সংবাদ

সেচ দিতে পারছেন না কৃষক, ফেটে চৌচির পরশুরামের ফসলি জমি


প্রতিনিধি, ফেনী
প্রতিনিধি, ফেনী
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম

সেচ দিতে পারছেন না কৃষক, ফেটে চৌচির পরশুরামের ফসলি জমি

ফেনীর পরশুরামে তীব্র লোডশেডিং আর নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন ইরি-বোরো চাষিরা। বোরো মৌসুমের শেষ সময়ে এসে সেচসংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তীব্র তাপদাহ আর সেচের অভাবে অনেক জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে।

চাষিরা বলছেন, আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে ধান পেকে যাওয়ার কথা। এই সময়ে ধানের শীষ সুস্থভাবে বের হওয়া ও পুষ্ট হওয়ার জন্য জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকা অপরিহার্য। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় সেচপাম্পগুলো চালানো যাচ্ছে না।

পৌর এলাকার বাউর পাথর গ্রামের চাষি রিমন বলেন, ‘এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ৪০০ শতাংশ জমিতে বোরো চাষ করেছি। অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখন শেষ সময়ে পানি দিতে পারছি না। কিস্তি কীভাবে দেব, আল্লাহ জানেন।’

মির্জানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ কাউতলী গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক জানান, সময়মতো পানি দিতে না পারলে ধান ‘চিটা’ (শস্যহীন) হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই আশঙ্কার কথা জানান সলিয়া গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন ও মো. ইউনুস মিয়া।

তারা বলেন, সার ও শ্রমের পেছনে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করার পর বিদ্যুতের এমন ‘লুকোচুরিতে’ তারা এখন দিশেহারা।

সেচপাম্পের মালিক মো. ফারুক জানান, কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী পানি দিতে দিনে অন্তত ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে দিনে এক ঘণ্টাও ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।

শুধু কৃষি নয়, বিদ্যুতের এই সংকটে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

মধ্যম ধনিকুণ্ডা এলাকার ব্যবসায়ী রুবেল বলেন, শহরে ৫-৬ ঘণ্টা লোডশেডিং হলেও গ্রামে ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে পোলট্রি, মৎস্য ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।

পরশুরাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ সংকটে সেচকাজ ব্যাহত হচ্ছে। যদি একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়, তবে সেচপাম্পগুলো সচল রাখা সম্ভব হবে এবং ফসলের ক্ষতি রোধ করা যাবে।

সার্বিক বিষয়ে পরশুরাম পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মু. সুহেল আক্তার বলেন, ‘আমি যতটুকু বরাদ্দ পাই, ততটুকুই গ্রাহকদের দিই। আমার বরাদ্দ বাড়ানোর ক্ষমতা নেই।’ তবে তিনি বরাদ্দ অনুযায়ী সুষম বণ্টনের চেষ্টা করছেন বলে জানান।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


সেচ দিতে পারছেন না কৃষক, ফেটে চৌচির পরশুরামের ফসলি জমি

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ফেনীর পরশুরামে তীব্র লোডশেডিং আর নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন ইরি-বোরো চাষিরা। বোরো মৌসুমের শেষ সময়ে এসে সেচসংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তীব্র তাপদাহ আর সেচের অভাবে অনেক জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে।

চাষিরা বলছেন, আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে ধান পেকে যাওয়ার কথা। এই সময়ে ধানের শীষ সুস্থভাবে বের হওয়া ও পুষ্ট হওয়ার জন্য জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকা অপরিহার্য। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় সেচপাম্পগুলো চালানো যাচ্ছে না।

পৌর এলাকার বাউর পাথর গ্রামের চাষি রিমন বলেন, ‘এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ৪০০ শতাংশ জমিতে বোরো চাষ করেছি। অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখন শেষ সময়ে পানি দিতে পারছি না। কিস্তি কীভাবে দেব, আল্লাহ জানেন।’

মির্জানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ কাউতলী গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক জানান, সময়মতো পানি দিতে না পারলে ধান ‘চিটা’ (শস্যহীন) হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই আশঙ্কার কথা জানান সলিয়া গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন ও মো. ইউনুস মিয়া।

তারা বলেন, সার ও শ্রমের পেছনে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করার পর বিদ্যুতের এমন ‘লুকোচুরিতে’ তারা এখন দিশেহারা।

সেচপাম্পের মালিক মো. ফারুক জানান, কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী পানি দিতে দিনে অন্তত ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে দিনে এক ঘণ্টাও ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।

শুধু কৃষি নয়, বিদ্যুতের এই সংকটে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

মধ্যম ধনিকুণ্ডা এলাকার ব্যবসায়ী রুবেল বলেন, শহরে ৫-৬ ঘণ্টা লোডশেডিং হলেও গ্রামে ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে পোলট্রি, মৎস্য ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।

পরশুরাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ সংকটে সেচকাজ ব্যাহত হচ্ছে। যদি একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়, তবে সেচপাম্পগুলো সচল রাখা সম্ভব হবে এবং ফসলের ক্ষতি রোধ করা যাবে।

সার্বিক বিষয়ে পরশুরাম পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মু. সুহেল আক্তার বলেন, ‘আমি যতটুকু বরাদ্দ পাই, ততটুকুই গ্রাহকদের দিই। আমার বরাদ্দ বাড়ানোর ক্ষমতা নেই।’ তবে তিনি বরাদ্দ অনুযায়ী সুষম বণ্টনের চেষ্টা করছেন বলে জানান।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত