সংবাদ

সাংবাদিক আশরাফুলের মুক্তি ও শৈলকুপার ওসির অপসারণ দাবি


প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ
প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম

সাংবাদিক আশরাফুলের মুক্তি ও শৈলকুপার ওসির অপসারণ দাবি
ঝিনাইদহ শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে সোমবার সাংবাদিক আশরাফুল ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি ও শৈলকুপা থানার ওসির অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন করেন সংবাদকর্মীরা। ছবি : সংবাদ

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সাংবাদিক আশরাফুল ইসলামকে থানায় ডেকে নিয়ে ১৪ ঘণ্টা আটকে রাখার পর তারই দাদার হত্যা মামলায় আসামি করে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে ‘বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকবৃন্দের’ ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

সমাবেশ থেকে সাংবাদিক আশরাফুলের নিঃশর্ত মুক্তি এবং শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লার অবিলম্বে অপসারণ দাবি জানানো হয়েছে। কর্মসূচির শুরুতে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, শৈলকুপার ওসি ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। সাংবাদিক আশরাফুলের আপন চাচাতো দাদা মোহন শেখ গত ২৩ এপ্রিল সামাজিক বিরোধের জেরে খুন হন। অথচ যার দাদা খুন হলেন, তাকেই খুনি সাজিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এটি শুধু নজিরবিহীন নয়, বরং বিচারব্যবস্থার জন্য লজ্জাজনক। এজাহারে নাম না থাকার পরও ওসির ‘খামখেয়ালিপনায়’ একজন সংবাদকর্মীকে কারাবন্দী হতে হয়েছে। ওসির অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা দেন সাংবাদিক নেতারা।

উল্লেখ্য, গত শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার গাড়াগঞ্জ এলাকা থেকে সাংবাদিক আশরাফুলকে থানায় ডেকে নিয়ে যায় পুলিশ। পরিবারের দাবি, ১৪ ঘণ্টা কোনো কারণ ছাড়াই থানায় আটকে রাখার পর রোববার দুপুরে তাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

নিহত মোহন শেখের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল সকালে সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে মোহন শেখ (৬০) নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে ৪২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। নিহত ব্যক্তি সাংবাদিক আশরাফুলের আপন চাচাতো দাদা।

সাংবাদিক আশরাফুলের স্ত্রী শান্তা খাতুন বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের নির্লিপ্ততা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে ওসির আক্রোশের শিকার হয়েছেন আমার স্বামী। আমি তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।’

সমাবেশে বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক দেলোয়ার কবির, জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এম এ কবির, শৈলকুপা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিহাব মল্লিক, ঝিনাইদহ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমনসহ অনেকে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


সাংবাদিক আশরাফুলের মুক্তি ও শৈলকুপার ওসির অপসারণ দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সাংবাদিক আশরাফুল ইসলামকে থানায় ডেকে নিয়ে ১৪ ঘণ্টা আটকে রাখার পর তারই দাদার হত্যা মামলায় আসামি করে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে ‘বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকবৃন্দের’ ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

সমাবেশ থেকে সাংবাদিক আশরাফুলের নিঃশর্ত মুক্তি এবং শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লার অবিলম্বে অপসারণ দাবি জানানো হয়েছে। কর্মসূচির শুরুতে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, শৈলকুপার ওসি ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। সাংবাদিক আশরাফুলের আপন চাচাতো দাদা মোহন শেখ গত ২৩ এপ্রিল সামাজিক বিরোধের জেরে খুন হন। অথচ যার দাদা খুন হলেন, তাকেই খুনি সাজিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এটি শুধু নজিরবিহীন নয়, বরং বিচারব্যবস্থার জন্য লজ্জাজনক। এজাহারে নাম না থাকার পরও ওসির ‘খামখেয়ালিপনায়’ একজন সংবাদকর্মীকে কারাবন্দী হতে হয়েছে। ওসির অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা দেন সাংবাদিক নেতারা।

উল্লেখ্য, গত শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার গাড়াগঞ্জ এলাকা থেকে সাংবাদিক আশরাফুলকে থানায় ডেকে নিয়ে যায় পুলিশ। পরিবারের দাবি, ১৪ ঘণ্টা কোনো কারণ ছাড়াই থানায় আটকে রাখার পর রোববার দুপুরে তাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

নিহত মোহন শেখের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল সকালে সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে মোহন শেখ (৬০) নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে ৪২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। নিহত ব্যক্তি সাংবাদিক আশরাফুলের আপন চাচাতো দাদা।

সাংবাদিক আশরাফুলের স্ত্রী শান্তা খাতুন বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের নির্লিপ্ততা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে ওসির আক্রোশের শিকার হয়েছেন আমার স্বামী। আমি তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।’

সমাবেশে বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক দেলোয়ার কবির, জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এম এ কবির, শৈলকুপা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিহাব মল্লিক, ঝিনাইদহ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমনসহ অনেকে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত