্চ শাস্তি এবং বিচার বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টাকারী স্থানীয় ইউপি সদস্য মহিউদ্দিন দোকানদার ওরফে হিরণকে পদ থেকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। এর আগে গত শুক্রবার একই দাবিতে কলমা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার বাশিরা গ্রামে ওই কিশোরীকে টাকার লোভ দেখিয়ে একটি ভুট্টাখেতে নিয়ে ধর্ষণ করেন আল মামুন ফরাজি। স্থানীয় লোকজন কিশোরীকে উদ্ধার করে পাশের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ সময় অভিযুক্ত মামুন পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কলমা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিরণ দোকানদার কিশোরীর বাবাকে নিজ বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে মামুন ফরাজির পক্ষ নিয়ে একটি গোপন সালিশ বসানো হয়। সালিশে ভুক্তভোগীর বাবাকে ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি এতে রাজি না হলে তাকে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন সালিশকারীরা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় গত বুধবার রাতে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে লৌহজং থানায় মামলা করেন। পরদিন বৃহস্পতিবার পুলিশ অভিযুক্ত আল মামুন ফরাজিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়।
লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ যারা টাকার বিনিময়ে রফাদফা করতে চায়, তারা সমাজের শত্রু। ধর্ষকের ফাঁসির পাশাপাশি বিতর্কিত ওই ইউপি সদস্যকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।
আপনার মতামত লিখুন